প্লাস্টিকমুক্ত গ্রাম গড়ে নতুন প্রভাতের সূচনা

প্রকাশের সময় : 2020-11-26 12:36:41 | প্রকাশক : Administration
প্লাস্টিকমুক্ত গ্রাম গড়ে নতুন প্রভাতের সূচনা

সিমেস্ক ডেস্কঃ কখনও বাড়ি বাড়ি গিয়ে সবাইকে বোঝাচ্ছেন। আবার কখনও বৈঠক করছেন পাড়ায় পাড়ায়। আবার কখনও কখনও রাস্তা-ঘাটেও পরামর্শ দেন তিনি। প্রতিদিন কাজের ফাঁকে ফাঁকে গ্রামের নিরক্ষর, অর্ধশিক্ষিত বা অশিক্ষিত মানুষগুলোকে সচেতন করে তোলার মহান ব্রত নিয়ে মাঠে নেমেছিলেন কলকাতার উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার প্রভাতী বিশ্বাস। তার উদ্দেশ্য ছিল প্লাস্টিক ব্যবহার বন্ধ করার সঙ্গে সঙ্গে প্লাস্টিকের যত্রতত্র ফেলা রোধ করা।

সেই উদ্দেশ্যকে মূলমন্ত্র করে কয়েকজন মহিলাকে সঙ্গে নিয়ে একটি দল গঠন করেন বাগদার প্রভাতী। প্রভাতীর বয়স ৫৮ হলে কী হবে কাজে, সাহসিকতায়, উৎসাহে আর সমাজ পরিবর্তনে প্রভাতী যেন চিরযুবা। প্লাস্টিকমুক্ত গ্রাম গড়ে নতুন প্রভাতের সূচনা করেছেন তিনি। প্রভাতী ও তার দলের প্রতিটি সদস্য বাড়ি বাড়ি গিয়ে বোঝান সবাইকে। প্লাস্টিক ব্যবহারের ফলে গ্রামে জ্বর-ডেঙ্গু-ম্যালারিয়া ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তা থেকে মুক্তি পেতে প্রথমে প্লাস্টিক বর্জন করতে হবে। কারণ গ্রামের প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই প্লাস্টিকের ব্যবহার দেখা যায়। কোনও বাড়ির উঠানে, কলপাড়ে বা বাড়ির চারিপাশে প্লাস্টিক পড়ে থাকে। প্রভাতীরা বাড়িতে ঢুকে তাদের কাছ থেকে বস্তা চেয়ে নিয়ে নিজেরাই সেই সব প্লাস্টিক কুঁড়িয়ে বস্তাবন্দি করেন। দু’বছর ধরে প্রভাতীর লাগাতার চেষ্টায় বাগদা ব্লকের সিন্দ্রাণী গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দারা প্লাস্টিকের ব্যবহার নিয়ে সচেতন হয়েছেন।

বেশির ভাগ বাড়িতে এখন আর প্লাস্টিক যত্রতত্র পড়ে থাকে না। আর এ সবের ফলে এলাকায় মশাবাহিত রোগের প্রকোপও কমেছে। এজন্য প্রভাতীকেই কৃতিত্ব দিচ্ছেন প্রশাসনের কর্তারা। প্রভাতীর বিয়ে হয়েছে নদিয়ার ধানতলা থানার শঙ্করপুরে। সিন্দ্রাণী এলাকায় হেলথ সুপারভাইজার হিসাবে কাজ করেন তিনি। পেশাগত কারণে তাকে গ্রামের বাড়ি বাড়ি ঘুরতে হয়। মানুষের শরীর স্বাস্থ্য সম্পর্কে খোঁজ খবর রাখতে হয়।

সেই সূত্রে আগে থেকেই গ্রামের মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। সেই পরিচিতি কাজে লাগিয়ে প্লাস্টিকমুক্ত পঞ্চায়েত গড়ার কাজ করে চলেছেন তিনি। প্লাস্টিক নিয়ে কাজ করাটা তার পেশাগত ডিউটির মধ্যে পড়ে না। এলাকার মানুষের মধ্যে শৌচাগার ব্যবহার নিয়ে সচেতনতা গড়ে তোলার কাজও তিনি করেছেন। সফলও হয়েছেন।

বছর দু’য়েক আগে সিন্দ্রাণীসহ বাগদা ব্লকে জ্বর-ডেঙ্গুর প্রকোপ ছড়ায়। প্রশাসনের কর্তারা কারণ অনুসন্ধান করে বুঝতে পারেন জ্বর-ডেঙ্গুর প্রকোপের অন্যতম কারণ প্লাস্টিকের যথেচ্ছ ব্যবহার। কীভাবে প্লাস্টিকের ব্যবহার বন্ধ করা যায়, তা নিয়ে অলোচনা করতে প্রশাসনিক বৈঠকে বসেন কর্তারা। সেখানে নিজে থেকে হাজির হয়ে প্রভাতী জানান, তাকে দায়িত্ব দেওয়া হলে তিনি মানুষকে সচেতন করতে পারবেন।

প্রশাসনের কর্তারা প্রভাতীর ওপর ভরসা রাখেন। শুরু হয় কাজ। প্রভাতী বেছে নেন একটি বড় গ্রাম, পাথুরিয়া। আশাকর্মী, স্বনির্ভর গোষ্ঠীর নারী, আইসিডিএস, এনএমএস-সহ সমস্ত সরকারি প্রকল্পে কাজ করা নারীদের নিয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষকে প্লাস্টিকের ব্যবহারের ক্ষতিকারক দিক সম্পর্কে বোঝানো শুরু করেন তিনি। সেই সঙ্গে নিজেরা প্লাস্টিক কুঁড়াতে থাকেন।

এক বাড়িতে তিনি বেশ কয়েকবার যান। এখনও যাচ্ছেন। এখন পর্যন্ত তিনি সিন্দ্রাণী গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রায় নয় হাজার বাড়িতে গিয়ে সচেতনার কাজ করেছেন। প্লাস্টিকে পানি জমে এডিস মশার লার্ভা জন্মায়। সেটাও তিনি হাতে কলমে মানুষকে দেখিয়ে দিচ্ছেন। মানুষ এডিসের লার্ভাও চিনতে শিখেছেন। এখন আর গ্রামবাসী ঘরের বাইরে প্লাস্টিক ফেলে রাখেন না। বস্তাবন্দি করে রাখেন। সরকারি গাড়ি গিয়ে সেই প্লাস্টিক সংগ্রহ করে আনে।  

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, সিন্দ্রাণী পঞ্চায়েত এলাকাকে প্লাস্টিকমুক্ত করতে এলাকায় সলিডওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্ল্যান্ট তৈরি করা হয়েছে। বাড়ি বাড়ি থেকে সংগ্রহ করা প্লাস্টিক প্ল্যান্টে এনে তা দিয়ে ইকো-ইট তৈরি করা হচ্ছে। বাগদা ব্লকের স্যানেটারি সুপারভাইজার নির্মল চক্রবর্তী বলেন, ‘গ্রামের মানুষের মধ্যে প্লাস্টিকের ব্যবহার না করা নিয়ে সচেতনার ভিতটা তৈরি করে দিয়েছেন প্রভাতীরা।’

সিন্দ্রাণী এলাকায় এখন জ্বর-ডেঙ্গুর প্রকোপ কমেছে অনেকটাই। উল্লেখযোগ্যভাবে প্লাস্টিকের ব্যবহার কমেছে। মানুষ সচেতন হয়েছেন, এ সব সম্ভব হয়েছে প্রভাতীর কাজের জন্য। ওঁনার মধ্যে মানুষকে বোঝানোর বিশেষ ক্ষমতা রয়েছে। নিজের পেশার বাইরে এমন কাজ সত্যিই প্রশংসনীয়। কিছুদিন পরে প্রভাতী অবসর নেবেন। এখনও উনি প্রবল উৎসাহে কাজ করছেন।

প্রভাতীর কথায়, ‘মানুষ সচেতন হয়েছেন এটা দেখেই আনন্দ হয়। এভাবেই কাজ করে যেতে চাই। গোটা বাগদা ব্লক প্লাস্টিকমুক্ত হয়েছে এমনই স্বপ্ন দেখি।’ আসুন আমরাও প্রভাতির মত উদ্যোগ নেই। - সূত্রঃ রাইজিংবিডিডটকম

 

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ সরদার মোঃ শাহীন,
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ রফিকুল ইসলাম সুজন,
বার্তা সম্পাদকঃ ফোয়ারা ইয়াছমিন,
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ আবু মুসা,
সহঃ সম্পাদকঃ মোঃ শামছুজ্জামান

প্রকাশক কর্তৃক সিমেক ফাউন্ডেশন এর পক্ষে
বিএস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড,
ওয়ারী, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ হতে প্রকাশিত।

বানিজ্যিক অফিসঃ ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২,
উত্তরা, ঢাকা,
ফোন: ০১৯১২৫২২০১৭, ৮৮০-২-৭৯১২৯২১
Email: simecnews@gmail.com