ডিজিটালের পথচলায় বদলে যাওয়া বাংলাদেশ

প্রকাশের সময় : 2021-02-03 16:17:46 | প্রকাশক : Administration
ডিজিটালের পথচলায় বদলে যাওয়া বাংলাদেশ

গল্পের শুরুটা ১২ বছর পূর্বের। যখন বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের একজন মানুষকে সরকারি-বেসরকারি সেবা গ্রহণের জন্য শহরে যেতে হত, লাইনে দাঁড়িয়ে কিংবা দালালের বিড়ম্বনার শিকার হয়ে আর্থিক ভোগান্তিতে পড়তে হত, সেবা পেতে সময় লাগতো অনেক, দিনের পর দিন, কখনো মাসের পর মাস। সন্তান কিংবা আত্মীয় বিদেশে থাকলে তার সঙ্গে কথা বলার জন্য নাগরিকদের ছুটে যেতে হত গঞ্জের টেলিফোন দোকানে। তাও মাত্র একটা ফোন কলের জন্য দীর্ঘ লাইন। যখন এদেশের অধিকাংশ মানুষ মোবাইল ব্যবহার করত না, ইন্টারনেট সম্পর্কে ধারণা রাখতো না, এগিয়ে যাওয়া বিশ্বের সঙ্গে তাল মেলানোকে ভাবতো বিলাসিতা কিংবা স্বপ্ন। ঠিক তখনই যাত্রা শুরু হয় ডিজিটাল বাংলাদেশের পথচলা।

যে পথচলার প্রেরণায় রয়েছে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মনির্ভরশীল এবং আধুনিক সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন। সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০৮ সালের ১২ ডিসেম্বর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপরেখা তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের নির্দেশনায় সেই রূপরেখাকে গত ১২ বছরে বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে বিশ্বের কাছে বাংলাদেশকে একটি ডিজিটাল দেশের রোল মডেল হিসেবে উপস্থাপন করতে সক্ষম হয়েছে।

নাগরিকদের জীবনমান উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন এবং সহজেই নাগরিক সেবা প্রাপ্তি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ব্যবস্থাপনা, কর্মপদ্ধতি, শিল্প-বাণিজ্য ও উৎপাদন, অর্থনীতি, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনধারা ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরিচালনা করার লক্ষ্যেই এই ডিজিটাল বাংলাদেশের পথচলা শুরু হয়। এতে দেশের প্রতিটি নাগরিকের কাছে প্রযুক্তি যেমন করে সহজলভ্য হয়েছে তেমনি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছেও প্রযুক্তি নির্ভর সেবা পৌঁছে গেছে। সকল নাগরিক সেবা ও জীবনযাপন পদ্ধতিতে প্রযুক্তি হয়ে উঠেছে এক বিশ্বস্ত মাধ্যম। এখন মোবাইল ফোন বা অনলাইনে অভ্যস্ত হয়ে উঠছে দেশের মানুষ।

গত কয়েক বছরে দেশের তথ্যপ্রযুক্তি উন্নয়নে এক যুগান্তকারী বিপ্লব ঘটেছে। ২০০৯ সালের আগে বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা যেখানে ১০ লাখ ছিল, সেখানে বর্তমানে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১০ কোটির অধিক। আমাদের নিবিড় প্রচেষ্টায় বর্তমানে পুরো দেশ একই নেটওয়ার্কের আওতায় চলে এসেছে। সারাদেশে ফাইবার অপটিক্যাল ক্যাবল সংযোগের মাধ্যমে ৩৮০০ ইউনিয়নে ইন্টারনেট সংযোগ স্থাপন করা হয়েছে এবং ১৮ হাজার ৫০০টি সরকারি অফিসকে একই নেটওয়ার্কের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে।

এত সহজে সরকারি সেবা সম্পর্কে জানার বিষয়টি ১২ বছর আগে মানুষ চিন্তাও করতে পারেনি। জনগণের দোরগোড়ায় সহজে, দ্রুত ও স্বল্প ব্যয়ে সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে ২০১০ সালের ১১ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের ৪৫০১টি ইউনিয়নে একযোগে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার উদ্বোধন করেন। এই সেন্টার থেকে গ্রামীণ জনপদের মানুষ খুব সহজেই তাদের বাড়ির কাছে পরিচিত পরিবেশে জীবন ও জীবিকাভিত্তিক তথ্য ও প্রয়োজনীয় সেবা পাচ্ছেন।

ডিজিটাল সেন্টার সাধারণ মানুষের জীবনমান সহজ করার পাশাপাশি দৃষ্টিভঙ্গিও বদলে দিয়েছে। মানুষ এখন বিশ্বাস করে, ঘরের কাছেই সকল ধরণের সেবা পাওয়া সম্ভব। মানুষের এই বিশ্বাস অর্জন ডিজিটাল বাংলাদেশের পথচলায় সবচেয়ে বড় পাওয়া। কেবল স্থানীয় সেবাই নয়, প্রযুক্তি নির্ভর কর্মসংস্থান তৈরির পাশাপাশি দক্ষ জনবল তৈরি হচ্ছে দেশে। এর ফলে আন্তর্জাতিক পরিসরে ফ্রিল্যান্সিং করেও তরুণরা উপার্জন করছে বৈদেশিক মুদ্রা।

বিগত ১২ বছর ধরে সরকারের তথ্যপ্রযুক্তির নানা উদ্যোগের ফলে শিক্ষা কার্যক্রম এখন অনেকাংশেই সহজতর হয়েছে। পেয়েছে বৈশ্বিক মান। প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থার পাশাপাশি বিভিন্ন কারিগরি ও অনলাইন প্রযুক্তিগত ডিজিটাল জ্ঞান তৈরি করছে নানা কর্মসংস্থান। ‘তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষা নয়, শিক্ষায় তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার’-এই স্লোগানকে সামনে রেখে দেশের সব মাধ্যমিক ও প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চালু করা হয়েছিল মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম। এ প্ল্যাটফর্মগুলোর ফলে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা বিভিন্ন অনলাইন কন্টেন্ট থেকে নিত্য নতুন জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি একটি সমৃদ্ধ জাতি গঠনে বিশেষ ভূমিকা রাখছে।

করোনার মতো মহামারির সময়েও দেশব্যাপী লকডাউনে শিক্ষার্থীদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রম যেন থেমে না যায় সেজন্য তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সহযোগিতায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে প্রাথমিক, মাধ্যমিক, মাদ্রাসা এবং কারিগরি পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি করা হয়েছে, যা সংসদ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে দেশব্যাপী সম্প্রচার করা হচ্ছে।

২০০ বছরেরও অধিককাল ধরে বিদ্যমান বিচারিক কার্যক্রমের ডিজিটালাইজেশনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় তৈরি করা হয়েছে বিচার বিভাগীয় বাতায়ন। যার মাধ্যমে উচ্চ ও অধস্তন আদালতের বিচার বিভাগের সকল কার্যক্রম নথিভুক্ত থাকবে। এছাড়া করোনাকালীন সময়ে ভার্চুয়াল কোর্ট সিস্টেম প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ৮৭টি নিম্ন আদালতে বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

তথ্যপ্রযুক্তি দেশের অর্থনৈতিক কার্যক্রমে এনে দিয়েছে নতুন মাত্রা। মোবাইল ব্যাংকিংয়ের ফলে দ্রুত দেশের যেকোনো প্রান্তে অর্থনৈতিক লেনদেনের সুবিধা সাধারণ মানুষের জীবনে এনে দিয়েছে স্বস্তি। তথ্যপ্রযুক্তির অগ্রগতির ফলে স্টার্টআপ সংস্কৃতির বিস্তৃতি ঘটেছে। নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে সরকারি সহায়তা প্রদানের জন্য তৈরি করা হয়েছে ‘স্টার্টআপ বাংলাদেশ’ প্ল্যাটফর্ম। ইতোমধ্যে শতাধিক স্টার্টআপকে সরকারিভাবে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে।

কৃষি প্রধান বাংলাদেশে এই ক্ষেত্রেও প্রযুক্তির ছোঁয়া বদলে দিয়েছে কৃষকের জীবন। তথ্যপ্রযুক্তিগত সেবা ‘কৃষি বাতায়ন’ এবং ‘কৃষক বন্ধু কলসেন্টার’ চালু করা হয়েছে। সরকারের বিভিন্ন কৃষি বিষয়ক সেবাগুলোর জন্য কলসেন্টার হিসেবে কাজ করছে ‘কৃষক বন্ধু’ (৩৩৩১ কলসেন্টার)। ফলে সহজেই কৃষকেরা ঘরে বসে বিভিন্ন সেবা গ্রহণ করতে পারছেন। ‘কোভিড-১৯’ এ যখন সমগ্র বিশ্ব ব্যবস্থা স্থবির। এই মহামারি পরিস্থিতি মোকাবেলায় উন্নত দেশগুলো হিমসিম খাচ্ছিলো। তখনও বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন ডিজিটাল উদ্যোগ মানুষকে দেখিয়েছে নতুন পথ, যুগিয়েছে প্রেরণা। সরকারি অফিসগুলোতে চালুকৃত ই-নথি ব্যবস্থা সেবা কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করেছে। করোনা মহামারির সময়ে ৩০ লাখের অধিক ই-নথি সম্পন্ন হয়েছে। এতে করে সরকারি সেবা কার্যক্রম নাগরিকের কাছে আরও সহজে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়েছে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সেবাকে আরও ত্বরান্বিত করতে চালু করা হয়েছে স্পেশালাইজইড টেলিহেলথ সেন্টার। পাশাপাশি গর্ভবতী ও মাতৃদুগ্ধদানকারী মা ও শিশুর নিরবচ্ছিন্ন স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে মা টেলিহেলথ সেন্টার সার্ভিস তৈরি করা হয়েছে, এর মাধ্যমে লক্ষাধিক মা ও শিশুকে সেবা প্রদান করা হয়েছে। প্রবাসী বাংলাদেশীদেরও প্রবাস বন্ধু কলসেন্টারের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করে আসছে। প্রযুক্তি নির্ভর বাজার ব্যবস্থায় ফুড ফর নেশনের মতো প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সারাদেশের উদ্যোক্তাদেরকে যুক্ত করা হয়েছে। করোনা ট্র্যাকার বিডি মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাসমূহ চিহ্নিতকরণের কাজ করছে। এছাড়াও গুজব ও অসত্য তথ্য রোধে দেশব্যাপী সত্যমিথ্যা যাচাই আগে ইন্টারনেটে শেয়ার পরে ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হয়েছে।

হাই-টেক শিল্পের বিকাশ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য সরকার ৩৯টি হাই-টেক পার্ক ও সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক স্থাপন করছে। এগুলো নির্মাণ সম্পন্ন হলে ৩ লাখের বেশি মানুষের কর্মসংস্থান হবে। ২০২৫ সালের মধ্যে ২৪০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত করা হয়েছে। ইতোমধ্যে চালুকৃত ৫টি পার্কে ১২০টি প্রতিষ্ঠান ৩২৭ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে এবং আইটিতে দক্ষ ১৩ হাজারের অধিক কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে।

করোনাকালীন সময়ে আইসিটি বিভাগের সহযোগিতায় সারাদেশের ১ লাখ ১০ হাজার গুরুত্বপূর্ণ স্থান গুগল ম্যাপ ও ওপেন স্ট্রিট ম্যাপে যুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫ হাজার হাসপাতাল, ১৬ হাজার ফার্মেসি এবং ২০ হাজার মুদি দোকান সন্নিবেশিত করার পাশাপাশি ৮৭০টি রাস্তা ম্যাপে যুক্ত হয়েছে। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের মোকাবিলায় বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাত দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নসহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়নে জোর দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ-প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় রাজধানীর আইসিটি টাওয়ারে ই-গভর্নমেন্ট মাস্টার প্ল্যান রিপোর্ট প্রকাশ অনুষ্ঠানে বলেন, “ডিজিটাল সেবার বিস্তৃতি ও উন্নতি ঘটিয়ে বাংলাদেশ আগামী পাঁচ বছরে জাতিসংঘের ই-গভর্ন্যান্স উন্নয়ন সূচকে সেরা ৫০টি দেশের তালিকায় থাকবে।”

বর্তমান সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশের যে স্বপ্ন নিয়ে দেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে, তা শুধু স্বপ্ন বা   স্লোগানই নয়, বরং তা আজ দৃশ্যমান। যার সুফল ভোগ করছে দেশের প্রতিটি মানুষ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা অনুযায়ী ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যের অন্যতম মাধ্যম তথ্যপ্রযুক্তির অবাধ প্রবাহ।

বিগত ১২ বছরের ডিজিটাল বাংলাদেশের পথচলা আমাদের আত্মবিশ্বাসী করেছে। মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করেছে। এদেশের তরুণরা এখন কেবল স্বপ্ন দেখে না, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নও করতে জানে। এখন গর্ব করেই বলা যায়, বাংলাদেশের এই অদম্য যাত্রায় অচিরেই গড়ে উঠবে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের স্বনির্ভর ও আত্মপ্রত্যয়ী বাংলাদেশ। সংকলিত লেখক: এমপি, প্রতিমন্ত্রী, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ

 

সম্পাদক ও প্রকাশক: সরদার মোঃ শাহীন
উপদেষ্টা সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম সুজন
বার্তা সম্পাদক: ফোয়ারা ইয়াছমিন
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: আবু মুসা
সহ: সম্পাদক: মোঃ শামছুজ্জামান

প্রকাশক কর্তৃক সিমেক ফাউন্ডেশন এর পক্ষে
বিএস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড,
ওয়ারী, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ হতে প্রকাশিত।

বানিজ্যিক অফিস: ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা।
বার্তা বিভাগ: বাড়ি # ৩৩, রোড # ১৫, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা।
ফোন: ০১৯১২৫২২০১৭, ৮৮০-২-৭৯১২৯২১
Email: simecnews@gmail.com