ভালবাসার গল্প

প্রকাশের সময় : 2020-02-26 10:55:05 | প্রকাশক : Administration
ভালবাসার গল্প

ব্যবসায় পড়া লেখা শেষ করে আমেরিকা থেকে সবে মাত্র দেশে ফিরল রিফাত। দেশে বাবার বিশাল ব্যবসা। তাই তার বাবাও চান তার এই ব্যবসার দায়িত্ব বুঝে নেক তার ছেলে। তাই হলো, ব্যবসার সব দায়িত্ব এখন রিফাতের। কয়েক মাস কেটে গেলো, একা আর সামলানো যায় না, একজন P.A (Personal Assistant)   দরকার।

নিয়োগ দেয়া হলো "অথৈই" নামের এক মেয়েকে। অথৈই ছিল উচ্চ শিক্ষিত, সুন্দরী। সে তার বাবা মায়ের একমাত্র মেয়ে। বাবার সংসার চালানোর মত ক্ষমতা এখন আর নেই; তাই অথৈই এর জন্য চাকরিটা খুবই প্রয়োজন ছিল। বিশাল কোম্পানিতে চাকরি পেয়ে খুশি অথৈই। তার বাবা মাকে নিয়ে ভালোই দিন কাটে অথৈইর। এরই মাঝে শুরু হলো রিফাতের সাথে উঠা বসা অথৈইর ।

রিফাত অথৈইকে নিয়ে কখনো দূপুরে লাঞ্চ, পার্কে ঘুরা কিংবা রাতে কেন্ডেল ডিনার করে। একসময় দু'জন দু'জনকে ভালোবেসে ফেলে; কিন্তু কেও তা কাউকে বলেনি। হঠাৎ একদিন পার্কে রিফাত তার ভালোবাসার কথা বলেই ফেলে অথৈইকে, রিফাতেকে ভালোবাসা সত্তেও অথৈই রিফাতকে ফিরিয়ে দিলো। কারন, রিফাত এত্ত বড় কোম্পানির মালিক তার সাথে সম্পর্ক তা কি করে হয়!!

ভারাক্রান্ত মন নিয়ে বাড়িতে ফিরল অথৈই। ভালোবাসার মানুষকে কাছে পেয়েও হারাতে হচ্ছে। দুই দিন অফিসে যায়নি অথৈই। ২ দিন পর রিফাতের সাথে দেখা হওয়ার পরেও এড়িয়ে চলে অথৈই। রিফাত অনেক বুঝানোর চেষ্টা করে কিন্তু অথৈই রাজি নয়। তার কারন তারা অনেক ধনী, তার তুলনায় অথৈই কিছুই না....। নিশ্চুপ কেটে গেলো কয়েকটা দিন...। অথৈইর বাবা মা বিয়ে ঠিক করে ফেলে তার এক মামাতো ভাইয়ের সাথে। অথৈই তার মামাতো ভাইকে কখনোই দেখেনি! কি করবে রিফাত কিছুই সে বুঝতে পারে না। এই দিকে রিফাতের বিয়ের জন্য তার বাবা মা পাত্রী দেখা শুরু করে। পাত্রীর একটা ফটো নিয়ে রিফাতকে দেখতে বলে। কিন্তু রিফাত ফটো না দেখেই বাবা মায়ের পছন্দের মেয়েকে বিয়ে করতে রাজী হয়ে যায়। চাকরি থেকে রিজাইন করে অথৈই। আর কখনো দেখা হবে না রিফাতের সাথে!!

চোখের জল নিয়েই অফিস থেকে বেরিয়ে গেলো অথৈই। বিয়ের সব কিছু রেডি রিফাতের! ৩ দিন পর বিয়ে। ধুমাধাম আর লাইটিং এর আলোয় আলোকিত সব। বিয়ে হয়ে গেলো। কিন্তু সে এখনো তার বউকে দেখেনি! এমন সময় ফোন আসলো ইমার্জেন্সি ফ্লাইটে রিফাতকে ফিরে যেতে হবে নিউইয়র্ক। অথৈকে হারানোর কষ্ট এখনও তার মনের মধ্যে। তাই নতুন বউকে এক নজর দেখে যাওয়ার কোন আগ্রহ নেই তার। সদ্য বিবাহিত বউকে না দেখেই রিফাত চলে গেলো নিউইয়র্ক!

ওখানে গিয়ে তার বিয়ে করে রেখে যাওয়া বউয়ের জন্য কোন চিন্তাই মনে আসতো না। অথৈর জন্যই তার মনে সারাদিন এলোমেলো ভাবনা চলে আসতো! ওদিকে অথৈ তার স্বামীকে দেখেনি, সেও রিফাতের স্মৃতি মনের মধ্যে আকড়ে ধরে আছে। স্বামীহীন স্বশুরবাড়িতে দিনের পর দিন কাটছে তার। রিফাত কখনো তার স্ত্রীকে ফোন দেয়নি। এমন করেই  নিউইয়র্ক যাওয়ার পর কেটে গেলো ১ টি বছর!!

১ বছর পর আজ রিফাত আসবে দেশে। বাড়িতে এসেই কলিংবেল বাজাতেই দরজা খুলে আসলো রিফাতের স্ত্রী। রিফাতকে দেখে হতভম্ব হয়ে গেলো রিফাতের স্ত্রী, রিফাতও আশ্চর্য আর নির্বাক হয়ে তাকিয়ে রইলো তার স্ত্রীর দিকে। রিফাতের স্ত্রী রিফাতকে দেখেই বলল স্যার আপনি এখানে??? কেন এসেছেন প্লিজ চলে যান...। এটা আমার শ্বশুর বাড়ি! প্লিজ স্যার চলে যান। এমন সময় রিফাতের মা-বাবা এসে বলল তুমি কাকে চলে যেতে বলছো?? ও তোমার স্বামী রিফাত। রিফাতের স্ত্রী আর কেউ নয় সে ছিল তার ভালোবাসার মানুষ অথৈই! প্রত্যেকটি মানুষের জীবনে যদি এরকম কাকতালীয়ভাবে ভলোবাসার মানুষকে পাওয়া যেত তাহলে খুব ভালো হতো। - বিডিআপ২৪ডটকম

 

সম্পাদক ও প্রকাশক: সরদার মোঃ শাহীন
উপদেষ্টা সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম সুজন
বার্তা সম্পাদক: ফোয়ারা ইয়াছমিন
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: আবু মুসা
সহ: সম্পাদক: মোঃ শামছুজ্জামান

প্রকাশক কর্তৃক সিমেক ফাউন্ডেশন এর পক্ষে
বিএস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড,
ওয়ারী, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ হতে প্রকাশিত।

বানিজ্যিক অফিস: ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা।
বার্তা বিভাগ: বাড়ি # ৩৩, রোড # ১৫, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা।
ফোন: ০১৯১২৫২২০১৭, ৮৮০-২-৭৯১২৯২১
Email: simecnews@gmail.com