শেখ হাসিনা ‘ট্যাক্টফুল’ একজন খেলোয়াড়

প্রকাশের সময় : 2020-10-01 11:29:24 | প্রকাশক : Administration
শেখ হাসিনা ‘ট্যাক্টফুল’ একজন খেলোয়াড়

রুহুল আমিনঃ তৃতীয় বিশ্বের ছোট্ট একটি দেশ, একই সঙ্গে চীন, ভারত, জাপান ও পশ্চিমা বিশ্বকে বাংলাদেশের অনুকূলে ব্যবহার করেছেন খুবই সফলভাবে। এর পেছনে একটা মৌলিক কারণ আছে। সেটা শেখ হাসিনার স্পষ্ট সততা। শেখ হাসিনা বাংলাদেশের মৌলিক কূটনৈতিক নীতিটি খুব স্পষ্টভাবে অনুসরণ করেছেন। কারোর সঙ্গে বৈরিতা নয়। সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব। শেখ হাসিনা দেশ প্রেমিক। তার পিতার রক্তের দাগ বুকের মধ্যে আগলে রেখে তিনি পথ চলেন। অভ্যন্তরীণ শক্তিসমূহ নিয়ন্ত্রণের জন্য অনেকেই শেখ হাসিনার সমালোচনা করতে পারেন। কিন্তু কূটনীতিতে তিনি বাংলাদেশ প্রশ্নে বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ লড়াইটা করবেন, এটা নিয়ে কারো কোনো সংশয় নেই। ভারতের সাথে তিনি বাণিজ্য সহযোগিতা অব্যাহত রাখার পক্ষে। সেখানে তিনি অন্য কোনো শর্ত জুড়ে দেননি। যতোটা সম্ভব ভারতের ইচ্ছেকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।

কিন্তু সীমান্ত চুক্তিতে শেখ হাসিনা ১০,০০০ একর ভূমি অতিরিক্ত আদায় করেছেন। সিলেটসহ বিভিন্ন জায়গায় বাংলাদেশের ভূমি বৃদ্ধি করেছেন ন্যায্যতার ভিত্তিতে।

ভারত-মিয়ানমারকে প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেছিলেন- তোমরা নিশ্চিন্তে ঘুমাও আমার ভূমি তোমাদের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হতে দেবো না। শেখ হাসিনা তার এই প্রতিশ্রুতি অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছেন। এখানেই শেখ হাসিনা এগিয়ে যাওয়ার স্পেস পেয়ে যান।

ভারত যখন পাকিস্তানে সার্জিকেল অপারেশন করে তখন পাকিস্তানের সাথে খুব খারাপ সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও শেখ হাসিনা ন্যায্যতার পক্ষে অবস্থান নেন। ‘সবাইকে দেশের সীমানাকে সম্মান জানানো উচিত’ বলে মন্তব্য করেন। শেখ হাসিনার আরেকটা বৈশিষ্ট্য হলো তিনি বিশ্বশক্তির কনসার্নগুলোকে আমলে নেন। আমেরিকার রাষ্ট্রদূতের গাড়িতে হামলার কারণে বাংলাদেশের বিশেষ একজনের রাজনীতি শেষ করে দেন তিনি।

পদ্মা সেতু ইস্যুতে বিশ্বব্যাংক যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছিল শেখ হাসিনা তাদের রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে দেন। আবুল হোসেনের মতো মানুষ নৌকার টিকিটই পান না। ভারত-আমেরিকার কনসার্নের কারণে চীনকে গভীর সমুদ্র বন্দর থেকে দূরে রেখে, জাপানের সাহায্যে মাতার বাড়িতে নতুন বন্দরের কাজ শুরু করেছেন। আবার পায়রাতে ধরে রেখেছেন চীনকে। এগুলো নতুন কিছু নয়।

যারা শেখ হাসিনার চীন নীতি নিয়ে নতুন করে ভাবছে তারা এতোদিন না বুঝেই শেখ হাসিনাকে ভারতপন্থী বলে সমালোচনা করেছেন। কিন্তু শেখ হাসিনা কোনো পন্থি নয়, বাংলাদেশপন্থী এটা বুঝতেই আমাদের অনেক সময় লেগে গেছে। কিন্তু ভারতের উদ্বেগের কারণটি ভিন্ন। বাংলাদেশে চীনের দিকে গিয়ে খুব শক্তিশালী অর্থনীতিতে পরিণত হলে সেভেন সিস্টারের রাজনীতি বদলে যেতে পারে। এটা ভারত যেমন বুঝে বাংলাদেশ চীন সবাই বুঝে।

শেখ হাসিনার খুব শক্ত অবস্থান এনআরসি নিয়ে। ভারত এনআরসি থেকে যদি সরে না আসে, তবে হাসিনা অল আউট খেলবেন। এই ভয় ভারতের ভেতরে ঢুকেছে নতুন করে। এনআরসি বিষয়ে বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে কমপক্ষে তিনটি মন্ত্রী পর্যায়ের মিটিং বাতিল করেছেন। ইতিহাসে এই প্রথম ভারত তার অভ্যন্তরীণ নীতি নিয়ে বাইরের একটি রাষ্ট্রের চাপে পড়লো।

এই চাপ যে শেখ হাসিনা দিতে পারেন এটাও তাদের ধারণাতে ছিল। কারণ হাসিনা মুজিবের রক্ত ধারণ করে। কিন্তু চীনের আগমনে সেটা যখন তুমুল বেগে ছুটবে তখন সেটা সামলানো ভারতের পক্ষে তো কঠিন বটেই বাংলাদেশের পক্ষেও কঠিন হবে। আমার বিশ্বাস আগামী কিছু দিনের মধ্যেই এনআরসি নিয়ে ভারতের নীতিগত পরিবর্তন আসবে। -ফেসবুক

 

সম্পাদক ও প্রকাশক: সরদার মোঃ শাহীন
উপদেষ্টা সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম সুজন
বার্তা সম্পাদক: ফোয়ারা ইয়াছমিন
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: আবু মুসা
সহ: সম্পাদক: মোঃ শামছুজ্জামান

প্রকাশক কর্তৃক সিমেক ফাউন্ডেশন এর পক্ষে
বিএস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড,
ওয়ারী, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ হতে প্রকাশিত।

বানিজ্যিক অফিস: ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা।
বার্তা বিভাগ: বাড়ি # ৩৩, রোড # ১৫, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা।
ফোন: ০১৯১২৫২২০১৭, ৮৮০-২-৭৯১২৯২১
Email: simecnews@gmail.com