ঐতিহ্যের পানাম নগরী

প্রকাশের সময় : 2020-11-26 12:34:37 | প্রকাশক : Administration
ঐতিহ্যের পানাম নগরী

শিপংকর শীলঃ ঢাকার পার্শ্ববর্তী নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁয়ে ইতিহাস বিজরিত পানাম নগর অবস্থিত। এখানকার স্থাপত্য আর ঐতিহাসিক নিদর্শন মনে করিয়ে দেয় বাঙালির অতীত ইতিহাস। যারা ইতিহাস -ঐতিহ্যের স্বাক্ষী হতে চান তারা ঘুরে আসতে পারেন এ নগরে। বারো ভুঁইয়াদের প্রধান প্রতাপশালী ঈশা খাঁ ১৫ শতকের শুরুর দিকে সোনারগাঁয়ে বাংলার প্রথম রাজধানী স্থাপন করেন।

ওই সময়ে ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানির বাণিজ্যিক কার্যক্রম ও চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের ফলে ইউরোপীয় অনুপ্রেরণায় নতুন ঔপনিবেশিক স্থাপত্যরীতিতে গড়ে উঠে পানাম নগরী। পরবর্তী সময়ে অর্থাৎ উনিশ শতকে কিছু ধনী হিন্দু ব্যবসায়ী পানাম নগরে নিজেদের আবাসস্থল গড়ে তোলেন। ব্রিটিশ আমলে নদীপথ দিয়ে পানাম নগরে বিলেত থেকে থান কাপড় আসত আর দেশ থেকে যেত মসলিন কাপড়।

ওই সময় সোনারগাঁ সুতিবস্ত্রের, প্রধানত ইংলিশ থান কাপড়ের ব্যবসা কেন্দ্রে পরিণত হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গড়ে তোলা হয় পানাম নগর। ঢাকা থেকে ২৭ কিলোমিটার দূরে ২০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে এ নগরী বিস্তৃত। ভবনগুলোর নির্মাণশৈলীতে মুগ্ধ হবেন যে কেউ। পানাম নগরী জুড়ে রহস্য ছড়িয়ে আছে।

প্রায় প্রত্যেকটা ধ্বংসস্তুপে জড়িয়ে আছে একেকটা কাহিনী। তবে ধ্বংস্তূপ হলেও এখনও ভবনগুলো দেখার মতো। প্রায় ৪৫০ বছর আগে এ নগরী কতটা সমৃদ্ধ ছিল, তা বারবার ভাবতে বাধ্য করে রাস্তার দু'পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ভবনগুলো। পানাম নগরের পথে হাঁটতে হাঁটতে ঈশা খাঁর আমলের কথা মনে হওয়া খুবই স্বাভাবিক।

প্রতিটি ভবনের নান্দনিক কারুকাজ ও আভিজাত্যের ছোঁয়া এখনও অনুভব করা হয়। পানাম নগরীর ভেতরে রাস্তার দু’ধারে রয়েছে ৫২টি বাড়ি । যার মধ্যে রাস্তার উত্তর পাশে ৩১টি এবং দক্ষিণ দিকে রয়েছে ২১ টি ভবন। এছাড়া মসজিদ, মন্দির, মঠ, গির্জা, নাচঘর, চিত্রশালা, পান্থশালা, দরবারখানা, গোসলখানা এবং গুপ্তপথও রয়েছে এ নগরে।

ভিন্ন ভিন্ন কারুকাজে নির্মিত পানাম নগরের কোনো ভবন এক তলা, কোনোটি দুইতলা, কোনোটি আবার তিনতলা বিশিষ্ট । ২০০৬ সালে ‘ওয়ার্ল্ড মনুমেন্ট ফান্ডে’র তৈরি বিশ্বের ধ্বংসপ্রায় ১০০টি ঐতিহাসিক স্থাপনার তালিকায় পানাম নগর স্থান পেয়েছে। নগরটি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের অধীনে হলেও এর দেখাশোনার কাজ করে স্থানীয় প্রশাসন।

বর্তমানে এখানকার নিরাপত্তার কাজে দুই জন আনসার সদস্য নিয়োজিত আছেন। গুলিস্তান থেকে সোনারগাঁয়ের বাসে উঠে মোগড়া পাড়া মোড়ে নামতে হবে। সেখান থেকে সিএনজি চালিত অটোরিকশা বা ইজিবাইকে করে যাওয়া যাবে পানাম নগর। -সমকাল

 

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ সরদার মোঃ শাহীন,
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ রফিকুল ইসলাম সুজন,
বার্তা সম্পাদকঃ ফোয়ারা ইয়াছমিন,
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ আবু মুসা,
সহঃ সম্পাদকঃ মোঃ শামছুজ্জামান

প্রকাশক কর্তৃক সিমেক ফাউন্ডেশন এর পক্ষে
বিএস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড,
ওয়ারী, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ হতে প্রকাশিত।

বানিজ্যিক অফিসঃ ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২,
উত্তরা, ঢাকা,
ফোন: ০১৯১২৫২২০১৭, ৮৮০-২-৭৯১২৯২১
Email: simecnews@gmail.com