মেট্রোরেল এখন বাস্তবতা

প্রকাশের সময় : 2021-05-26 15:50:44 | প্রকাশক : Administration
মেট্রোরেল এখন বাস্তবতা

মেট্রোরেল এখন আর স্বপ্ন নয়, বাস্তবতা। ১১ মে দেশের ইতিহাসে প্রথম বিদ্যুতচালিত ট্রেনের যুগে প্রবেশ করে আরেকটি উন্নয়নের মাইলফলক অতিক্রম করল লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত বাংলাদেশ। রেলপথে নতুন যুগের সূচনা করে অবশেষে ঢাকার বুকে চাকা ঘুরলো দেশের ইতিহাসে প্রথম বৈদ্যুতিক স্বপ্নের লাল-সবুজের মেট্রোরেলের।

১১ মে প্রথম বৈদ্যুতিক ট্রেন মেট্রোরেলের পরীক্ষামূলকভাবে চালিয়ে দেখানো হয়েছে। রাজধানীর উত্তরা দিয়াবাড়ি এলাকায় মেট্রোরেলের ডিপোতে প্রথম মেট্রো ট্রেন সেট বসানো হলো রেলট্র্যাকে। প্রথম মেট্রোরেল প্রকল্পের জন্য জাপান থেকে প্রথম সেটের যে ছয়টি কোচ আনা হয়েছে, সেগুলোকে নিয়ে উত্তরার দিয়াবাড়ি ডিপোতে এই প্রদর্শনী হয়।

১১ মে বেলা ১১টা ৫০ মিনিটের সময় মেট্রোরেলের ডিপোর ‘আনলোডিং এরিয়ায়’ ধীর গতিতে বৈদ্যুতিক এই ট্রেন চালিয়ে দেখানো হয়। জাপান ও বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমকর্মীরা ইলেকট্রিক ট্রেন যুগে প্রবেশের ইতিহাস সৃষ্টির সাক্ষী হন। মেট্রোরেল চালু হলে ঢাকা শহরের গণপরিবহনের চেহারাই পাল্টে যাবে।

বিদ্যুতচালিত বাংলাদেশের প্রথম মেট্রো ট্রেন রেলওয়ে ট্র্যাকে বসেছে। এই মেট্রো ট্রেনের মাধ্যমে বাংলাদেশ একই সঙ্গে বিদ্যুতচালিত ট্রেনের যুগেও প্রবেশ করলো। চলতি বছরের মধ্যে ভায়াডাক্টের ওপরে মূল রেলপথে বৈদ্যুতিক ট্রেনের ‘পারফরম্যান্স টেস্ট’ শুরু করা হবে। এরপর ‘ইন্টিগ্রেটেড টেস্ট’ করা হবে, এরপর ট্রেনের ‘ট্রায়াল রান’ শুরু হবে।

জাপান থেকে প্রকল্প এলাকার পাশের জেটি থেকে উত্তরা মেট্রোরেলের ডিপোতে আনা হয় এই রেল কোচগুলো। বর্তমানে প্রথম মেট্রো ট্রেনসেটের ডিপোতে ফ্যাংশনাল টেস্ট চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় তিন মাস পর অর্থাৎ চলতি বছরের আগস্ট মাসে ভায়াডাক্টের উপরে মেইন লাইনে পারফরম্যান্স টেস্ট শুরু করা হবে। ভায়াডাক্টের টেস্ট সম্পন্ন হওয়ার পর করা হবে সমন্বিত পরীক্ষা। তারপর ট্রায়াল রান।

ছয়টি বগির সেট নিয়ে ট্রেনটি ওয়ার্কশপ থেকে প্রায় ৫০০ মিটার পাড়ি দেয়। এ ট্রেন সম্পূর্ণ বিদ্যুত-চালিত। জাপানের কাওয়াসাকি কোম্পানি ট্রেনগুলোর নির্মাতা। তাদেরই একজন চালক ট্রেনটি চালিয়ে নিয়ে আসেন। এর আগে পর্যায়ক্রমে অনেক সতর্কতার সঙ্গে রাজধানীর উত্তরা দিয়াবাড়ি এলাকায় মেট্রোরেলের ডিপোর রেলওয়ে ট্রাকে বসানো হয় ছয়টি মেট্রোরেলের কোচ।

এই প্রকল্প বাংলাদেশ এবং জাপানের দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার একটি নমুনা। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ডিএমটিসিএল এবং জাইকা দুই পক্ষই মহামারীর মধ্যেও আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত বৈদ্যুতিক এই ট্রেন চালু হলে এর সুফল ভোগ করবে এই রুটের বিপুল কর্মজীবী মানুষ। জাপানি প্রযুক্তিতে তৈরি হওয়া এই পরিবহন ব্যবস্থা নিরাপদ, জ্বালানি সাশ্রয়ী ও পরিবেশ বান্ধব। কোভিড-১৯ মহামারীর মধ্যে এই প্রকল্পটির অসাধারণ অগ্রগতি হয়েছে। উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ভ্রমণ সময় মেট্রোরেল লাইন চালুর মাধ্যমে মাত্র ৩৬ মিনিটে নেমে আসবে।

২০২২ সালে জাপান বাংলাদেশের বন্ধুত্বের ৫০ বছরের সুবর্ণজয়ন্তীতে এই প্রকল্পের উদ্বোধন করা হবে। মেট্রোরেল চালু হলে ঢাকা শহরে বছরে ১ লাখ ৮০ হাজার টনের বেশি কার্বন নিঃসরণ কমাবে। যানজট কমিয়ে যথাসময়ে গন্তব্য পৌঁছাতে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। এই রেলের ছয় কোচের প্রতিটি সেট একসঙ্গে আগে ভাড়া পরিশোধ সিস্টেমে এক হাজার ৭০০ যাত্রী পরিবহন করবে।

আরেক সেট ট্রেন ইতোমধ্যে মংলা বন্দরে এসে পৌঁছেছে। প্রথম ট্রেনটি আগামী আগস্ট মাসে ডিপোর বাইরে উড়ালপথে তোলা হবে। সেখানে প্রথমে পারফরম্যান্স টেস্ট, তারপর সমন্বিত পরীক্ষামূলক চলাচল, তারপর পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষামূলক চলাচল করবে। এমআরটি-৬ প্রকল্পের সকল ক্ষেত্রে বিভিন্ন পর্যায়ের কাজ চলমান রয়েছে। ডিপোর অভ্যন্তরে রেললাইন

 

সম্পাদক ও প্রকাশক: সরদার মোঃ শাহীন
উপদেষ্টা সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম সুজন
বার্তা সম্পাদক: ফোয়ারা ইয়াছমিন
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: আবু মুসা
সহ: সম্পাদক: মোঃ শামছুজ্জামান

প্রকাশক কর্তৃক সিমেক ফাউন্ডেশন এর পক্ষে
বিএস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড,
ওয়ারী, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ হতে প্রকাশিত।

বানিজ্যিক অফিস: ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা।
বার্তা বিভাগ: বাড়ি # ৩৩, রোড # ১৫, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা।
ফোন: ০১৯১২৫২২০১৭, ৮৮০-২-৭৯১২৯২১
Email: simecnews@gmail.com