করোনার টিকা কাজ করে আজীবন!

প্রকাশের সময় : 2021-06-09 14:35:40 | প্রকাশক : Administration
করোনার টিকা কাজ করে আজীবন!

করোনার টিকা নেয়ার পর অন্তত এক বছর দেহে এর বিরুদ্ধে সুরক্ষা থাকার কথা বলা হলেও সম্ভবত তা আমৃত্যুও হতে পারে। নতুন দুটি গবেষণার ফলাফল এমন তথ্যই জানাচ্ছে। করোনা থেকে সুস্থ হওয়াদের এ্যান্টিবডি আজীবনও থাকতে পারে এর একটি গবেষণায় দাবিও করা হয়েছে।

পৃথক পৃথক দুটি গবেষণাতেই দেখা গেছে, কোভিড-১৯ থেকে সুস্থ হওয়ার পর এক ডোজ টিকা নিয়েছেন এমন বেশিরভাগ মানুষের দ্বিতীয় বা বুস্টার ডোজ নেয়া দরকার হবে না। টিকা গ্রহণকারীদের মধ্যে যারা করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত হননি তাদের ক্ষেত্রে হয়ত দ্বিতীয় ডোজ নিতে হতে পারে। করোনা থেকে সুস্থ হওয়ার পরই প্রাথমিক এ্যান্টিবডি তৈরি হয়। সেরে ওঠাদের এ্যান্টিবডি প্রথম ডোজের টিকার কাছাকাছি।

কোভিড থেকে সেরে উঠলে বা এই রোগের ভ্যাকসিন গ্রহণ করলে শরীরে যে অ্যান্টিবডি গড়ে ওঠে তা আজীবন কার্যকরী থাকে বলে প্রমাণ পেয়েছেন গবেষকরা। তারা বলছেন, যারা কোভিড থেকে সেরে উঠেছেন তাদের অস্থি-মজ্জায় দীর্ঘ সময় টিকে থাকে এমন অ্যান্টিবডি উৎপাদনকারী কোষের উপস্থিতির বিষয়ে নিশ্চিত তারা।

গবেষণায় জানা গেছে, আক্রান্ত হওয়ার পর যে প্রতিরোধ ব্যবস্থা দেহে গড়ে ওঠে তা অসাধারণভাবে দীর্ঘমেয়াদি। একইসঙ্গে ভ্যাকসিনের ফলে যে অ্যান্টিবডি সৃষ্টি হয় সেটিও আজীবন স্থায়ী থাকে। অ্যান্টিবডি হচ্ছে কোনো রোগ থেকে শরীরকে রক্ষা করার সব থেকে বড় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।

গবেষকরা জানিয়েছেন, কোভিডে আক্রান্ত হলে প্রাথমিকভাবে শরীরে থাকা প্লাজমাব্লাস্টস কোষ থেকে অ্যান্টিবডি উৎপাদিত হয়। কিন্তু একবার রোগমুক্ত হয়ে গেলে এই কোষগুলো বিলুপ্ত হতে শুরু করে। তখন অ্যান্টিবডি উৎপাদিত হতে শুরু করে দীর্ঘমেয়াদি কোষ থেকে। মেমোরি বি সেল রক্তের মধ্যে এই রোগের নমুনা খুঁজে বেড়ায়। তখন দেহের অস্থি-মজ্জায় অ্যান্টিবডি প্রবেশ করে দশকের পর দশক একে টিকিয়ে রাখে।

গবেষণা দলের সদস্য ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ আলি এলেবেডি বলেন, এই প্লাজমা কোষগুলোই হচ্ছে আমাদের জীবনের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস। গত ২৪শে মে, এই গবেষণাটি ন্যাচার জার্নালে প্রকাশিত হয়। গবেষকরা দেখেছেন, কোভিড আক্রান্ত হলে অন্য ভাইরাসজনিত অ্যান্টিবডি বৃদ্ধিতেও সাহায্য করে। যদিও বিভিন্ন ধরনের কোভিডের ক্ষেত্রে এই মাত্রা আলাদা আলাদা দেখা গেছে। প্রাথমিকভাবে যারা আক্রান্ত হয়েছিলেন, তাদের মধ্যে দেখা গেছে সুস্থ হওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই অ্যান্টিবডি দেহ থেকে হারিয়ে গেছে কিংবা দুর্বল হয়ে পড়েছে।

সাম্প্রতিক এই গবেষণার জন্য, এলেবেডির দল ৭৭ জনের শরীরে অ্যান্টিবডির উৎস খুঁজে বের করতে কাজ করেন। এতে দেখা যায় প্রথম ৪ মাস পর আসলেই অ্যান্টিবডি কমতে শুরু করেছে দেহে। কিন্তু ১১ মাস পরে গিয়েও তারা শরীরে নতুন অ্যান্টিবডি শনাক্তে সক্ষম হন। এই অ্যান্টিবডিগুলো কোভিডের ভাইরাসের প্রোটিন স্পাইক শনাক্তে সক্ষম।

এরপরই তারা এই নতুন অ্যান্টিবডির উৎস খুঁজতে শুরু করেন। তারা মেমোরি বি সেল এবং অস্থি-মজ্জা সংগ্রহ করে গবেষণা শুরু করেন। এতেই দেখা যায় কোভিড আক্রান্ত হওয়ার বহুদিন পরেও তাদের শরীরে মেমোরি বি সেল রয়ে গেছে এবং এটি কোভিড থেকে দেহকে রক্ষায় সক্ষম। - সূত্র: মানবজমিন

 

সম্পাদক ও প্রকাশক: সরদার মোঃ শাহীন
উপদেষ্টা সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম সুজন
বার্তা সম্পাদক: ফোয়ারা ইয়াছমিন
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: আবু মুসা
সহ: সম্পাদক: মোঃ শামছুজ্জামান

প্রকাশক কর্তৃক সিমেক ফাউন্ডেশন এর পক্ষে
বিএস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড,
ওয়ারী, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ হতে প্রকাশিত।

বানিজ্যিক অফিস: ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা।
বার্তা বিভাগ: বাড়ি # ৩৩, রোড # ১৫, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা।
ফোন: ০১৯১২৫২২০১৭, ৮৮০-২-৭৯১২৯২১
Email: simecnews@gmail.com