মন্দাকাল কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে অর্থনীতি

প্রকাশের সময় : 2021-01-20 14:16:12 | প্রকাশক : Administration
মন্দাকাল কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে অর্থনীতি

মাসুদ রুমীঃ করোনাভাইরাস মহামারির কারণে ভয়ংকর আর্থিক মন্দার সাক্ষী ২০২০ সাল। বিশ্ব অর্থনীতির ইতিহাসে ১৯৩০ সালের মহামন্দার পর সবচেয়ে বড় মন্দার মুখোমুখি এই গ্রহের মানুষ। এই আঘাত বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও পড়েছে। অসংখ্য মানুষের রুটি-রুজিতে টান পড়েছে, ব্যাপকভাবে কর্মী ছাঁটাই হয়েছে।

অনেকে কাজ হারিয়ে গ্রামে চলে গেছে। মুখ থুবড়ে পড়েছে উৎপাদনশীলতাও। ব্যবসায়ীদের দৃষ্টিতে বছরটি বেঁচে থাকার, ব্যবসা করার নয়। এমন নেতিবাচক খবরের মধ্যেই আশার আলো দেখছে বাংলাদেশ। গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা শনাক্ত হওয়ার পর সংক্রমণ মোকাবেলায় ২৬ মার্চ থেকে টানা ৬৬ দিন সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়।

অঘোষিত এই লকডাউনে জরুরি সেবা, কাঁচাবাজার, নিত্যপণ্য ও ওষুধের দোকান ছাড়া সব বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে অর্থনীতি বাঁচাতে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সীমিত পরিসরে স্বাস্থ্যবিধি মেনে দোকানপাট, শপিং মল খুলে দেওয়া হয়। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চালু হয় গণপরিবহন। করোনাভীতি কাটিয়ে মানুষ শামিল হয় জীবিকার মিছিলে।

আর নিষেধাজ্ঞা শিথিল ও প্রণোদনা প্যাকেজের কারণে ক্রমেই গতি ফিরতে থাকে ব্যবসা-বাণিজ্যে। অর্থনীতি সচল রাখার যুদ্ধে বড় ভূমিকা রাখে কৃষি খাত ও প্রবাসী আয়। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে একের পর এক রেকর্ড হতে থাকে। শক্তিশালী কৃষি খাত তুলনামূলক শক্ত অবস্থানে থেকে অর্থনীতিকে সহায়তা দেয়। এখন ধীরে ধীরে কাটছে অনিশ্চয়তার মেঘ। এর প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে সামষ্টিক অর্থনীতির বিভিন্ন সূচকে।

আশা করা যায় ২০২১ সালের শেষের দিকে গিয়ে করোনার প্রভাব কাটিয়ে উঠে স্বাভাবিক অর্থনীতির গতিধারা ফিরে পাবে। সাধারণ মানুষের টিকে থাকার ক্ষমতা অর্থনীতির জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ, সেটা নতুন করে উপলব্ধি করা গেছে। করোনা অভিঘাত মোকাবেলায় সাময়িক ব্যর্থতা, ধীরে ধীরে সেই সক্ষমতা অর্জন, দুর্নীতি আর বৃহৎ অবকাঠামো নির্মাণ-সক্ষমতাই ছিল ২০২০ জুড়ে আলোচনায়।

অন্যদিকে যুগপৎভাবে চীন ও ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক ব্যবস্থাপনায় সরকারের বিচক্ষণতা, সংকট মোকাবেলায় স্থানীয় প্রশাসনের শক্তিশালী ভূমিকাও প্রশংসিত হয়েছে। সংকট মোকাবেলায় সরকারের সামগ্রিক সক্ষমতাও বেড়েছে। বিদেশে শ্রমিক যাওয়া প্রায় ৭০ শতাংশ কমে গেলেও প্রবাসী আয় আরো কিছু দেশের মতো অনেক বেড়েছে। বেড়েছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ।

প্রযুক্তি অবকাঠামো থাকার কারণে এ সংকটকালে ই-কমার্সের প্রসার ঘটেছে। সুপারশপ, হোম ডেলিভারি, ফার্মেসি ব্যবসার প্রসার ঘটেছে। ব্যবসার রূপান্তরে ও ব্যক্তিজীবনে প্রযুক্তির ব্যবহার বহুগুণ বেড়েছে। বেড়েছে স্মার্টফোন, ইন্টারনেটের ব্যবহার ও বাসায় থেকে অফিসের কাজ। এসবই অর্থনীতিকে জেগে উঠতে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে।

মহামারির মধ্যেই চলতি অর্থবছরে মাথাপিছু জিডিপিতে (মোট দেশজ উৎপাদন) ভারতকে ছাড়িয়ে যাবে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের মাথাপিছু জিডিপি হবে এক হাজার ৮৮৮ ডলার, ভারতের এক হাজার ৮৭৭ ডলার। এ ছাড়া এই সূচকে দক্ষিণ এশিয়ায় শীর্ষ এবং এশিয়ার মধ্যে চতুর্থ হতে চলেছে বাংলাদেশ। মন্দার মধ্যেও এমন পূর্বাভাসের কারণে আলোচনায় ছিল বাংলাদেশের অর্থনীতি।

করোনার মধ্যে অন্যান্য দেশ যেখানে ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধিতে যাচ্ছে, সেখানে বাংলাদেশ একটা ইতিবাচক প্রবৃদ্ধিতে আছে। এটা স্বস্তির বিষয়। করোনা সংকটের মধ্যেই বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৪৩ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছে। রেমিট্যান্স, রপ্তানি আয় ও বৈদেশিক ঋণ সহায়তার ওপর ভর করে রিজার্ভ এই উচ্চতায় পৌঁছেছে।

করোনাকালে অর্থনীতির চাঁকা সচল রাখতে বড় ভূমিকা রেখে চলেছে কৃষি। মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) ১৫.৪৪ শতাংশ অবদান কৃষি ও সেবা খাতের। কর্মসংস্থানেও বড় ভূমিকা রাখছে খাতটি। আয় কমে যাওয়ায় শহরত্যাগী মানুষগুলোকেও ধারণ করেছে গ্রামীণ অর্থনীতি।

অন্যদিকে করোনায় বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার মাঝেও ভালো অবস্থায় আছে দেশের পুঁজিবাজার। চলতি বছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর মাসে পুঁজিবাজারের উত্থানে এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে শীর্ষে বাংলাদেশ। এমনকি ২৪.৪ শতাংশ উত্থানের মধ্য দিয়ে বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভালো করেছে বাংলাদেশের পুঁজিবাজার।

রাজস্ব আহরণ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শোচনীয় অবস্থায় থাকলেও অক্টোবর ও নভেম্বরে প্রবৃদ্ধি ইতিবাচক হয়েছে। এ ছাড়া ব্যাংকব্যবস্থা থেকে সরকারের ঋণ বেড়েছে। কমেছে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি। অর্থনীতি জাগিয়ে তুলতে এ পর্যন্ত মোট এক লাখ ২০ হাজার কোটি টাকার ২১টি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে, যা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৩.৭ শতাংশ। - সূত্রঃ অনলাইন

 

সম্পাদক ও প্রকাশক: সরদার মোঃ শাহীন
উপদেষ্টা সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম সুজন
বার্তা সম্পাদক: ফোয়ারা ইয়াছমিন
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: আবু মুসা
সহ: সম্পাদক: মোঃ শামছুজ্জামান

প্রকাশক কর্তৃক সিমেক ফাউন্ডেশন এর পক্ষে
বিএস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড,
ওয়ারী, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ হতে প্রকাশিত।

বানিজ্যিক অফিস: ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা।
বার্তা বিভাগ: বাড়ি # ৩৩, রোড # ১৫, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা।
ফোন: ০১৯১২৫২২০১৭, ৮৮০-২-৭৯১২৯২১
Email: simecnews@gmail.com