জাগাতে হবে মানুষকে

প্রকাশের সময় : 2021-04-15 11:49:48 | প্রকাশক : Administration
জাগাতে হবে মানুষকে

অজয় দাশগুপ্ত: এ­­কটা সহজ সাধারণ বিষয় বুঝতে পারছি না। মোদির আসাটা বিষয় হলে তিনি এলেন ঢাকায়, গেলেন গোপালগঞ্জ, সাতক্ষীরা আর মানুষ মরল কিনা হাটহাজারী আর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। সারাদেশে যদি দাঙ্গা-হাঙ্গামা হতো তাহলেও বুঝতাম। দু’একটি জায়গায় এমন উত্তেজনা বলে দেয় কারা এর পেছনে আর কি তাদের উদ্দেশ্য।

গত কয়েকদিনের চরম উত্তেজনা আর সংঘর্ষের ভেতর দিয়ে গেছে বাংলাদেশ। নতুন প্রজন্মের কাছে হরতাল-অবরোধ প্রায় অপরিচিত শব্দ। আমাদের যৌবনের সোনালি দিন তারুণ্যের সুবর্ণকাল কেটেছিল হরতাল-অবরোধ, জ্বালাও-পোড়াও-এর ভেতর। পেছন ফিরে তাকালে দেখি এরশাদ আমল, বেগম জিয়ার আমলে সব সময় লাগাতার হরতাল-অবরোধে জীবন ছিল জড়িত। দিনের পর দিন থেমে যাওয়া জীবন দেশ ও জাতিকে এগোতে দেয়নি। শুধু কি তাই? দেশের মানুষের জীবনও ছিল সব সময় ঝুঁকির মুখে। আজ দেশ শাসনে থাকা আওয়ামী লীগ যখন বিরোধী দলে তারাও কম হরতাল ডাকেনি। রাজনীতির সেই ক্রান্তিকাল হঠাৎই যেন থেমে গেল। ধারাবাহিক দেশ শাসনে শেখ হাসিনা সম্ভব করে তুললেন হরতাল অবরোধহীন বাংলাদেশ।

ভারতের যে অসাম্প্রদায়িক ইমেজ, বহুকাল ধরে গান্ধী ও তাঁর পরবর্তী নেতাদের হাত ধরে উঠে আসা ভারতের সেই ইমেজ আজ বাধাগ্রস্ত। বিজেপির সাম্প্রদায়িক ভাবমূর্তি এর ইন্ধনদাতা। কিন্তু বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবী আর সুধীজনদের কাছে একটা প্রশ্ন রাখতে চাই। উপমহাদেশে অসাম্প্রদায়িকতার দায় কি শুধু ভারতের? আমরা বা প্রতিবেশীরা কি সে দেশে মৌলবাদের বিস্তারে অবদান রাখিনি?

ভারতের এক পাশে পাকিস্তানে কি আসলেই কোনকালে গণতন্ত্র ছিল বা আছে? সেখানে কি সাম্প্রদায়িকতা নেই? সে দেশের নারীরা কি আসলেই ভাল থাকেন? অথচ পাকিস্তানের জন্য এসব বুদ্ধিজীবী ভক্তিতে গদগদ। তাদের দিলে রহমের স্রোত । আজ যদি ইমরান খান আসতেন আপনারা যারা ভাংচুর করছেন, জনগণের সম্পত্তিতে আগুন দিচ্ছেন, রেল স্টেশন জ্বালিয়ে দিচ্ছেন, আপনারা কি ইমরান খান এলে একাত্তরের কথা মনে রেখে বাঙালী গণহত্যা, নারী ধর্ষণের জন্য এমন তান্ডব করতেন?

একবারও বলছি না মোদির ভারতে সবকিছুই ঠিকঠাক। বরং গো মাংসের জন্য যে তান্ডব বা মুসলমানসহ সংখ্যালঘুদের ওপর যে অনাচার তা আতঙ্কের। কিন্তু আপনারা ভুলে গেছেন যে কাজ করে আপনারা রাগ বা প্রতিবাদ দেখাচ্ছেন তার সঙ্গে মূলত ধ্বংস আর দেশবিরোধিতা জড়িয়ে। এর মাধ্যমে নরেন্দ্র মোদি বা ভারতের কিছু হবে না। সেটা আপনারাও ভাল করে জানেন।

আপনাদের মূল টার্গেট আওয়ামী লীগ। শেখ হাসিনা। তাই বঙ্গবন্ধুকে ছাড় দেননি আপনারা। বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে আগুন লাগানো বা বাঁশ লাঠি নয়ে হামলা কেন? কি এর ব্যাখ্যা? বহুদিন থেকে আপনারা চাইছেন শেখ হাসিনার সরকারকে বিপদে ফেলতে। এটা মানি নানা অশান্তি, লুটপাট আর অন্যায় হচ্ছে। তার দায় কি দেশের নিরীহ সংখ্যালঘু নামের গিনিপিগদের, না রেল স্টেশনের নাকি হাটহাজারীর রাস্তার? এগুলোর ওপর আপনাদের কেন

এত আক্রোশ? আপনাদের আক্রোশ মূলত বঙ্গবন্ধুর দেশটির ওপর। ভারতবিরোধিতা বাহ্যিক আবরণ মাত্র। এই অন্ধত্ব মানা যায় না।

যারা জীবন হারালেন তাদের জীবন ফিরিয়ে দিতে পারবেন উস্কানিদাতারা? অথচ এরা কেউ জানে না ২০১৫ সালে মোদির সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে ছবি তুলে ধন্য হয়েছিল মামুনুল হক। আর সুযোগ পেলে এখনও তাই করবে। আমাদের দুর্ভাগ্য ৫০ বছরেও এই অপরাজনীতি শেষ হয়নি। বরং এখন তা আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে।

এর দায় আওয়ামী লীগকেও নিতে হবে। এই দল যে বঙ্গবন্ধুর দল, এই দল যে রাজপথের দল এখন তা বোঝা মুশকিল। এত বড় ঘটনার পরও ব্রাহ্মণবাড়িয়া বা হাটহাজারী মূলত রাজনৈতিক প্রতিরোধহীন। যার কারণ দুটি। প্রথমত, আওয়ামী লীগে এখন আদর্শহীন সুবিধা প্রত্যাশীদের ভিড়। দ্বিতীয়ত, তাদের রাজনৈতিক শক্তি কেড়ে নিয়েছে প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন, ভোটহীন রাজনীতি।

অচিরেই এসব দিকে মনোযোগ দিতে ব্যর্থ হলে দেশের অবস্থা আরও সঙ্গিন হতে বাধ্য। এবার দুর্যোগ কাটাতে পারা মানে কি আগামীবারে তা হবে না? আর সবকিছুর সমাধান কি শেখ হাসিনা একাই দেবেন? নিয়ন্ত্রণ করবে নিয়মিত বাহিনী? মানুষকে ঘুম পাড়িয়ে রাখা উন্নতিতে এমন হবেই। তাই জাগাতে হবে মানুষকে। লেখক : সিডনি প্রবাসী সাংবাদিক, (সংকলিত)

 

সম্পাদক ও প্রকাশক: সরদার মোঃ শাহীন
উপদেষ্টা সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম সুজন
বার্তা সম্পাদক: ফোয়ারা ইয়াছমিন
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: আবু মুসা
সহ: সম্পাদক: মোঃ শামছুজ্জামান

প্রকাশক কর্তৃক সিমেক ফাউন্ডেশন এর পক্ষে
বিএস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড,
ওয়ারী, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ হতে প্রকাশিত।

বানিজ্যিক অফিস: ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা।
বার্তা বিভাগ: বাড়ি # ৩৩, রোড # ১৫, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা।
ফোন: ০১৯১২৫২২০১৭, ৮৮০-২-৭৯১২৯২১
Email: simecnews@gmail.com