নতুন বছরে নতুন কিছু হোক!!!

নতুন বছরে নতুন কিছু হোক!!!

ইঞ্জিঃ সরদার মোঃ শাহীন

 

বছর পেরিয়ে নতুন বছর। নতুন বছরে নতুন কিছু লিখতে ইচ্ছে করে। অবশ্য পত্রিকার লেখা সব সময় নতুনই হওয়া উচিত। তবুও মাঝেমধ্যে পুরোনো কিছু নিয়েও লিখতে হয়। ঘটনা পুরোনো হলেও নতুন করে লিখার প্রয়োজনীয়তা থাকে। ঘটনার রেশ থাকে বলেই থাকে। তাই লিখতে হয়। সদ্য গত হওয়া পুরোনো বছরের শেষ মাসে এমন কিছু ঘটনা ঘটে গেল, যা পুরোনো হলেও এড়িয়ে যাওয়া যায় না। এড়িয়ে যাওয়া ঠিকও না।

মানে, এড়িয়ে যাবার উপায় নেই। যেমন ধরুন শিক্ষার্থীদের বাস ভাড়ার বিষয়টি। বিষয়টি চুকেবুকে গেছে সত্যি; কিন্তু ভবিষ্যতকে মাথায় রেখে এখনও বিশ্লেষণের দাবী রাখে। ওদের দাবীসমূহ নিয়ে পরিবহন নেতারা জল কম ঘোলা করেনি। ওদের বুকের পাটা এতটাই বড় যে একটার পর একটা জনস্বার্থ বিরোধী উদ্যোগ নিতে এতটুকুও বুক কাঁপেনি। কথা নেই, বার্তা নেই; হুট করে সব বন্ধ। সাফ কথা; ভাড়া না বাড়ালে চাকা ঘুরবে না।

কিন্তু ওদের ভাগ্যের চাকা ঘুরাতেই হবে। অপেক্ষায় অপেক্ষায় রাস্তায় মানুষের জীবন শেষ। সেদিকে সামান্য ভ্রুক্ষেপ নেই। গেইটলকের নামে গেইট ওপেন রেখে, সিটিং সার্ভিসের নামে চিটিং সার্ভিস দেয়া এইসব পরিবহন জনগণকে ফিটিং দেয়ার ধান্দায় ধর্মঘটে গেল। কিন্তু শিক্ষার্থীদের দাবী মানার ধারেকাছেও গেল না। প্রথম থেকেই পরিস্কার বোঝা যাচ্ছিল ক্ষমতাসীন সরকার ছাত্রদের দাবীর সাথে পুরোপুরি একমত। এমনকি প্রধানমন্ত্রীও চাচ্ছিলেন ছাত্ররা হাফ ভাড়ায় চলাচলের সুযোগ পাক। তিনি নিজেও ছাত্রাবস্থায় হাফভাড়ায় চলাচল করেছেন। বিষয়টি তিনি মিডিয়ার সামনে খোলামেলাই বলেছেন।

কিন্তু কে শোনে কার কথা! পরিবহন নেতারা প্রধানমন্ত্রীর ইঙ্গিতকেও থোরাই কেয়ার করলেন। মাত্র ক’দিন আগেই সাধারণ জনগণকে জিম্মি করে বাসভাড়া ৩০ শতাংশ বাড়িয়ে নেবার পরও তাদের কথাবার্তায় মনে হচ্ছিল তারা শেষ। বাস চালাতে চালাতে একেবারে নিঃশেষ হয়ে বসে আছেন। সারাদিন নয়, কেবল সকাল বিকাল ৪০ বা ৫০ জন যাত্রীতে ভরা একটি বাসে বড় জোর দুই বা তিনজন ছাত্রকে হাফভাড়ায় চড়ালে পথে বসে ভিক্ষা করা ছাড়া তাদের গতি থাকবে না।

বেগতিক হয়ে তারা এমনভাবে থিতু হয়ে বসেছিলেন, যেন হাগু করতে বসেছেন। পেটকষা রোগী হাগু করতে বসলে যেভাবে কুতে কুতে হাগু করেন, পরিবহন নেতারা অনেকটা সে রকম ভাবেই কুতে কুতে দাবী মানছিলেন। ছাত্ররা আন্দোলন করতে করতে যখন চরম পর্যায়ে যাচ্ছিল, সরকার যখন তথাকথিত নেতাদের মানাতে না পেরে বিব্রত হচ্ছিল, ঠিক তখন নেতারা তুচ্ছতাচ্ছিল্যের সুরে দাবীটি আধাআধি মানলেন। শর্তযুক্ত মানা যাকে বলে। তারা মানলেন শুধু ঢাকা শহরের জন্যে। সারা দেশের জন্যে নয়।   

যেন দয়া করলেন। দয়া করলেন ঢাকা মহানগরের শিক্ষার্থীদের। দয়া করলেন দেশের প্রধানমন্ত্রীকে। ক’দিন আগে যার কাছ থেকে দয়া ভিক্ষা নিয়ে বাসভাড়া বাড়িয়েছেন, আজ তাঁকেই দয়া দেখাবার ধৃষ্টতা দেখালেন। সরকার তখনও এইসব ভূঁইফোড়দের সহ্য করেছে, কিন্তু শিক্ষার্থীরা করেনি। সহ্য না করে তারা আন্দোলন চালিয়ে গেছে। অতীব ন্যায্য দাবীতে তারা রাজপথে থেকেছে। স্বাধীনতার ৫০ বছর ধরে হাফভাড়া দিয়ে চলা শিক্ষার্থীরা শত চাপেও ফুলভাড়া দেবার সিদ্ধান্তের কাছে নতি স্বীকার করেনি।

নতি স্বীকার প্রতিমন্ত্রী মুরাদও করতে চাননি। কোথায়ও কোন বিষয় নিয়ে আউলফাউল বা আবলতাবল বলার পরে শত চাপের মুখেও নতি স্বীকার করেননি। বরং দ্বিগুণ তীব্রতায় আর বহুগুণ জঘন্যতায় আরো সরব হয়েছেন। হুংকার দিয়েছেন। হুংকার দিয়েছেন অশ্লীল ভাষায়। প্রচন্ড অশ্লীলতা প্রিয় এই মানুষটির অশ্লীলতা থেমে থাকতো না পাবলিক প্লেসেও। তার প্রিয় অক্ষর চ। চ অক্ষর দিয়ে সর্বোচ্চ নোংরা শব্দ চয়নে তার জুড়ি মেলা ভার ছিল।

মুরাদ নামের লোকটার মুরোদ ছিল ভালই। যা বলা মোটেও ঠিক না, তাও বলে ফেলেছেন যত্রতত্র। মুরোদ না থাকলে এটা কেউ পারে? গত কয়েক মাসে মুরাদের মুরোদ জাতি বেশ ভালভাবেই পরখ করছিল। মন্ত্রী হবার পরেও একটা লোকের মুখের ভাষা কত জঘন্য হতে পারে, তা মুরাদ দেখিয়ে দিয়েছে। কয়েক মাস ধরেই অস্বাভাবিক ফালতু আর বেপরোয়া আচরণে মেতেছিল লোকটা। করছিলো বারবার সীমা লঙ্ঘন। মনে রাখতে পারেনি যে, সীমা লঙ্ঘনেরও একটি সীমা থাকে।

শেষমেষ ফেঁসে গেলেন। ফেঁসেছেন অনেক কারণে। তার মাঝে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পরিবার নিয়ে অতিমাত্রায় অশালীন ভাষা প্রয়োগ করা অন্যতম। তারেক জিয়া এবং তার মেয়ে জাইমাকে নিয়ে যা বলেছেন তা কোনভাবেই ক্ষমার যোগ্য নয়। আদালতের কাঠগড়ায় তার দাঁড়ানো উচিত। তাকে কেউ দাঁড় করাবে কিনা জানি না। তবে প্রধানমন্ত্রী ছাড়েননি। তিনি কেড়ে নিয়েছেন তার মন্ত্রীত্ব এবং জনগণ দিয়েছে প্রচন্ড রকমের কুরুচীপূর্ণ, চরিত্রহীন, জঘন্য ও ঘৃণিত ব্যক্তি হিসেবে তকমা।

মাথার গড়ন যাই থাকুক, কথাবার্তার ধরণে বেজায় সমস্যা ছিল বেচারার। কথাবার্তায় মুদ্রা দোষের যথেষ্ট অধিক্য ছিল। এবং কোন আচরণেই মনে হতো না রাষ্ট্রের কাছে শপথ পাঠ করা মন্ত্রী তিনি। তার সাংবিধানিক অনেক সীমাবদ্ধতা আছে। যা ইচ্ছে তাই, যেখানে ইচ্ছে সেখানে, তিনি অহরহ বলতে পারেন না। কিন্তু তিনি বলেছেন। সবচেয়ে বেশি বলেছেন মুতামুতির কথা। কথায় কথায় বলেছেন। মুতামুতি নিয়ে তার সাংঘাতিক এলার্জী আছে। সবখানে তিনি মুতেন না। বিশেষ করে ঢাকা ভার্সিটিতে।

ভার্সিটির মেয়েদের উপর তিনি বেজায় নাখোশ। তার দাবী মোতাবেক তারা হোটেলে রাত্রী যাপন করে বলেই নাখোশ। যদিও দাবীর স্বপক্ষে প্রমাণ দেখাতে পারেন নাই একটাও। কিন্তু নিজে হোটেলে রাত কাটানোর প্রমাণ দিয়েছেন। শুধু রাত কাটানো নয়, পছন্দের হোটেলে নায়িকাকে নেবার বাসনায় হুমকি পর্যন্ত দিয়েছেন। তার ভীষণ পছন্দ হোটেল সোনারগাঁও। এখানে ইচ্ছেমত তিনি সব কাজ করতে পারেন। নাচতে পারেন, গাইতেও পারেন। আর ভরতে পারেন গলা। তার যত ভিডিও ক্লিপ দেখলাম, তাতে তাকে স্বাভাবিক মনে হয়নি কখনোই। মাতাল মনে হয়েছে।

মাতাল হয়ে নায়ক ইমন এবং নায়িকা মাহির সাথে ফোনে যা বলেছেন তা অশ্লীল হলেও দীর্ঘদিন একশ্রেণীর মানুষের মুখরোচক সংলাপ হিসেবেই থাকবে। আড়ালে আবডালে দারুন হট সংলাপ হিসেবেই থাকবে। অবশ্য মুখরোচক কথাবার্তা রাজনীতিবিদগণ হরহামেশাই বলে থাকেন। যেমন “আল্লাহর মাল আল্লাহ নিয়ে গেছেন” কিংবা “উই আর লুকিং ফর চোর” আজো মুখে ফেরে মানুষের।

তারা যেমনি মুখরোচক কথা বলেন, তেমনি সত্যকে বিকৃত করে মাঝে মাঝে মিথ্যে কথাও বলেন। কিংবা বলার চেষ্টা করেন। তারেক এবং জাইমাকে নিয়ে মুরাদ মিয়ার জঘন্যাচারের পরপরই মির্জা ফখরুল নড়েচড়ে বসেন। প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে আলালের জঘন্যাচারকে বিবেচনায় না নিয়ে বরং ওটাকে পায়ে ঠেলে ভাবলেন, সুযোগ যায়। রাজনীতির চরম দূর্দিন এবং আকালের দিনে তিনি মওকা পেয়েছেন মনে করে সরব হন। এবং সুযোগের চরম অসৎ ব্যবহার করে তিনি স্বাধীনতার ইতিহাসে হাত দিয়ে বসেন।

মুরাদের কথার তীব্র প্রতিবাদ জানাতে যেয়ে বলে বসেন, খালেদা জিয়া তার দুই সন্তান তারেক এবং কোকোকে নিয়ে যুদ্ধের সময় পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি থেকে মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদান রাখেন। মুরাদের করা ঢাহা সত্য অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে নেমে তিনি ঢাহা মিথ্যের আশ্রয় নেন। কোন দরকার ছিল কি? খালেদা তার ছেলেদের নিয়ে মোটেই বন্দি ছিলেন না। বরং জিয়া একাত্তরে তার জেড ফোর্সের সদস্য হাবিবুর রহমান সানি নামের একজন মুক্তিযোদ্ধাকে পাঠান খালেদা জিয়াকে নিয়ে যেতে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সানি সেনানিবাসের বাড়িতে ঢুকে খালেদার হাতে জিয়ার চিঠি দেন। কিন্তু খালেদা জিয়া সানির সঙ্গে যেতে রাজি হননি। এবং যাননি।

এটাই চরম সত্যি। আশা করছি নতুন বছরে এসে মির্জা ফখরুল ইতিহাসে আর হাত দেবেন না। দেয়া ঠিক হবে না। দিলে আরো সত্যি বেরিয়ে আসবে। বেরিয়ে আসবে স্বয়ং তার পরিবারের কিচ্ছা কাহিনী। মুক্তিযুদ্ধে তার বাবা এবং তিনি কী করেছেন সেটা জাতির কাছে আবারো উঠে আসবে। উঠে আসবে ভারতের ইসলামপুরের থানা পুলিশ কেন ফখরুলকে ধরে নিয়ে গিয়েছিলো। কারা সেদিন তাকে ভারতীয় পুলিশের কাছ থেকে ছাড়িয়ে এনেছিলো।

নতুন বছরে এসবে আমরা আর না যাই। ইতিহাসকে বিকৃত করার চেষ্টা না করি। নতুন বছরে নতুন কোন মুরাদের দেখা আমরা আর না পাই। এসবই আমাদের কামনা। সাথে প্রত্যাশাও আছে। প্রত্যাশা করি, নতুন বছর নতুন কিছু দিয়ে শুরু হবে। চারিদিকে নতুনের জয় হবে। নতুন ভাবনায় নতুন রূপে সাজবে আমাদের এই সোনার বাংলা। এবং বাংলার সুস্থ রাজনীতি।।

 

সম্পাদক ও প্রকাশক: সরদার মোঃ শাহীন
উপদেষ্টা সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম সুজন
বার্তা সম্পাদক: ফোয়ারা ইয়াছমিন
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: আবু মুসা
সহ: সম্পাদক: মোঃ শামছুজ্জামান

প্রকাশক কর্তৃক সিমেক ফাউন্ডেশন এর পক্ষে
বিএস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড,
ওয়ারী, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ হতে প্রকাশিত।

বানিজ্যিক অফিস: ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা।
বার্তা বিভাগ: বাড়ি # ৩৩, রোড # ১৫, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা।
ফোন: ০১৯১২৫২২০১৭, ৮৮০-২-৭৯১২৯২১
Email: simecnews@gmail.com