‘ব্ল্যাক ফাংগাস’ এদেশে আসার সুযোগ নেই

প্রকাশের সময় : 2021-06-09 14:08:01 | প্রকাশক : Administration
‘ব্ল্যাক ফাংগাস’ এদেশে আসার সুযোগ নেই

মারুফুর রহমান অপু: বাংলাদেশে ব্ল্যাক ফাংগাসে আক্রান্ত রোগী পাওয়া গেছে। এই ফাংগাস ভারত থেকে আসে না। একজন থেকে আরেকজনে ছড়ায় না। ব্ল্যাক ফাংগাস আমাদের আশেপাশের পরিবেশেই আছে এবং করোনার অনেক আগে থেকেই ছিলো।

এই ফাংগাসের স্পোর বাতাসে, মাটিতে ও অন্যান্য জৈব পদার্থে থাকে। নিঃশ্বাসের মাধ্যমে এটি মানুষের শরীরে ঢোকে। আমাদের অনেকেই হয়তো এভাবে এই ফাংগাসের সংস্পর্শে এসেছি। কিন্তু কিছু হয়নি আমাদের, কারন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হয়না।

তবে খুবই দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা (সিভিয়ার ইমিউনো সাপ্রেশন) সম্পন্ন ব্যক্তিদের এটা হতে পারে। বিশেষ করে যাদের ডায়াবেটিস অনিয়ন্ত্রিত এবং অপরিমিত স্টেরয়েড সেবন করছেন তাদের। স্টেরয়েডকে জীবন রক্ষাকারী ওষুধ এর ক্যাটেগরিতে ফেলা হয় এর বহুবিধ কার্যকারিতার কারনে। তবে একইসাথে এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও অনেক।

উপজেলায় চাকুরিকালীন সময়ে আমরা দেখতাম অনেক রোগী ব্যথার ওষুধ হিসেবে এটা খাচ্ছেন দীর্ঘদিন ধরে। তাতে ব্যথা কমলেও দেখা যেত চেহারা ফুলে চাঁদের মত গোল হয়ে আছে (মুন ফেস), দুর্বলতা ভর করেছে, ঘন ঘন ইনফেকশন হচ্ছে ইত্যাদি। আমরা স্টেরয়েডের হিস্ট্রি নেবার সময় জিজ্ঞেস করতাম শসার বিচীর মত সাদা ছোট ছোট বড়ি খান কিনা। কোভিডে এ পর্যন্ত যত কার্যকরি চিকিৎসা বের হয়েছে তার মাঝে অন্যতম হলো স্টেরয়েড।

তবে এটি প্রয়োগের নির্দিষ্ট ক্রাইটেরিয়া আছে। সব কোভিড আক্রান্ত রোগীকেই দেয়া হয়না এটা। মৃদু লক্ষণের রোগে কোনভাবেই নয়। বিশেষ কিছু সাইন সিম্পটম থাকলে কোভিড সংক্রমনের একটা নির্দিষ্ট পর্যায়ে নির্দিষ্ট ডোজে এটি দেয়া হয়। সমস্যা হলো আজকাল কোন ওষুধের কার্যকারিতা সম্পর্কে জানা গেলে নিউজ মিডিয়া আর সোশাল মিডিয়ার কল্যানে এমনভাবে প্রচারিত হয় যে রোগীরা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই এগুলো কিনে খাওয়া শুরু করেন।

বাংলাদেশে যেহেতু ওষুধ কিনতে প্রেসক্রিপশন লাগেনা তাই কৃমির ওষুধ হোক আর স্টেরয়েড হোক সবই মানুষ সোশাল মিডিয়া দেখে খাওয়া শুরু করে। কিছু অসাধু চিকিৎসকও আছেন যারা ন্যাশনাল গাইডলাইন ফলো না করে ব্যবসায়িক স্বার্থে কিংবা অজ্ঞতাবশত এইসব ওষুধ ব্যবহারের পরামর্শ দেন কোন ইন্ডিকেশন না থাকলেও। সুতরাং আমাদের সবাইকেই সাবধান হতে হবে।

মনে রাখতে হবে, যেকোন ওষুধই একটি সক্রিয় কেমিকেল। এটি আমাদের শরীরের বিভিন্ন অংশে বিক্রিয়া করে রোগ নিয়ন্ত্রনে সাহায্য করে। সুতরাং চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া স্টেরয়েড, এন্টিবায়োটিক বা যেকোন ওষুধই সেবন থেকে বিরত থাকুন এবং অবশ্যই ডায়াবেটিস বা অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদী রোগ নিয়ন্ত্রণে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন, খাদ্যাভ্যাস ও শরীরচর্চার নিয়মাবলী মেনে চলুন। বিভিন্ন প্রতারক বা কুসংস্কারের পাল্লায় পড়ে আধুনিক চিকিৎসা বাদ দিয়ে বিকল্প চিকিৎসা নিতে যেয়ে শরীরের আরও ক্ষতি করবেন না।

 

সম্পাদক ও প্রকাশক: সরদার মোঃ শাহীন
উপদেষ্টা সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম সুজন
বার্তা সম্পাদক: ফোয়ারা ইয়াছমিন
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: আবু মুসা
সহ: সম্পাদক: মোঃ শামছুজ্জামান

প্রকাশক কর্তৃক সিমেক ফাউন্ডেশন এর পক্ষে
বিএস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড,
ওয়ারী, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ হতে প্রকাশিত।

বানিজ্যিক অফিস: ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা।
বার্তা বিভাগ: বাড়ি # ৩৩, রোড # ১৫, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা।
ফোন: ০১৯১২৫২২০১৭, ৮৮০-২-৭৯১২৯২১
Email: simecnews@gmail.com