ঘুরে আসুন কাজাকিস্তান

প্রকাশের সময় : 2021-06-24 12:10:44 | প্রকাশক : Administration
ঘুরে আসুন কাজাকিস্তান

জেসিউর রহমান শামীম: এশিয়া মহাদেশের দেশ কাজাকিস্তান। কাজাকিস্তান এর সরকারি নাম রিপাবলিক অব কাজাকিস্তান। এটি বিশ্বের নবম স্থল বেষ্টিত দেশ। দেশটির উত্তরে রাশিয়া, পূর্বে গণ চীন দক্ষিণে কিরগিস্তান, উজবেকিস্তান ও তুর্কেমেনিস্থান এবং পশ্চিমে ক্যাস্পিয়ান সাগর ও রাশিয়া অবস্থিত। দেশটি প্রায় সম্পূর্ণ ভাবে এশিয়া মহাদেশে অবস্থিত, তবে এর কিছু অংশ উড়াল নদীর পশ্চিমে ইউরোপ মহাদেশে পড়েছে। অর্থনৈতিক ভাবে মধ্য এশিয়ার নেতৃত্ব স্থানীয় দেশ কাজাকিস্তান। পুরো অঞ্চলের ৬০ শতাংশ জি ডি পি এই দেশটির। খনিজ সম্পদে পরিপূর্ণ দেশটির মূল সম্পদ গ্যাস। এছাড়া বিশ্বের যে কয়টি অঞ্চলে আপেল উৎপাদন হয় বলে গণ্য করা হয় তার মধ্যে কাজাকিস্তান অন্যতম। এখানকার আপেলের প্রধান জাতটা হলো মেলাসছি ভার্সি। কাজাকিস্তান এর স্থানীয় ভাষায় এটাকে আলমা বলা হয়।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর দেশটি রাশিয়া ১৮৭০ সাল থেকে ১৮৭৬ সাল এর মধ্যে কাজাকিস্তান দখল করে নেয়। পরবর্তীকালে ১৯১৭ সালে ক্রেনস্কের নেতৃত্বে রাশিয়ার জারের পতন হয় । কিন্তু তাদের ক্ষমতা সংহত হওয়ার আগেই আবার বিপ্লব হয় ওই বছরই। জারের অধীনে ১৯১৭ সাল পর্যন্ত কাজাকিস্তান ছিল। এর পর কমিউনিজমের অধীনে ছিল ১৯৯১ সালের স্বাধীনতার আগে পর্যন্ত। ১৯৯১ সালের ২৫শে ডিসেম্বর কাজাকিস্তান সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে স্বাধীনতা লাভ করে।

স্বাধীনতার পর থেকেই দেশটি প্রেসিডেন্ট শাসিত। ২৭ লক্ষ ২৪ হাজার ৯০০ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের এই দেশটিতে প্রায় ১ কোটি ৮৪ লক্ষ মানুষের বসবাস। আয়তনের দিক দিয়ে এটি পৃথিবীর নবম বৃহত্তম দেশ। কাজাখ ভাষা কাজাকিস্তানের সরকারি ভাষা। তবে রাশিয়ান ভাষাও দেশটিতে সহ সরকারি ভাষা হিসাবে ব্যবহৃত হয়। অষ্টম শতাব্দীতে আরবদের আগমনের ফলে এই অঞ্চলে ইসলাম পরিচিতি লাভ করে। তবে সোভিয়েত আমলে ধর্ম খুব বেশি গুরুত্ব না পেলেও এখন দেশটির প্রধান ধর্ম হচ্ছে ইসলাম। মোট জনসংখ্যার প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ মুসলিম। বাকি ৩০ ভাগ মানুষ অন্য ধর্মাবলম্বি।

নুরসুলতান কাজাকিস্তানের রাজধানী। তবে কিছুদিন আগেও এর নাম ছিল আস্তানা। দেশের প্রথম প্রেসিডেন্ট এর সম্মানে রাজধানী আস্তানার নাম পরিবর্তন করে নুরসুলতান রাখা হয়। এটি আকমলা অঞ্চলের উত্তরে ইসিত নদীর তীরে অবস্থিত। মঙ্গোলিয়ার উলং বাটারিয়ার পর এটিই পৃথিবীর সবচেয়ে শীতলতম শহর।

শহরটিতে দেখার মতো বেশ কিছু আধুনিক স্থাপনা রয়েছে। কাজাকিস্তানের সবচেয়ে বড় শহর আলমাতি। এটি দেশটির পূর্ববর্তী রাজধানী ছিল। ১৯৯৭ সালে দেশটির প্রেসিডেন্ট নুরসুলতান নজর-বে আলমাতি থেকে রাজধানী সরিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তবে এটি এখনো দেশটির প্রধান বাণিজ্যিক ও শিল্প কেন্দ্র।

কাজাকিস্তানে চরম মহাদেশীয় জলবায়ু বিদ্যমান। এখানে গ্রীস্মকালে গড় তাপমাত্রা থাকে ১৫-২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এবং শীতকালে তা গিয়ে দাঁড়ায় -১০ থেকে -১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস এ ।

কাজাকিস্তানের রাজনীতি একটি রাষ্ট্রপতি শাসিত প্রজাতন্ত্র কাঠামোতে সংগঠিত হয়। রাষ্ট্রপতি হলেন রাষ্টের প্রধান। সরকার প্রধান রাষ্টপতি কর্তৃক মনোনীত হন। রাষ্ট্রের নির্বাহী ক্ষমতা সরকারের উপর ন্যস্ত।

সম্পূর্ণ ভাবে স্থল বেষ্টিত দেশ হওয়া সত্বেও এর একটি সুবিশাল নৌবাহিনী আছে। আসলে দেশটির কোনো সমুদ্র উপকূল নেই ঠিকই কিন্তু দেশটির একপাশে আছে বিশ্বের বৃহত্তম অভ্যন্তরীন সমুদ্র ক্যাস্পিয়ান সাগর। ২০০৩ সালে দেশটির নৌবাহিনীর প্রতিষ্ঠা হয়। সোভিয়েত ইউনিয়ন এর পতন এর পর দেশটি উত্তরাধিকার সূত্রে ১৪০০ টি নিউক্লিয়ার বোমার মালিক হয়। তবে ১৯৯৫ সালে দেশটি সবগুলো বোমা স্বেচ্ছায় রাশিয়ার কাছে হস্তান্তর করে। সোভিয়েত মহাকাশ গবেষণার গোড়াপত্তন কিন্তু এই কাজাকিস্তান। ঐতিহাসিকভাবে সোভিয়েত মহাকাশের প্রোগ্রামের যাত্রা বাইকনুর থেকে শুরু হয়েছিল। যা কাজাকিস্তানের মাঝখানে একটি গোপন কস্মত ড্রোন ছিল। মহাকাশের সর্ব কালের সর্বপ্রথম মানুষ ইউরিগাগারিন বাইকনুর থেকে যাত্রা শুরু করেছিলেন।

দেশটিতে মোট ৫ টি ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট আছে। এর মধ্যে ৩ টি সাংস্কৃতিক এবং ২টি প্রাকৃতিক সাইট। গোটা কাজাকিস্তানে আছে দেড় হাজার এর মত মসজিদ। দেশটির বড় বড় শহর গুলোতে মুসলমানদের ধর্মীয় বিষয়াদি দেখভাল করেন একজন ঈমাম। তিনি প্রধান ইমাম নামে পরিচিত। তাকে ইমামে শহরও বলা হয়। কাজাখ নাম এ তুর্কি ও জাতি এ দেশের প্রধান জনগোষ্ঠী। যারা মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক এবং অন্যান্য মুসলিম জাতি গোষ্ঠী হলো উজবেক, উইঘুর এবং তাতার।

ঘোড়ার মাংস হলো এদেশের মানুষের সবচেয়ে পছন্দের খাবার। একই সাথে জাতীয় পানীয় হচ্ছে ঘোড়ার দুধ। দেশটিতে মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত শিক্ষা বাধ্যতামুলক। দেশটিতে শিক্ষার হার প্রায় ১০০ শতাংশ। এখানে নারী পুরুষের শিক্ষার হার সমান।

খেলাধুলার সাফল্যের দিক দিয়ে ধরলে কাজাকিস্তানকে সবচেয়ে বেশি সাফল্য এনে দিয়েছে বক্সিং। আর দেশটির সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলাগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- ফুটবল বাস্কেট বল আইস হকি ইত্যাদি।

কাজাকিস্তান এর প্রধান কৃষি পণ্যের মধ্যে রয়েছে -শস্য, গোলআলু শাক সবজি ও গবাদিপশু। এ দেশে অঢেল খনিজ সম্পদ রয়েছে। দেশটির প্রধান রফতানি পণ্যের মধ্যে রয়েছে- গম, গবাদি পশু ও বস্ত্র। এটি প্রথম সারির ইউরোনিয়াম রফতানীকারী দেশের মধ্যে অন্যতম।

কাজাকিস্তানের সরকারি মুদ্রা টেঙে। এক টেঙে সমান বাংলাদেশী প্রায় ২২ পয়সা। দেশটির মোট জি ডি পি প্রায় ১৬৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এবং মাথাপিছু আয় প্রায় ৮ হাজার ৭ শত ৬৩ মার্কিন ডলার।

কাজাকিস্তানের ডায়েলিং কোড হচ্ছে +৭।

 

সম্পাদক ও প্রকাশক: সরদার মোঃ শাহীন
উপদেষ্টা সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম সুজন
বার্তা সম্পাদক: ফোয়ারা ইয়াছমিন
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: আবু মুসা
সহ: সম্পাদক: মোঃ শামছুজ্জামান

প্রকাশক কর্তৃক সিমেক ফাউন্ডেশন এর পক্ষে
বিএস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড,
ওয়ারী, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ হতে প্রকাশিত।

বানিজ্যিক অফিস: ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা।
বার্তা বিভাগ: বাড়ি # ৩৩, রোড # ১৫, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা।
ফোন: ০১৯১২৫২২০১৭, ৮৮০-২-৭৯১২৯২১
Email: simecnews@gmail.com