দুই আবরারের মৃত্যুতে দুই ধরনের ভূমিকা

প্রকাশের সময় : 2019-11-21 12:48:06 | প্রকাশক : Administration
দুই আবরারের মৃত্যুতে দুই ধরনের ভূমিকা

নাঈমুল আবরারের মৃত্যু বা হত্যাকাণ্ড ঘটেছে কিশোর আলোর অনুষ্ঠানে (কিআ)। এই কিআ’র অভিভাবক প্রতিষ্ঠান দৈনিক প্রথম আলো। কিন্তু প্রথম আলো’র সম্পাদকের পক্ষ থেকে এখনও কোনো দুঃপ্রকাশ বা নিহত আববারের পরিবারের পাশে দাড়ানোর সহানুভূতিশীলতা এখনও আমরা দেখিনি। তাহলে কি ‘নাঈমুল আবরারের মৃত্যু’ যথেষ্ঠ গুরুত্বপূর্ণ নয় প্রথম আলো সম্পাদকের কাছে?

নাঈমুল আবরার ঘটনাস্থলে আহত হওয়ার পর মেডিক্যাল ক্যাম্পের চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হলে তারা তখন নিশ্চিত হন যে সে মারা গেছে। প্রথম আলো’তে প্রকাশিত রিপোর্টেও সেটি বলা হয়েছে। প্রশ্ন হলো, অনুষ্ঠানস্থলে মৃত জানার পরও তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে মৃত ঘোষণার জন্য নিয়ে যাওয়া হয় ইউনিভার্সেল মেডিক্যাল হাসপাতালে। অথচ তখন ৩:৩০ মিনিট। আশপাশের অনেকে জেনে গেছেন নাঈমুল আবরার মারা গেছে। সেটি নিশ্চয়ই কিআ কর্তৃপক্ষও জেনে গিয়েছিলেন। এই যে তার মৃত্যু সংবাদ জানার পরও এ সংবাদ শুধু গোপন করে নয়, উল্টো বিরতিহীনভাবে অনুষ্ঠান চালিয়ে যাওয়া হচ্ছিল কেন?

প্রথম আলো’র পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে চিকিৎসকের পরামর্শে নাঈমুল আবরারকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। এটি সেই চিকিৎসকের একক সিদ্ধান্ত বলে কি মেনে নেওয়া যৌক্তিক? কারণ প্রথম আলোর রিপোর্টেই বলা হয়েছে, চিকিৎসক বলেছেন সে ঘটনাস্থলে মারা গিয়েছে। তাহলে এটি কি স্ববিরোধীই কেবল নয় বরং প্রথম আলোর পক্ষ থেকেই অনুষ্ঠান চালিয়ে যাওয়ার জন্য সময়ক্ষেপনের হীন চেষ্ঠা নয়? ওই চিকিৎসকরা তো প্রথম আলোর স্পন্সর প্রতিষ্ঠানের অংশ। অতএব তারা কি স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পেরেছিলেন নাকি প্রথম আলো দেরিতে ‘মৃত’ ঘোষণার জন্য অপেক্ষা করছিল? নাঈমুল আবরারকে কেনই বা সরকারি হাসপাতালে নেওয়া হলো না। সরকারি হাসপাতাল তো দূরেই ছিল না।

নাঈমুল আবরারের মৃত্যুর পর প্রথম আলোর পক্ষ থেকে কেন তার বাবা-মা’কে মৃত্যু বা হত্যাকাণ্ডের জন্য ময়নাতদন্তের জন্য পরামর্শ দেওয়া হলো না? এই পরামর্শ না দেওয়া কি অবিবেচনা নয়? প্রথম আলো কর্তৃপক্ষ অনুষ্ঠানস্থল নিরাপদ কি না সেটি দেখবে না কেন? তাদের অনুষ্ঠানে কেন বৈদ্যুতিক তার এলোমেলাভাবে পড়ে থাকবে? আর অনুষ্ঠানটি যখন কিশোরদের, সেখানে তো আরও সতর্ক, দায়িত্বশীল হওয়া উচিত ছিল নয়কি?

প্রথম আলো প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘আবরার’ হত্যাকাণ্ডের পর যেরকম ধারাবাহিক অনুসন্ধানী রিপোর্ট প্রকাশ করেছে সেরকম কোনো রিপোর্ট নেই কেন নাঈমুল আবরারের মৃত্যুর পর? নাঈমুল আবরারের মৃত্যুর পর তার সহপাঠী ও অভিভাবকরা বিক্ষোভ প্রকাশ করলে সে খবর ভেতরের পৃষ্ঠায় সিঙ্গেল কলাম ট্রিটমেন্ট দেওয়া হলো কেন?

নাঈমুল আবরারের মৃত্যু বা হত্যাকাণ্ডের পর তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে বলে প্রথম আলো জানিয়েছে। সেই তদন্ত তারাই করার এখতিয়ার রাখে কিভাবে? আইনের প্রতি কি শ্রদ্ধাহীনতা প্রকাশ পায় না? সেই তদন্ত কমিটিতে কারা তাদেরও নাম প্রকাশ করেনি তারা। প্রথম আলো নাঈমুল আবরারের পরিবারের জন্য সে নিহত হওয়ার পর কি কি করেছে সেটিও তারা জানাতে এখন পর্যন্ত অপারগ। শুধু প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর প্রতিনিধি সম্মেলনে এক মিনিট নীরবতা প্রকাশ করা ছাড়া। এই ‘একমিনিটেই’ কি নাঈমুল আবরারের মৃত্যু পরবর্তী সব দায়িত্বপ্রকাশের নমুনা? দেবদুলাল মুন্না, আমাদের সময় ডটকম

 

সম্পাদক ও প্রকাশক: সরদার মোঃ শাহীন
উপদেষ্টা সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম সুজন
বার্তা সম্পাদক: ফোয়ারা ইয়াছমিন
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: আবু মুসা
সহ: সম্পাদক: মোঃ শামছুজ্জামান

প্রকাশক কর্তৃক সিমেক ফাউন্ডেশন এর পক্ষে
বিএস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড,
ওয়ারী, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ হতে প্রকাশিত।

বানিজ্যিক অফিস: ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা।
বার্তা বিভাগ: বাড়ি # ৩৩, রোড # ১৫, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা।
ফোন: ০১৯১২৫২২০১৭, ৮৮০-২-৭৯১২৯২১
Email: simecnews@gmail.com