মোহাম্মদ আলী দ্য গ্রেট

প্রকাশের সময় : 2020-03-11 11:05:53 | প্রকাশক : Administration মোহাম্মদ আলী দ্য গ্রেট

সিমেক ডেস্কঃ মৃত্যু নামক অমোঘ নিয়তির কাছে নক আউট হয়ে গেলেন কিংবদন্তী বক্সার মোহাম্মদ আলী। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর। প্রবল শ্বাসকষ্ট নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আরিজোনার একটি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন তিনি। অবস্থার অবনতি ঘটলে আর ফেরানো সম্ভব হয়নি। চলে যান না ফেরার দেশে। পরিবার পরিজনদের উপস্থিতিতে হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন বিশ্ব হেভিওয়েট চ্যাম্পিয়ন, বিশ্বনন্দিত বক্সার মোহাম্মদ আলী।

বক্সিং রিংয়ের মধ্যে রাজকীয় হাঁটাচলা, প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার কায়দা দেখে সকলে বলতেন, ‘প্রজাপতির মতো উড়ে বেড়ায় আর মৌমাছির মতো হুল ফুটায়’। তিনি নিজেও বলতেন, আই এম দ্য গ্রেটেস্ট, কিং অব দ্য ওয়ার্ল্ড। সেই সিংহাসন খালি করে গেলেন বক্সিং রিংয়ের রাজা মোহাম্মদ আলী। মৃত্যুর আগে প্রায় তিন দশক ধরে তিনি পার্কিনসন ডিজিজ- এ ভুগছিলেন। এই রোগের সঙ্গে চলছিল তার হার না মানা লড়াই। অসুস্থ অবস্থায় অতীতে অনেকবারই মৃত্যুকে মুষ্ঠিযুদ্ধে কাবু করে ফিরে এসেছিলেন জীবনের আঙিনায়। কিন্তু এবার আর পারলেন না অদম্য সাহসী কিংবদন্তী বক্সার মোহাম্মদ আলী।

জন্মসূত্রে তার নাম ছিল ক্যাসিয়াস ক্লে। পরবর্তীতে ধর্মান্তরিত হয়ে নাম রাখেন মোহাম্মদ আলী। মাত্র ২২ বছর বয়সে প্রথমবারের মতো হেভিওয়েট বক্সিংয়ের বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপ জেতেন তিনি। এরপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি বক্সিংয়ের এই রাজাকে। ১৯৬৭ সালে ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় আলীকে আমেরিকার সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে বলা হয়েছিল মার্কিন সরকারের পক্ষ থেকে। কিন্তু আলী সেনাবাহিনীতে যোগ দেয়া দূরের কথা। প্রবল বিরোধিতা করেন তৎকালীন যুক্তরাষ্ট্র সরকারের ভিয়েতনাম নীতির। প্রকাশ্যে বলেন, আমার বিবেক আমাকে ভিয়েতনাম যুদ্ধে যোগ দেয়ার অনুমতি দিচ্ছে না। কেন মারতে যাব ওই গরিব দেশটির লোকদের। যারা আমাকে কোনদিন কৃষ্ণাঙ্গ বলে ঘৃণা করেনি, হৃদয় থেকে দূরে ঠেলে দেয়নি। ওরা আমার ভাই। আমি কোন চাপের মুখে তাদের মারতে যুদ্ধে যেতে রাজি নই।

এই সরকারী বিরোধিতার ফল হয় মারাত্মক। কেড়ে নেয়া হয় বক্সিং রিংয়ের অর্জিত সব পুরস্কার। পাশাপাশি জেলের অন্ধ কুঠুরিতে কাটাতে হয় তাকে জীবনের পাঁচটি মূল্যবান বছর। ১৯৭১ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রীমকোর্টের নির্দেশে ফিরে পান হারানো সম্মান। ফিরে পান বক্সিংয়ের লাইসেন্স। ভিয়েতনাম যুদ্ধে মার্কিন নীতির বিরোধিতা তাকে আরও জনপ্রিয় করে তুলে গোটা বিশ্বে। জেল থেকে বেরিয়ে সে বছরই মেডিসন স্কোয়ারে জো ফ্রেজিয়ারের কাছে প্রথমবার হারেন আলী। ১৯৭৪ সালে এই জো ফ্রেজিয়ারকে পরাজিত করে ছিনিয়ে নেন হারানো মুকুট ‘কিং আলী’। সেই ম্যাচটিকে বলা হয় শতাব্দীর সেরা লড়াই। টানা পনেরো রাউন্ড ধরে চলে দু’পক্ষের মুষ্ঠিযুদ্ধ। ২০০৫ সালে লাভ করেন যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ অসামরিক পুরস্কার প্রেসিডেন্সিয়াল মেডেল’।

আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম জানায়, দিন কয়েক যাবত শরীর ভাল যাচ্ছিল না মোহাম্মদ আলীর।

তার জন্মস্থান আমেরিকার কেন্টাকি প্রদেশের লুইভিল শহরে। তার পরিবার সূত্রের খবর, পার্কিনসনে আক্রান্ত আলী প্রবল শ্বাসকষ্টের সমস্যায় ভুগছিলেন। মৃত্যুর সময় তার শয্যার পাশেই ছিলেন পরিবারের সদস্যরা। খেলোয়াড়ী জীবনে নাকে, মুখে, কপালে এমনকি মাথায় প্রতিপক্ষের প্রচন্ড ঘুষি-মার খেতে হয়েছে লড়তে গিয়ে। এসব আঘাতজনিত কারণে তিনি আক্রান্ত হয়েছিলেন পার্কিনসন রোগে। গ্রেট আলীর মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে বিশ্বের ক্রীড়ামহলে।

১৯৪২ সালে জন্ম নেয়া আলী মাত্র ১২ বছর বয়স থেকেই বক্সিংয়ের প্রশিক্ষণ নিতে শুরু করেন। ১৯৬৪ সালে তৎকালীন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন সনি লিস্টনকে হারিয়ে মাত্র ২২ বছর বয়সে ওয়ার্ল্ড হেভিওয়েট চ্যাম্পিয়ন হন। এরপর ১৯৭৪ সালে তৎকালীন বিশ্বসেরা জর্জ ফোরম্যান ও পরবর্তীতে জো বাগনারকে হারিয়ে এবং ১৯৭৮ সালে কেন নর্টনকে নকআউট করে বিশ্বসেরার খেতাব জেতেন আলী। মূলত এরপরই তার নামের পাশে স্মরণকালের সেরা বক্সারের তকমা সেঁটে যায়। বক্সিং স্টেজে তার আক্রমণাত্মক আচরণের জন্যও জনপ্রিয় ছিলেন তিনি। ১৯৬০ থেকে ১৯৮০ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ সময়ে এবং পরবর্তীতে আলীর সমকক্ষ হয়ে উঠতে পারেননি কেউ। শুধু বিশ্বসেরা বক্সার হিসেবে নয়। সমাজকর্মী হিসেবেও নিজের পরিচিতি গড়ে তুলেছিলেন সর্বকালের সেরা এই বক্সার। প্রথম হেভিওয়েট চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর ১৯৭৫ সালে তিনি সুন্নী মতাদর্শে দীক্ষিত হন।

১৯৭১ সালেও মোহাম্মদ আলী মার্কিন নীতির বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে কথা বলেছিলেন বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার পক্ষে। ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশ সফর করেন বক্সিং রিংয়ের রাজা। তৎকালীন ঢাকা স্টেডিয়ামে আলীকে দেয়া গণসংবর্ধনায় ঢল নেমেছিল হাজারো মানুষের। সে সময় আলীর সফরসঙ্গী ছিলেন তার স্ত্রী ভ্যারোনিকা।

বাংলাদেশ সফরের পর তার নামানুসারে বর্তমান বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম সংলগ্ন স্থাপন করা হয় মোহাম্মদ আলী বক্সিং স্টেডিয়াম। সম্মান হিসেবে তৎকালীন সরকার নাগরিকত্ব দিয়েছিলেন মোহাম্মদ আলীকে। প্রদান করা হয়েছিল স্বাধীন বাংলাদেশের পাসপোর্ট। বিশ্ববাসীকে হাত তুলে দেখিয়েছিলেন বাংলাদেশের পাসপোর্ট।

আজ মোহাম্মদ আলী নেই। কিন্তু তার বক্সিং ক্যারিয়ার, ব্যক্তিত্ব, আদর্শ অমর হয়ে থাকবে চিরদিন। ইতিহাসে লেখা ‘মোহাম্মদ আলী দ্য গ্রেট’- মুছে যাবে না কোনদিন। অনেকে বলে থাকেন বক্সিং একটি নিষ্ঠুর খেলা। কিন্তু এই নির্মম ক্রীড়াকে শিল্পে রূপ দিয়েছিলেন সদ্যপ্রয়াত মোহাম্মদ আলী। জনপ্রিয় করে তুলেছিলেন ক্রীড়াবিশ্বে।

 

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ সরদার মোঃ শাহীন,
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ রফিকুল ইসলাম সুজন,
বার্তা সম্পাদকঃ ফোয়ারা ইয়াছমিন,
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ আবু মুসা,
সহঃ সম্পাদকঃ মোঃ শামছুজ্জামান

প্রকাশক কর্তৃক সিমেক ফাউন্ডেশন এর পক্ষে
বিএস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড,
ওয়ারী, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ হতে প্রকাশিত।

বানিজ্যিক অফিসঃ ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২,
উত্তরা, ঢাকা,
ফোন: ০১৯১২৫২২০১৭, ৮৮০-২-৭৯১২৯২১
Email: simecnews@gmail.com