জমেনি ভ্যাকসিন রাজনীতি

প্রকাশের সময় : 2021-08-12 14:02:03 | প্রকাশক : Administration
জমেনি ভ্যাকসিন রাজনীতি

করোনা ভ্যাকসিনকে রাজনৈতিক ইস্যু করতে চেয়েও বিফল হয়েছে সরকার বিরোধীরা। তাদের নেতিবাচক রাজনীতিকে ভালভাবে গ্রহণ করেনি দেশের মানুষ। এদিকে এক সময় ভ্যাকসিনের চরম বিরোধিতাকারী রাজনৈতিক দল বিএনপির অন্য নেতাদের পর স্বয়ং দলটির চেয়ারম্যান খালেদা জিয়াও ভ্যাকসিন নিয়েছেন।

সরকারকে চাপে ফেলতে দেশে ভ্যাকসিন কার্যক্রম শুরু হওয়ার আগেই বিএনপি ভ্যাকসিন ব্যবস্থাপনা নিয়ে আগাম সমালোচনা শুরু করে। সমমনা সরকার বিরোধী দলগুলোকে নিয়ে তারা ভ্যাকসিন নিয়ে রাজনীতি উত্তপ্ত করারও চেষ্টা করে। দেশে ভ্যাকসিন প্রয়োগ শুরুর পর কিছুদিন বিরতি দিয়ে ভ্যাকসিনের মজুদ শেষ পর্যায়ে আসার পর আবারও এ নিয়ে সমালোচনা করে তারা।

তবে সরকারী দলও ঘরে বসে থাকেনি। বিরোধী দলের সমালোচনার জবাব দিতে সোচ্চার থাকার পাশাপাশি তারা ভ্যাকসিন নিয়ে দেশের মানুষকে আশঙ্কামুক্ত রাখতে এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করে দিয়েছে। এর ফলে ভ্যাকসিন ইস্যুতে দেশের মানুষ সরকারের প্রতি আস্থা রেখেছে। তাই সরকার ভ্যাকসিন দেয়ার জন্য নিবন্ধনের ঘোষণা দেয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দেশের মানুষ এতে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে।

জানুয়ারি মাসে করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে ভ্যাকসিন আমদানি করা হচ্ছে এমন খবর শোনার পর থেকেই বিএনপিসহ কয়েকটি বিরোধী দল ধারাবাহিকভাবে অভিযোগ শুরু করে করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে ভ্যাকসিন প্রয়োগের বিষয়ে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে পারবে না। দেশের সব মানুষকে ভ্যাকসিন দিতে পারবে না বলেও তারা অভিযোগ করে। ভ্যাকসিন নিয়ে অনিয়ম হতে পারে এমন আশঙ্কা ছড়িয়ে তা পর্যবেক্ষণ করতে রাজপথের বিরোধী দল বিএনপি সিনিয়র নেতাদের দিয়ে একটি পর্যবেক্ষণ কমিটি গঠন করে।

দেশে করোনা প্রাণঘাতী ভাইরাস সংক্রমণ শুরুর পর দীর্ঘ এক বছর চরম অস্বস্তিতে ছিল। এই অস্বস্তিকর অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে ভ্যাকসিনের অপেক্ষায় প্রহর গুনতে থাকে সর্বস্তরের মানুষ। অবশেষে দেশে এ বছর ২০ জানুয়ারি করোনাভাইরাস প্রতিরোধের ভ্যাকসিন চলে আসায় জনমনে স্বস্তি ফিরে আসে। ভ্যাকসিন আসার পর থেকেই দেশের সর্বস্তরের মানুষ এ নিয়ে সরব হয়ে ওঠে।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রভাবশালী দেশে প্রাণঘাতী করোনা প্রতিরোধে ভ্যাকসিন প্রয়োগ শুরু হলে এ নিয়ে সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে শুরু হয় ব্যাপক জল্পনা-কল্পনা। সরকারের তরফ থেকে ভ্যাকসিন পাওয়ার বিষয়ে বার বার আশ্বস্ত করা হলেও বিএনপিসহ কিছু বিরোধী রাজনৈতিক দলের অপপ্রচারের কারণে জনমনে এ নিয়ে সংশয় দেখা দেয়। এক পর্যায়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমও এ নিয়ে সোচ্চার হয়ে ওঠে।

তখন বিএনপিসহ কয়েকটি বিরোধী দল ধারাবাহিকভাবে অপপ্রচার চালাতে থাকে বর্তমান সরকার সঠিক সময়ে করোনা ভ্যাকসিন আনতে পারবে না। আর সরকার ও আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বলা হয় সঠিক সময়েই টিকা আসবে। এক পর্যায়ে বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয় সরকার শুধু ভিআইপিদের জন্য টিকা আনছে। এ নিয়ে সরকারের তরফ থেকে বলা হয় ভিআইপিরা আগে টিকা নেবে না। তারপরও ইনিয়ে বিনিয়ে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে ভ্যাকসিন নিয়ে সরকারের সমালোচনা করে তারা।

তবে শেষ পর্যন্ত ভারতের ভ্যাকসিন দেশে চলে আসায় এবং নিবন্ধন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে টিকা দিতে শুরু হওয়ায় মানুষের মধ্যে স্বস্তি নেমে আসে। বিএনপিসহ কিছু বিরোধী দলের কারণে এক সময় মনে হয়েছিল করোনা ভ্যাকসিনই যেন দেশের প্রধান রাজনৈতিক ইস্যু। এ ইস্যুতে প্রতিদিন চলতো বিরোধী দলের সমালোচনা। আর এ সমালোচনার জবাব দিতো সরকারের মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতারা।

এক পর্যায়ে দেশের মানুষ করোনা টিকা নেয়া শুরু করে সুফল পাওয়ার পর বিএনপি নেতারাও নিবন্ধন করে টিকা কেন্দ্রে গিয়ে লাইন ধরে টিকা নিতে থাকে। সেই সঙ্গে টিকা নিয়ে সমালোচনা করা থেকেও বিরত থাকে। কিন্তু ভারতে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধির পর সে দেশটি ভ্যাকসিন দেয়া বন্ধ করে দিলে দেশে এ নিয়ে সঙ্কট তৈরি হয়। তবে সরকার অন্যান্য দেশ থেকে ভ্যাকসিন আনার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করতে থাকে। ভারত থেকে করোনার ভ্যাকসিন আসা বন্ধ হওয়ার পর দেশে ভ্যাকসিনের সঙ্কট দেখা দিলে আবার নতুন করে সরকার বিরোধী সমালোচনায় মুখর হয়ে ওঠে বিএনপি নেতারা।

এদিকে ইতোমধ্যেই বিভিন্ন দেশ থেকে আবারও ভ্যাকসিন আসতে শুরু করায় মাঝখানে কিছুদিন বন্ধ থাকার পর আবারও নিবন্ধনের পাশাপাশি সারাদেশে ভ্যাকসিন প্রদান কার্যক্রম পুরোদমে শুরু হয়েছে। বাংলাদেশে মাঝখানে ভ্যাকসিন কার্যক্রমে কিছুটা ভাটা পড়লেও কোন কোন দেশ থেকে ভ্যাকসিন আসতে শুরু করায় আবারও এ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। শীঘ্রই বিভিন্ন দেশ থেকে কয়েক কোটি ভ্যাকসিন চলে আসছে। তখন আরও বেশি জোরদার হবে এ কার্যক্রম। - সূত্র: অনলাইন

 

সম্পাদক ও প্রকাশক: সরদার মোঃ শাহীন
উপদেষ্টা সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম সুজন
বার্তা সম্পাদক: ফোয়ারা ইয়াছমিন
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: আবু মুসা
সহ: সম্পাদক: মোঃ শামছুজ্জামান

প্রকাশক কর্তৃক সিমেক ফাউন্ডেশন এর পক্ষে
বিএস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড,
ওয়ারী, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ হতে প্রকাশিত।

বানিজ্যিক অফিস: ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা।
বার্তা বিভাগ: বাড়ি # ৩৩, রোড # ১৫, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা।
ফোন: ০১৯১২৫২২০১৭, ৮৮০-২-৭৯১২৯২১
Email: simecnews@gmail.com