মানসিক অবসাদে ভুগছেন শিক্ষার্থীরা

প্রকাশের সময় : 2021-06-24 11:43:02 | প্রকাশক : Administration
মানসিক অবসাদে ভুগছেন শিক্ষার্থীরা

নাহিদ হাসান: করোনাভাইরাস সংক্রমণের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে বন্ধ করা হয় দেশের সব ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এক বছরের বেশি পেরিয়ে গেলেও স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় খোলেনি। এদিকে দীর্ঘদিন ক্যাম্পাস বন্ধ থাকায় মানসিক অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন অনেক শিক্ষার্থী। অনেকেরই আচার-আচরণেও পরিলক্ষিত হচ্ছে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন।

এই মানসিক দুরবস্থা থেকে উদ্ধার করে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে দ্রুততম সময়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন সমাজবিজ্ঞানী ও মনোবিজ্ঞানীরা। করোনা পূর্ববর্তী সময়ে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে ক্লাস করতেন, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিতেন, বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে নিজেদের জড়িত রাখতে পারতেন। কিন্তু দীর্ঘ বন্ধে সেটি সম্ভব হচ্ছে না। একাকিত্ব, স্মার্টফোন ও ইন্টারনেট আসক্তির কারণে বেশিরভাগ শিক্ষার্থীর মনের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে।

এছাড়া দীর্ঘ এই বন্ধে সেশনজট, চাকরিতে প্রবেশ নানা বিষয় নিয়ে শঙ্কিত অনেক শিক্ষার্থী। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া অনেকেই টিউশনি, পার্টটাইম চাকরির উপায়ে আয় করতেন। সেগুলো বন্ধ হওয়ায় আর্থিক সঙ্কটে ভুগছেন অনেকেই। এসব কারণে দুশ্চিন্তা, হতাশা, মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়াসহ অনেক শিক্ষার্থীই বিপথগামী হচ্ছেন।

ঢাকা কলেজের বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের শুরুতে ক্যাম্পাস বন্ধ হলে প্রথমদিকে বিষয়টি তাদের কাছে বেশ উপভোগ্য ছিল। বিশেষ করে গ্রামে গিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিয়ে, আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা করে বেশ ভালো সময় কেটেছে তাদের। একটা সময় পরে ছুটির মেয়াদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমানুপাতিক হারে বাড়তে থাকে একঘেয়েমি ভাব এবং হতাশা।   

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা যে মানসিক অবসাদগ্রস্ততায় ভুগছে। এটা দীর্ঘদিন চলতে থাকলে অনেক শিক্ষার্থী আগের মতো স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারবে না। এ হতাশা থেকে অনেকেই অপরাধপ্রবণ হয়ে পড়বে। এছাড়া অনেক বাবা-মা অনলাইনে আসক্ত হয়ে পড়ছেন। অভিভাবকদের এ আসক্তি থেকে বেরিয়ে এসে সন্তানদের সময় দিতে হবে।

পরিস্থিতির কছুটা উন্নতি হলে শিফট করে সপ্তাহে দুই অথবা তিন দিন করে হলেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্লাসের সুযোগ করে দেয়া প্রয়োজন। করোনাভাইরাস পরিস্থিতি একটা দুর্যোগ। বিগত কয়েক দশকে এমন দুর্যোগ আমাদের জীবনে আসেনি। শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ক্লাসে আসতে পারছে না। এই দীর্ঘ বিরতিতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ‘মেন্টাল ইলনেস’ তৈরি হয়েছে। এটা থেকে আবার 'রেসিডুয়াল ডেভিয়েন্স' তৈরি হচ্ছে।

ফলে অনেক শিক্ষার্থীর নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয় হচ্ছে। তারা নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। এমন সময়ে পরিবার থেকে শিক্ষার্থীদের মানসিক সাপোর্ট দেয়া বেশি প্রয়োজন। এই মুহূর্তে ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং শিক্ষকদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সম্পর্কের উন্নয়নসহ প্রাতিষ্ঠানিকভাবে কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান না খুললে সহসাই এ অবস্থার উন্নতি হবে না। - জাগোনিউজ২৪ডটকম

 

সম্পাদক ও প্রকাশক: সরদার মোঃ শাহীন
উপদেষ্টা সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম সুজন
বার্তা সম্পাদক: ফোয়ারা ইয়াছমিন
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: আবু মুসা
সহ: সম্পাদক: মোঃ শামছুজ্জামান

প্রকাশক কর্তৃক সিমেক ফাউন্ডেশন এর পক্ষে
বিএস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড,
ওয়ারী, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ হতে প্রকাশিত।

বানিজ্যিক অফিস: ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা।
বার্তা বিভাগ: বাড়ি # ৩৩, রোড # ১৫, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা।
ফোন: ০১৯১২৫২২০১৭, ৮৮০-২-৭৯১২৯২১
Email: simecnews@gmail.com