এবার বৃত্তাকার উড়াল ট্রেন

প্রকাশের সময় : 2021-03-03 12:53:22 | প্রকাশক : Administration
এবার বৃত্তাকার উড়াল ট্রেন

মশিউর রহমান খান: রাজধানীর যানজট নিরসনে এবার আসছে সার্কুলার ট্রেন। রাজধানীর চারপাশে মেট্রোরেলের আদলে স্ট্যান্ডার্ডগেজ রেলপথে চলাচল করবে এই ট্রেন। ইতোমধ্যেই খসড়া সম্ভাব্যতা যাচাই প্রতিবেদন জমা দিয়েছে দায়িত্বপ্রাপ্ত পরামর্শক প্রতিষ্ঠান। বিস্তারিত নকশা প্রণয়নের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে।

রাজধানীর চারপাশের এই রেললাইনের দৈর্ঘ্য হবে ৮১ কিলোমিটার। এর মধ্যে ৯.৯ কিলোমিটার হবে আন্ডারগ্রাউন্ড তথা মাটির নিচ দিয়ে। বাকি ৭০.৯৯ কিলোমিটার হবে এলিভেটেড। স্টেশনগুলোর মধ্যে ১২টি হবে ট্রান্সফার স্টেশন ও ১১টি ট্রানজিট স্টেশন। এ ট্রানজিট স্টেশনগুলো বিআরটি (বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট) ও মেট্রোরেলের সঙ্গে যুক্ত করবে। সদরঘাটের স্টেশনটি যুক্ত করবে ইনল্যান্ড ওয়াটারওয়ে তথা নৌপথকে। এসব ট্রানজিট ও ট্রান্সফার লাইনের মাধ্যমে নগরীর যেকোন স্থান থেকে যাত্রীদের এই সার্কুলার ট্রেনে যুক্ত হওয়ার সুযোগ থাকবে। সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৩৭ কোটি ৩০ লাখ ডলার যা বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় ৭১ হাজার কোটি টাকা। আধুনিক বিদ্যুতচালিত এসব ট্রেনের গতি হবে ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার। বিদ্যুতচালিত হওয়ায় এসব ট্রেনে হবে না পরিবেশ দূষণ। রাজধানীর পার্শ্ববর্তী টঙ্গী থেকে চালু হয়ে মোট ২৪টি স্টেশন ঘুরে পুনরায় টঙ্গীতেই গিয়ে থামবে এই ট্রেন। সার্কুলার এই রেলপথের ডিপো হবে ডেমরায় ও স্ট্যাবলিং ইয়ার্ড হবে আশুলিয়া বাইপাইল ত্রিমুখের কাছে। এছাড়া উত্তরা, কামরাঙ্গীরচর ও ডেমরায় হবে বৈদ্যুতিক সাবস্টেশন। যেখান থেকে ট্রেনগুলো চলার জন্য বৈদ্যুতিক চার্জ গ্রহণ করবে।

শুধু সড়কপথে নয় কম সময়ে ও কম খরচে রাজধানীর যে কোন প্রান্ত থেকে প্রবেশ করে আবার নিজের বাসস্থানে ট্রেনে চড়েই যাতে ফিরে যেতে পারেন সেজন্যই এমন উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। উন্নত বিশ্বের মতো শহরের অভ্যন্তরে চলাচলের জন্য শুধু সড়কপথ নয় রেলপথকেই প্রধান বাহন তৈরির অংশ হিসেবে এটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

ফিজিবিলিটি স্টাডি তৈরি করতে সরকারের মোট ২৪ কোটি ৫৬ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়েছে। আগামী ২০২২ সাল নাগাদ সরকার কাজ শুরু করলে ছয় বছর অর্থাৎ ২০২৮ সাল থেকেই নাগরিকগণ এর সুফল ভোগ করতে পারবেন। রাজধানী তথা দেশের অর্থনীতিতে গতি আনতে আশপাশে বসবাসরত নাগরিকদের চলাচল নির্বিঘœ করতেই বর্তমান সরকার এমন বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

মূলত দেশের সকল নাগরিকের জন্য রাজধানীতে প্রবেশের পথ সুগম ও সহজলভ্য করতে চায় বাংলাদেশ রেলওয়ে। যানজটের কারণে সৃষ্ট মেগাসিটি ঢাকায় বসবাসরত ও আসা যাওয়া করা নাগরিকদের হাজার হাজার কোটি টাকার কর্মঘণ্টা প্রতিদিন নষ্ট হচ্ছে। যার প্রভাব সকল নাগরিকের ওপরই পড়ছে। তাই যানজট থেকে নাগরিকদের স্থায়ীভাবে রক্ষা করতেই সরকার মেট্রোরেলের পাশপাশি সার্কুলার রেলপথ তৈরি করছে।

সম্প্রতি সম্ভাব্যতা যাচাই প্রতিবেদন জমা দিয়েছে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে সিউয়ান সার্ভে এ্যান্ড ডিজাইন গ্র“প কোম্পানি। প্রতিবেদনে প্রকল্পটির রুট, সম্ভাব্য ব্যয় ও ভাড়া তুলে ধরা হয়। বৃত্তাকার রেলপথটি টঙ্গী, আব্দুল্ল−াহপুর, ধউর, বিরুলিয়া, গাবতলী, রায়েরবাজার, বাবুবাজার, সদরঘাট, কামরাঙ্গীরচর, পোস্তগোলা, ফতুল্ল−া, চাষাঢ়া, সাইনবোর্ড, শিমরাইল, পূর্বাচল সড়ক, ত্রিমুখ হয়ে টঙ্গীতে পুনরায় যুক্ত হবে।

সড়ক প্রশস্ত না থাকায় গাবতলী, সদরঘাট হয়ে পোস্তগোলা অংশ এবং কামরাঙ্গীরচর-শ্যামপুর অংশ আন্ডারগ্রাউন্ড হবে। অর্থাৎ কিছু অংশ মাটির নিচ দিয়ে নির্মিত হবে। এ রেলপথের স্টেশনগুলো হবে টঙ্গী, বাইপাইল ত্রিমুখ, পূর্বাচল উত্তর, পূর্বাচল, বেরাইদ, ত্রিমোহনী, ডেমরা, সিদ্ধিরগঞ্জ, আদমজী, চিত্তরঞ্জন মোড়, চাষাঢ়া, ফতুল্ল−া, পাগলা, পোস্তগোলা, সদরঘাট, কামরাঙ্গীরচর, রায়েরবাজার, মোহাম্মদপুর, গাবতলী, ঢাকা চিড়িয়াখানা দক্ষিণ, চিড়িয়াখানা, উত্তরা, ধউর ও বিশ্ব ইজতেমা মাঠ। এর মধ্যে সদরঘাট, কামরাঙ্গীরচর ও সিদ্ধিরগঞ্জ স্টেশন তিনটি হবে আন্ডারগ্রাউন্ড। - সূত্র: অনলাইন

 

সম্পাদক ও প্রকাশক: সরদার মোঃ শাহীন
উপদেষ্টা সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম সুজন
বার্তা সম্পাদক: ফোয়ারা ইয়াছমিন
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: আবু মুসা
সহ: সম্পাদক: মোঃ শামছুজ্জামান

প্রকাশক কর্তৃক সিমেক ফাউন্ডেশন এর পক্ষে
বিএস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড,
ওয়ারী, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ হতে প্রকাশিত।

বানিজ্যিক অফিস: ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা।
বার্তা বিভাগ: বাড়ি # ৩৩, রোড # ১৫, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা।
ফোন: ০১৯১২৫২২০১৭, ৮৮০-২-৭৯১২৯২১
Email: simecnews@gmail.com