কুড়িল থেকে কাঞ্চন ব্রিজ; ৮ লেনের এক্সপ্রেসওয়ে

প্রকাশের সময় : 2021-06-09 14:08:37 | প্রকাশক : Administration
কুড়িল থেকে কাঞ্চন ব্রিজ; ৮ লেনের এক্সপ্রেসওয়ে

আজাদ সুলায়মান: রাজধানীর কুড়িল ফ্লাইওভার পয়েন্ট থেকে কাঞ্চন ব্রিজ পর্যন্ত সাড়ে ১২ কিলোমিটার রাস্তাটি হবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম দৃষ্টিনন্দন ও আকর্ষণীয় এক্সপ্রেসওয়ে। পূর্ব-পশ্চিমে যোগাযোগের নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচনের পাশাপাশি এটি হবে দেশের অন্যতম পর্যটন স্থাপনা। সেভাবেই চলছে ১৪ হাজার কোটি টাকার এই প্রকল্পের কর্মযজ্ঞ।

৮ লেনের এই এক্সপ্রেসওয়ের দুই পাশে থাকছে এক শ’ ফুট দৃষ্টিনন্দন খাল এবং সার্ভিস রোড। এই অত্যাধুনিক এক্সপ্রেসওয়েতে থাকবে না কোন ধরনের স্টপওভার পয়েন্ট, সিগন্যালিং সাইন কিংবা অন্য কোন প্রতিবন্ধকতা। ছোট, মাঝারি ও বড় সব ধরনের যানবাহন চলবে আপন গতিতে। কারোর সঙ্গে কোন কন্টাক্ট হওয়ার সুযোগ নেই।

এই নির্মাণ কাজ শেষ হলে একটি গাড়ি ৬/৭ মিনিটে বাধাহীনভাবে পার হবে সাড়ে ১২ কিলোমিটার পথ। চলতি বছরের ডিসেম্বরে প্রকল্পের নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা। প্রকল্পে বর্তমানে দিনরাত চলছে কর্মযজ্ঞ। করোনা মহামারী কিংবা দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায়ও থেমে নেই কাজের গতি। ৪ হাজার শ্রমিক বিরামহীন কাজ করে চলেছেন।

সুবিশাল ক্রেন, লিফটার, ট্রাক ড্রেজার এস্কাভেটর ইক্যুপমেন্ট নিয়ে যে প্রযুক্তিতে কাজ করা হচ্ছে তাতে নজর কাড়ে যেকোন পথিকেরই। এটা হবে হাতিরঝিলের চেয়েও আরও অত্যাধুনিক স্থাপত্যকলার অন্যতম নিদর্শন। এটা শুধু ঢাকার পূর্ব-পশ্চিমের নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য যোগাযোগেরই জন্য নয়। পাশাপাাশি এতে থাকছে সৌন্দর্যের ফোয়ারা ও বিনোদনের মনোমুগ্ধকর সব নিদর্শন।

কুড়িল থেকে কাঞ্চন ব্রিজ পর্যন্ত মূল রাস্তাটি হবে ৮ লেনের। দুই পাশে এক শ’ ফুট করে দুটি খাল। দুটি খালেরই দুই পাশে থাকছে সার্ভিস রোড। সার্ভিস রোডেও থাকবে একাধিক লেন। তার বাইরেও থাকছে বিভিন্ন আবাসিক এলাকা থেকে যুক্ত হওয়ার জন্য গেটওয়ে। মূল লেন তৈরি ছাড়াও সংস্কার হবে ডুমনি, বোয়ালিয়া ও এডি-৮ খাল। নির্মাণ করা হবে ১০টি বড় সেতু। হাতিরঝিলের আদলে ১৩টি আর্চ ব্রিজ।

বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনে ৪ কিলোমিটার নালা, দুটি কালভার্ট, ১২টি ওয়াটার বাসস্ট্যান্ড। থাকবে ৪টি পাতাল পথ। ২০১৫ সালের মূল প্রকল্পে উল্লেখ থাকা পদচারী সেতুর সংখ্যা ৪টি থেকে বাড়িয়ে করা হচ্ছে ১২টি। পাম্প হাউস ১টি থেকে বাড়িয়ে ৫টি, সুইসগেট ৪টি থেকে বাড়িয়ে ১০টি করা হয়েছে। খাল পারাপারে দৃর্ষ্টিনন্দন পদচারী ব্রিজগুলো মূলত পর্যটকদের আকর্ষণ করবে।

ব্রিজে উঠে উপভোগ করতে পারবেন গোটা প্রকল্পের সৌন্দর্য। দুই পাশের খালে চলবে ওয়াটার বাস, যা মূলত পর্যটকদের জন্যই চালু করা হবে। খালের দুই পাশে তৈরি করা হবে সবুজ ওয়াকওয়ে। এক সঙ্গে ৪০ হাজারের বেশি পর্যটক উপভোগ করতে পারবেন প্রকল্পের সৌন্দর্য। রাজউকের আবাসন প্রকল্পের বাইরে এটিই হচ্ছে সবচেয়ে বড় উন্নয়ন প্রকল্প।

এটি মূলত ২০১৫ সালে পাস হওয়া ‘কুড়িল-পূর্বাচল লিঙ্ক রোডের উভয় পাশে ১০০ ফুট চওড়া খাল খনন ও উন্নয়ন’ প্রকল্পের সংশোধিত রূপ। ২০১৫ সালে প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ছিল ৫ হাজার ২৮৬ কোটি ৯১ লাখ টাকা। এর সঙ্গে আরও তিনটি খাল, সড়ক, সেতুসহ আনুষঙ্গিক বিষয় যুক্ত হওয়ায় সংশোধিত প্রকল্পের ব্যয় বেড়েছে প্রায় ৫ হাজার ৪২ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। এতে প্রকল্পের মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ৩২৯ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। সেটা আরও কয়েক দফা বেড়ে হয়ে গেছে প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকায়।

২০১০ সালে গেজেট আকারে প্রকাশিত ড্যাপ প্রকল্পে কুড়িল হতে বালু নদী পর্যন্ত দুটি ১০০ ফুট প্রশস্ত খাল রাখা হয়। ইতোমধ্যে খাল দুটি কাটা শেষ হয়েছে। প্রকল্পের সঙ্গে নতুন করে ডুমনি, বোয়ালিয়া ও এডি-৮ খাল তিনটি যুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে হোটেল লা মেরিডিয়ানের পেছনের এডি-৮ খালের সঙ্গে যুক্ত বোয়ালিয়া খাল। খাল দুটির বড় অংশ ভরাট হয়ে যাওয়ায় নতুন করে খাল দুটি খনন করা হবে। খননের পর বোয়ালিয়া খালের সঙ্গে যুক্ত হবে ১০০ ফুট খাল। খননের পর এডি-৮ খালের দৈর্ঘ্য হবে ৪ দশমিক ১ কিলোমিটার এবং বোয়ালিয়া খালের দৈর্ঘ্য হবে ৫ দশমিক ২ কিলোমিটার।

এ ধরনের একটি অভূতপূর্ব এক্সপ্রেসওয়ের কাজ দ্রুত গতিতে সম্পন্ন করার জন্য সেনাবাহিনী দেশে কয়েকটি শীর্ষ বেসরকারী নির্মাণ কোম্পানিকে সাব কন্ট্রাক্টর হিসেবে নিয়োজিত করে। এগুলো হচ্ছে এনডিই, বিশ্বাস বিল্ডার্স, এআরকে, এ্যাডভান্স স্ট্রাকচারসহ অন্তত ডজনখানেক কোম্পানি। এরা নিজ নিজ ভাগের কার্য সম্পাদন করছে। এ পর্যন্ত ৭০ শতাংশেরও বেশি কাজ সম্পন্ন হয়ে গেছে। - জনকণ্ঠ

 

সম্পাদক ও প্রকাশক: সরদার মোঃ শাহীন
উপদেষ্টা সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম সুজন
বার্তা সম্পাদক: ফোয়ারা ইয়াছমিন
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: আবু মুসা
সহ: সম্পাদক: মোঃ শামছুজ্জামান

প্রকাশক কর্তৃক সিমেক ফাউন্ডেশন এর পক্ষে
বিএস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড,
ওয়ারী, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ হতে প্রকাশিত।

বানিজ্যিক অফিস: ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা।
বার্তা বিভাগ: বাড়ি # ৩৩, রোড # ১৫, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা।
ফোন: ০১৯১২৫২২০১৭, ৮৮০-২-৭৯১২৯২১
Email: simecnews@gmail.com