ডিজিটাল বাংলাদেশের হাই-টেক পার্ক

প্রকাশের সময় : 2020-10-01 11:48:33 | প্রকাশক : Administration
ডিজিটাল বাংলাদেশের হাই-টেক পার্ক

হিটলার এ. হালিমঃ সরকার সারাদেশে হাই-টেক পার্ক নির্মাণ করছে। এরমধ্যে দুটো পুরোপুরি চালু হয়েছে। একটির নির্মাণ কাজ চললেও সেখানে যেসব প্রতিষ্ঠানকে জায়গা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে তারমধ্যে একাধিক প্রতিষ্ঠান উৎপাদন শুরু করেছে। কয়েকটির হাই-টেক পার্কের নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। ডিজিটাল বাংলাদেশের অগ্রগতিতে এগিয়ে দেশের এসব হাই-টেক পার্ক, যা বর্তমানে দৃশ্যমান।

পার্কগুলোর নির্মাণ কাজ শেষ হলে বিপুল সংখ্যক কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে। পাশাপাশি দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানও এসব পার্কে কাজের সুযোগ পাবে। ফলে প্রযুক্তিভিত্তিক বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করা আরও সহজ হবে। ২০৩০ সাল নাগাদ এসব হাই-টেক পার্ক ও সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক থেকে এক হাজার কোটি ডলারের সফটওয়্যার রফতানি করা যাবে।

দেশের ৫টি হাই-টেক পার্ক বর্তমানে বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। ২০২৩ সালের মধ্যে এসব হাই-টেক পার্কে ৫০ হাজার কর্মসংস্থান হবে। শুরুতে প্রযুক্তিভিত্তিক পার্কটির নাম বঙ্গবন্ধু হাই-টেক পার্ক নামকরণ করা হলেও পরে নাম বদলে রাখা হয়েছে বঙ্গবন্ধু হাই-টেক সিটি। গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ২৩২ একর জমির ওপর বঙ্গবন্ধু হাই-টেক সিটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। 

বর্তমানে বঙ্গবন্ধু হাই-টেক সিটিতে দেশি-বিদেশি মিলিয়ে ৩৭টি কোম্পানিকে জায়গা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কিছু প্রতিষ্ঠান এরই মধ্যে উৎপাদন শুরু করেছে। কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো নির্মাণের কাজ চলছে। বঙ্গবন্ধু হাই-টেক সিটিতে বিজনেস অটোমেশন নামের প্রতিষ্ঠান কিয়স্কসহ ডাটা সফট আইওটি (ইন্টারনেট অব থিংস) যন্ত্রাংশ তৈরি করছে।

এদিকে ওরিক্স বায়োটেক নামের একটি প্রতিষ্ঠান বায়োটেকনোলজি নিয়ে কাজ করছে। তাদের লক্ষ্য বায়োটেকনোলজিক্যাল পণ্য উৎপাদন। প্রতিষ্ঠানটি এখানে ৩০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে বলে ঘোষণা দিয়েছে। এছাড়া সোনার বাংলা ফাউন্ডেশন নামের প্রতিষ্ঠানটি সিটিতে কিডনি ডায়ালাইসিসের যন্ত্রপাতি উৎপাদন করছে।

বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটির পাশেই গড়ে তোলা হচ্ছে বঙ্গবন্ধু হাই-টেক সিটি-২। প্রায় ৩৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে এই সিটিতে হাই-টেক শিল্প গড়ে তোলা হবে। বর্তমানে সিটির ভেতরে রাস্তা, ভূমি উন্নয়ন, বিদ্যুৎ, ইন্টারনেট, গ্যাস সংযোগ ইত্যাদি অবকাঠামো নির্মাণের কাজ চলছে। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করাই বঙ্গবন্ধু হাই-টেক সিটি-২ নির্মাণের উদ্দেশ্য।

শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কে ১২-১৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে। বর্তমানে অর্ধশতাধিক প্রতিষ্ঠান কাজ করছে এই পার্কে। শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কে ডিজাস্টার রিকভারি সেন্টার গড়ে তোলা হয়েছে। বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম ডাটা সেন্টার গড়ে তোলা হচ্ছে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে বঙ্গবন্ধু হাইটেক পার্কে। আর ওই ডাটা সেন্টারের ব্যাকআপ স্টেশন তৈরি হচ্ছে যাশোরে।

যশোরের সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কে নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। লার্নিং আর্নিং, প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা, দক্ষতা উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকবে এখানে। নবীন উদ্যোক্তা বা স্টার্টআপগুলোর জন্য প্রতিটি হাইটেক পার্কের মতো এই পার্কেও বিশেষভাবে জায়গা বরাদ্দ থাকছে। ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে যশোরের বেজপাড়া শংকরপুর এলাকায় এই আইটি পার্কের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ১২ দশমিক ১৩ একর জমির ওপর আইটি পার্কটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ৩০৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই হাইটেক পার্কে আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা রয়েছে।

সিলেটে ১৬২ দশমিক ৮৩ একর জমিতে পিপিপি মডেলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হাই-টেক পার্ক গড়ে তোলার কাজ এগিয়ে চলেছে। এই পার্ককে বিশেষায়িত ইলেকট্রনিক সিটি হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এই প্রকল্পের কাজ শেষ হবে ২০২১ সালে। এখানে বিশ্বমানের বিনিয়োগ পরিবেশ সৃষ্টি করা হবে। যেখানে ৫০ হাজার কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এরইমধ্যে আইটি বিজনেস সেন্টার, গেস্ট হাউজ, ইউটিলিটি ভবন নির্মাণের কাজ প্রায় শেষের পথে। এছাড়া অভ্যন্তরীণ অবকাঠামো নির্মাণ কাজ প্রায় শেষ।

রাজশাহীর পবার নবীনগরে গড়ে উঠছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হাই-টেক পার্ক। ৩১ একর জমিতে ২ লাখ বর্গফুটের মাল্টিপারপাস ভবন নির্মাণের কাজ এগিয়ে চলেছে। প্রকল্পের কাজ শেষ হবে ২০২১ সালে। এরই মধ্যে প্রকল্পের প্রায় ৬০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। এই পার্ক নির্মাণ সম্পন্ন হলে রাজশাহীতে জ্ঞানভিত্তিক আইটি শিল্প স্থাপন, কর্মসংস্থান, নতুন উদ্যোক্তাদের সুযোগ সৃষ্টি এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা সহজ হবে।

রাজধানীর কাওরান বাজারের জনতা টাওয়ারকে সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কে রূপান্তর করা হয়েছে। নতুন উদ্যোক্তাদের সুযোগ সৃষ্টি করতে সরকারের এই আয়োজন। বর্তমানে ১৫টি প্রতিষ্ঠান সেখানে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ঢাকার প্রাণকেন্দ্রে কম দামে আইটি কোম্পানিগুলোর জায়গা পাওয়া একটা সুযোগই বটে। নিরবছিন্ন বিদ্যুৎ, উচ্চগতির ইন্টারনেট, ডাটা কানেক্টিভিটি ইত্যাদি সুযোগ রয়েছে এখানে। আছে স্টার্টআপদের জন্য বিশেষ বরাদ্দের ফ্লোর। এরইমধ্যে প্রযুক্তি ব্যবসায়ীদের নতুন গন্তব্য হয়ে উঠেছে এই জনতা টাওয়ার।

এদিকে চট্টগ্রামেও তৈরি হচ্ছে চট্টগ্রাম সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্মিত সিঙ্গাপুর-ব্যাংকক মার্কেটের ৬-১১ তলা নির্মাণ করে তৈরি হচ্ছে চট্টগ্রাম সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক। ইতোমধ্যে পার্কটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া দেশের ১২টি জেলায় সরকার আইটি ও হাই-টেক পার্ক তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। এই জেলাগুলো হলো রংপুর, নাটোর (সিংড়া), খুলনা, বরিশাল, গোপালগঞ্জ (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়), ঢাকা (ঝিলমিল আবাসিক এলাকা, কেরানীগঞ্জ), ময়মনসিংহ, জামালপুর, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার (রামু) ও সিলেট (কোম্পানীগঞ্জ)।

 

সম্পাদক ও প্রকাশক: সরদার মোঃ শাহীন
উপদেষ্টা সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম সুজন
বার্তা সম্পাদক: ফোয়ারা ইয়াছমিন
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: আবু মুসা
সহ: সম্পাদক: মোঃ শামছুজ্জামান

প্রকাশক কর্তৃক সিমেক ফাউন্ডেশন এর পক্ষে
বিএস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড,
ওয়ারী, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ হতে প্রকাশিত।

বানিজ্যিক অফিস: ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা।
বার্তা বিভাগ: বাড়ি # ৩৩, রোড # ১৫, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা।
ফোন: ০১৯১২৫২২০১৭, ৮৮০-২-৭৯১২৯২১
Email: simecnews@gmail.com