শপথ বাণী

প্রকাশের সময় : 2019-04-11 17:01:57 | প্রকাশক : Administration

সোহেল রানাঃ “আমি শপথ করিতেছি যে, দেশ ও দশের সেবায় সর্বদা নিজেকে নিয়োজিত রাখিব”। অতিব তাৎপর্যময় এ বাক্যের ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ আমার মত নগণ্য নাদান কতটুকুই বা করতে পারবো। রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও সমাজ বিজ্ঞানের বিশ্লেষকগণ এসবে বিশেষ পারদর্শী সম্পন্ন। চারপাশের পারিপার্শ্বিকতা আমাকে উদ্বিগ্ন, উত্তপ্ত ও অস্থিরতায় ভোগিয়ে তুলেছে বিধায় মনের ফাঁপ কিংবা দ্রোহই বলবো তার একটু প্রকাশ।

অতি মাহিত্যময় এ বাণীর মর্মার্থ আমাদের হৃদয়ে ধারণ করিতে পারিনি বলেই, সমাজ ও রাষ্ট্র এহেন হীনতা- নীচুতায় ছেয়ে যাচ্ছে। এর প্রথম ও প্রধান শর্ত হলো- পবিত্র এ শপথ বাণী প্রথম জীবনে যাদের নিকট থেকে শোনা ও জানা হয়, তাদের বিবেক-বুদ্ধি ও বিবেচনায় শপথ বাক্যের প্রতিকার ও প্রতিফলন বিদ্ধমান থাকা চাই। কেননা তারা যদি নির্বোধ ও লোভী হয়- তবে তো পেশা বা কর্মের তাগীদে দায়িত্ব পালন করা টুকুই।

আমি আমার মেধা বা বিবেচনা থেকে যতটুকু পেয়েছি, আমরা যদি প্রাইমারী লেভেল হতে শিশু-কিশোরদের মন-মগজে শপথ বাক্যের সঠিক অর্থকে পৌঁছাতে সক্ষম হই- তবে স্বচ্ছ ও দেশপ্রেমিক নাগরিক বা জাতি গঠনের সর্বত ভূমিকা পালন করবে। আর এর জন্য চাই সৃজনশীল শিক্ষক। মানুষ গড়ার, জাতি গড়ার কারিগর যদি শিক্ষক হন- তবে শর্তও তো এখানেই। গুরু গুণে শিষ্য, ইমাম গুনে মুসল্লী আর শিক্ষক গুনে ছাত্র। শিক্ষক বহু বড় বিষয়, কঠিনও বটে। বড়-বড় সার্টিফিকেট বা ডিগ্রী নিলেই শিক্ষক হওয়া যায় না।

মানুষ গড়া, জাতি গড়া বলতে সেরা পয়েন্টে সব রেজাল্ট করা নয়, বড়-বড় আমলা বা কর্তাব্যক্তি বনে যাওয়া নয়, তাহলে কারিগর যদি যত্নশীল, নির্লোভমনা না হয়- ওরা আর মানুষ গড়বে কী? এক কথায় ত্যাগী, দেশপ্রেমী না হয়, তবে প্রজন্মকে শিক্ষা দেবে কী? প্রাইমারী স্কুল এর পর হাই স্কুল তার পর কলেজ ভার্সিটি শিক্ষাঙ্গনে শিক্ষকগণ যদি ছাত্র-ছাত্রীদের নিজ দায়িত্ব, কর্তব্য, পরোপকার, সেবা, দেশপ্রেম এসবে পর্যায় ক্রমে উদ্বুদ্ধ করে তুলেন, সমাজের অধগতি বহু অংশে রোধ হবে।

শিশুদের মনে-মগজে যা ঢুকানো যায়, তায় নাকি তাদের প্রভাবিত করে, কিন্তু এক্ষেত্রে তা ঘটছে না কেন? তার কারণ আমরা শিক্ষকরা এ বাণীর বার্তা, গ্রহণ যোগ্যতার মত করে তাদের অন্তরে ঠাঁয় করার মত পৌঁছে দিতে পারছি না। এর পেছনে যে কারণ তা হলো এর ক্রিয়া আমার মধ্যে নেই। উপরন্ত অর্থ-উপার্জনের লোভ, অলসতা, হেয়ালীপনা ইত্যাদিতে বিগড়ানো মস্তিস্ক। শিক্ষকগণ আদর্শ হউক, জাতি অমনিতেই আদর্শ হয়ে ওঠবে।

কেননা প্রধান মন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি, বিচারপতি, সেনা, নৌ, বিমান প্রধান, ডাক্তার, প্রফেসর, প্রকৌশলী, ঠিকাদার, চকিদার হতে ঝাড়–দার সকলেই কিন্তু শিক্ষাঙ্গনের মেঝে, উঠানে পা রেখে এক-দু শ্রেণী করে করেই নানা দিকে বিভক্ত হয়েছেন। শিক্ষকগণ  যদি শপথের সে বার্তা পৌঁছাতে সক্ষম হন তবে, যেখানেই যে কোন কর্ম পেশাতে যোগদান করি না কেন, আমার দায়িত্ব, কর্তব্য সমন্ধে সচেতনতা আমাকে সর্বদা সজাগ রাখবে। শিক্ষকদের প্রতি আমার শ্রদ্ধা, ভক্তি অগাধ। আর আমার পিতাও একজন শিক্ষক ছিলেন। তবে তিনি খুবই সাধারণ ও সামান্য প্রাইমারী স্কুল শিক্ষক ছিলেন।

পত্র, পত্রিকা, বিভিন্ন ম্যাগাজিন টেলিভিশন পর্দায় দেশের বহুগুণী শিক্ষকদের বা জাতীয় শিক্ষকদের বহু গুণ-গান ও বাণী দেখতে পাই। আমি উনাদের হতে জানতে চাইব, কোচিং, টিউশনি ব্যাতিরিকে ছাত্র-ছাত্রী পাশ করা বা ভালো রেজাল্টের জ্ঞান-মেধা রাখেনা কী? উপবৃত্তি ও উচ্চ শিক্ষার নামে বিদেশে ডিগ্রীর ক্ষেত্রে যা করছে শিক্ষক মহল সে কথাও দেশবাসী আজ আর অনবগত নয়। ত্রিশ লাখ শহীদের জীবন বলীদানের এইকি তবে স্বাধীন দেশ!!! যোগ্যবানদের মূল্যায়ন নেই, ওদের টাকা, মামা, খালু, দুলাভাই নেই বলে চাকুরীর ইন্টারভিউ বোর্ড হতে ম্লান ও তৃষিত মুখে ঘরে ফেরে। আমি মানতে পারিনা, আমার বুঝে আসেনা।

“শিক্ষা জাতির মেরুদন্ড” দেশে শিক্ষিতের হার বাড়ছে, তবে মেরুদন্ড সোজা না হয়ে কেমন যেন দনকে দিন কুঁজো, বক্রটি হয়ে পড়ছে। যদি তা না হবে, তবে চাকুরীর ক্ষেত্রে লক্ষ লক্ষ টাকা ঘুষ, বদলী, পদোন্নতির বেলায়ও তাই, বিচার ক্ষেত্রে এত অনিয়ম-দূর্নীতি, সেবায় এত অবহেলা, সমাজ বা রাষ্ট্রের সার্বিক পেক্ষাপট বা রূপচিত্র আজ এত চরমে কেন? না না এজন্য সরকার বা কোন রাজনৈতিদল ততটা দায়ী নয়- যতটা শিক্ষাঙ্গনের শিক্ষকগণ। শিক্ষকরা যদি জ্ঞানী, মেধাবী দেশপ্রেমী ও আদর্শবান হতো, তবে সমাজের চতুরমুখী অবক্ষয় এতটা জটিল হত না। আদর্শ শিক্ষাই আদর্শ জাতি গঠনের জন্য যথেষ্ট উপাদ্য। সৃজনশীলতা, নান্দনিকতা শিক্ষায় নয়, শিক্ষকের মাঝে বিদ্যমান হওয়া চাই।

“শিক্ষক হতে শিক্ষিতেরা যে জ্ঞান অর্জিবে- তাহাইত তারা সমাজ, দেশ ও জাতিময় ছড়াবে”। আর শিক্ষার প্রথমস্তর যেহেতু প্রাইমারী স্কুল বা কালের হিতৈষী শিশু নিকেতন- এখানটাতেই একজন ছাত্রের নৈতিকতা বা স্বভাব চরিত্র গঠনের মূল পংতি। তাকে খুব যতনে ভালোভাবে সততা, ত্যাগ, পরোপকার, দায়িত্ববোধ, মানব, সমাজ বা দেশপ্রেম এ বিষয় গুলোকে মন- মগজে, অস্তিত্বে, রন্দ্রে পৌঁছাতে হবে। নচেৎ পর্যায় ক্রমে নানা প্রতিষ্ঠান বা চাকুরী ও দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার পূর্বেও আরও কঠিনভাবে পাঠ করছি পবিত্র এ শপথ বাক্য। কিন্তু কার্যত রূপ পাচ্ছে বিপরীত কিছু।

অথচ ওয়াদা করেছি দায়িত্ব ও কর্তব্যে সদা সচেষ্ট থাকা, মানুষ ও সমাজের সেবা করার, এ ওয়াদা করে আমি একজন নেতা, ডাঃ, শিক্ষক, বিচারক, সেনানী বা আইন প্রতিরক্ষার রক্ষক হয়ে কতটুকু স্বচ্ছতা নিয়ে কাজ করছি? দেশের সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সকল শিক্ষকগণ যদি সঠিক এ উপায়টুকু অবলম্বনে সচেষ্ট হই, তবে স্বচ্ছ, সুন্দর, লোভ, হিংসা, বিবেধহীন সেবক ও পরোপকারময়ী জাতি গঠনে প্রতিপালকই আমাদের সহায় হবেন।

“শপথ কর শপথের মত- মুছে হৃদয়ের কালিমা যত”। এ স্লোগান বা মূল্যবান বাণী শপথের অনুসরণ, অনুকরণ আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে বাস্তবতায় প্রতিষ্ঠা পাক। আর আমরা যদি পরিবর্তন হতে না পারি, বিধাতা আমাদের সমাজকে পরিবর্তন বা মার্জনা কখনও করবেন না। সততা, ন্যায়পরায়ণতা, হিংসা-বিদ্বেষহীন, পরোপকার এসবের সাথে শুধু দুনিয়াবী শৃঙ্খলা নয়, বরং পরকালের শান্তিও নিহীত রয়েছে। -লংগাইর, পাগলা, গফরগাঁও, ময়মনসিংহ



 

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ সরদার মোঃ শাহীন,
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ রফিকুল ইসলাম সুজন,
বার্তা সম্পাদকঃ ফোয়ারা ইয়াছমিন,
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ আবু মুসা,
সহঃ সম্পাদকঃ মোঃ শামছুজ্জামান

প্রকাশক কর্তৃক সিমেক ফাউন্ডেশন এর পক্ষে
বিএস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড,
ওয়ারী, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ হতে প্রকাশিত।

বানিজ্যিক অফিসঃ ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২,
উত্তরা, ঢাকা,
ফোন: ০১৯১২৫২২০১৭, ৮৮০-২-৭৯১২৯২১
Email: simecnews@gmail.com