করোনা দিনের ডায়েরি...

প্রকাশের সময় : 2021-08-25 15:49:58 | প্রকাশক : Administration
করোনা দিনের ডায়েরি...

২৪ তম পর্ব

ইঞ্জিঃ সরদার মোঃ শাহীন

 

উত্তম-সুচিত্রার কথা বলাই বাহুল্য। তাঁরা আলাদা। কোনদিন শেষ হবার নয়। বাকীরা সিজনাল। তিথি মেপে আসে। তিথি শেষে চলেও যায়। সাথে যায় মোহ। মম, মেহজাবিন মোহ যাবার পর গেল এক সপ্তাহ ধরে তিশাকে নিয়ে আছি। তানজিন তিশা। হালের নায়িকা হবে হয়ত। আগে কখনো দেখিনি। পিচ্চিপাচ্চা টাইপের গড়ন। তবে অভিনয়ে মন্দ না। জানে ভালই। এবং মুখের আদলও চমৎকার। চোখেমুখের এক্সপ্রেশান যথেষ্ঠ নায়িকা সুলভ।

গল্পের প্রয়োজনেই এক্সপ্রেশান দেয়। কলিকালের গল্প! লাভ ইউ আর ব্রেকআপের মধ্যেই ঘোরে!! কথায় কথায় লাভ ইউ, কথায় কথায় ব্রেকআপ। ইদানিংকার পোলাপান যত না মুখে লাভ ইউ বলে তার চেয়ে ঢের বেশি বলে ব্রেকআপ! এক সময় লাভ ইউ বলাটা ছিল লজ্জার আর ব্রেকআপ কিংবা তালাক ছিল জঘন্য রকমের খারাপ শব্দ। আর এখন কপোত কপোতি হাসতে হাসতে এসব বলে। পিটপিট করে হাসে আর হাসতে হাসতে সাবেক প্রেমের গল্প বলে। গাঁ সওয়া গল্প।

এসবে সমাজেরও গাঁ সওয়া হয়ে গেছে। যেমনি হয়েছে করোনাও। লক্ষ্য করে দেখলাম, বাংলাদেশে করোনার রোগী যত বেশি প্রকাশ পাচ্ছে, আতঙ্ক তত কমছে। মানুষের মধ্যে আতঙ্ক জিনিসটা আগের মত মোটেও নেই। না থাকারই কথা। সারা বিশ্ব তথা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ‘WHO’ করোনা নিয়ে জগাখিচুরী মার্কা যা কিছু করছে তাতে মানুষ অন্তত এটা বুঝতে পারছে যে, এদের দিয়ে করোনার দিন শেষ হবে না। এরা কোনদিনই কোন সুখবর দিতে পারবে না।

তবে WHO মানে, World Husband Organization কিন্তু ঘুরে দাঁড়িয়েছে। তারা যথেষ্ঠ সুসংগঠিত হয়ে করোনা মোকাবেলা করছে। তারা বলছে, যাদের বিবাহিত জীবনে ২৫ বছর পার হয়ে গেছে, তাদের ভ্যাকসিন নেবার দরকার নেই। কারণ এত বছর ধরে বউয়ের মধুর বাণী শুনতে শুনতে প্রচুর ইমিউনিটি পাওয়ার তৈরী হয়ে গেছে। এ ব্যাপারে তারা নিশ্চিত।

নিশ্চিত না WHO মানে, World Health Organization. WHO এর কথাবার্তায় মনেই হয় না, তারা করোনার বিনাশ চায়। বরং থাকলেই ভাল। শতবর্ষের অপেক্ষার জিনিস না থাকলে বাজারে তাদের কদর থাকবে না। তাদের প্রচন্ড রকমের আয়েশী জীবন আরও উপভোগ্য হবে যদি করোনা থাকে। চাকুরী থাকবে। ফান্ড বাড়বে; বাড়বে বেতন ভাতা এবং কাজের পরিধি। দেশে দেশে তাদের অফিস হবে। লোকবল হবে। হয়ত এজন্যেই তাদের কথাবার্তায় কোন আগামাথা নেই। একেক সময় একেক কথা বলে। সকালে বলে বিকেলেই প্রত্যাহার করে। তাই সময় হয়েছে করোনা নিয়ে কথা বলার সময় WHO কেই মুখের উপর বলা, Who are You?

আসলেই WHO কেউ না। একটা অথর্ব সংস্থা। হয়ত এ জন্যেই WHO কে নিয়ে অন্যরা রাজনীতি করার সুযোগ পায়। করোনায়ও রাজনীতি ঢুকে গেছে। কে কাকে ল্যাং দেবে, কে কাকে গুতা দেবে; এই নিয়ে চলছে রাজনীতি। সবচেয়ে খারাপ রাজনীতি হচ্ছে, কার আগে কে করোনার ঔষধ বের করবে। একটা নোংরা খেলা। আমেরিকা চীনের খেলা তো প্রকাশ্যেই চলছে। সবাই সবাইকে সন্দেহ করছে। বিশ্বাস করছে না কেউ কাউকে।

তাই এসবে ভরসা না রেখে যা করার এখন আমাদেরকেই করতে হবে। আমাদের যা আছে তাই নিয়ে করতে হবে। দেশীয় ভাবনা, দেশীয় জ্ঞান দিয়েই মোকাবেলা করতে হবে করোনার। এবং আমরা পারবো। না পারার সামান্য কারণও নেই। করোনা আহামরি এমন কিছু না। যে রোগে অন্তত ৯৫ শতাংশ মানুষ সুস্থ হয়ে যায়; তা নিয়ে এত পেরেশানীর কি আছে! বাজারের প্রচলিত অনেক ঔষধই করোনায় কাজ করে। আবার ঔষধ ছাড়াই অধিকাংশ আক্রান্ত ব্যক্তি সুস্থ হয়ে যাচ্ছে। এসবই বিবেচনায় আনা দরকার।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শত শত লোক মাইল্ড করোনায় আক্রান্ত হচ্ছে। প্রায় ৬ ধরনের করোনার মধ্যে মাইল্ড করোনা হচ্ছে সবচেয়ে দুর্বল করোনা। এটা খুবই সাধারণ এবং স্বাভাবিক জ্বর মাত্র। মনে হবে সিজনাল জ্বর। হঠাৎ করে জ্বর শুরু হয়ে দুই থেকে তিন দিন থাকে এবং সাধারণ নাপাতেই জ্বর চলে যায়। কোন এন্টিবায়োটিকও খাওয়া লাগেনা। এক পরিবারে একজনের জ্বর হলে একসাথে ওই পরিবারের আরো ৪-৫ জনের জ্বর হয়। টেস্ট করলে পজেটিভ আসে।

এদিকে আছেন ডাঃ তারেক আলম। বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজের প্রফেসর। তার হাসপাতালে ৬০জন রোগীর ওপর আইভারম্যাকটিন প্রয়োগ করে চমকপ্রদ ফল পাওয়ার কথা জানিয়েছেন। মাত্র ত্রিশ টাকায় ঔষধটি আমাদের বাজারে পাওয়া যায়। পুলিশ হাসপাতালে ব্যাপকভাবে আইভারম্যাকটিন প্রয়োগে বিস্ময়কর সাফল্য পাওয়ার পর দেশের সীমানা পেরিয়ে ডাঃ তারেক আলমের দেখানো পথ ধরে ভারতেও ঔষধটির পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শুরু হয়েছে।

অর্থাৎ সংক্রমণের শুরুতেই আইভারম্যাকটিন প্রয়োগে ভাল ফল পাওয়ার বিষয়টি ইতোমধ্যে প্রমাণিত। এমন ঔষধ আমাদের হাতের নাগালে অল্প পয়সায় মিলছে। নিরাময়ের ঔষধ মানুষের হাতের নাগালেই রয়েছে বলে সেগুলো সময়মতো প্রয়োগেই মিলতে পারে সাফল্য। করোনার শুরুতেই যদি আমরা এই চিকিৎসা পদ্ধতি প্রবর্তন করতে পারি তাহলে রোগীর অক্সিজেনও প্রয়োজন হয় না। মৃত্যুর হারকে আমরা শূন্য শতাংশে নামিয়ে আনতে পারি।

আর দেশব্যাপী অতি দ্রুত প্রবর্তন করতে পারি এই চিকিৎসা পদ্ধতি। WHO এর দিকে না তাকিয়ে, হাহুতাশ না করে কিংবা আতঙ্কে না থেকে দেশীয় বিশেষজ্ঞদের দেখানো পথে হাঁটতে পারি। বিদেশীরা আমাদের পথ দেখাবে না। মনে   রাখতে হবে দেশ আমার, জানও আমার। যা করার আমাদেরই করতে হবে। ততটুকুই করতে হবে, যতটুকুই নিজেদের ক্ষমতায় করতে পারি। অর্থনীতিকে সচল রাখার স্বার্থে আমরা আর যাই পারি, সারাক্ষণ ঘরে বসে কাটাতে পারি না।

বাংলাদেশে ঘরে বসে কাটাতে চায় উঁচুতলার আতেল কথাজীবিরা। খেটে খাওয়া মানুষদের দাবি করোনা আমাদের জন্য না, করোনা উঁচুতলার মানুষদের জন্যে! কৃষি বাজারের সবজি বিক্রেতা জানালো, করোনা চলাকালীন সময় থেকে পাড়া-মহল্লায় সবজি বিক্রি করে চলেছি। সেই সাথে কৃষি বাজারের সামনের রাস্তার ফুটপাতে। কিন্ত করোনা নামক আতঙ্ক স্পর্শ করতে পারেনি।

রাস্তাঘাট, মার্কেটসহ অলিতে গলিতে মানুষের সরব উপস্থিতি। নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে আগের মতো করোনা আতঙ্ক নেই। এলাকায় ভ্যান চালক, রিক্সা চালকরা বলেন, আল্লাহর রহমতে আমাগো কারো করোনা হয় নাই। হইবও না! গরিবগো আল্লাহ বাঁচাইবো। অনেকদিন কাম কাজ করি নাই আর কতদিন বইসা থাকমু? মাইনসের ভিক্ষার জন্য চাইয়া থাকমু?

ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস! যারা ভিক্ষা দেয়, সেই তারাই আজ চেয়ে আছে ওদের দিকে। ভিক্ষার ব্যাগ হাতে! ওরা বাজার চালু রাখবে; গ্রাম থেকে চাল, সবজি কিনে আনবে। আনবে মাছ মাংস। আর উপরতলার মানুষেরা লকডাউনে থেকে চাকরবাকর দিয়ে তা কিনিয়ে এনে ঘরে বসে সে সব আরামছে খাবে। এটা ভিক্ষা নয়তো কি? এটা নিঃসন্দেহে মর্ডান ভিক্ষাবৃত্তি। লোক দেখানো লকডাউন। ধনীদের রক্ষার লকডাউন।

আতেলরা লকডাউন চায় সরকারের কাছে। কেবল নিজেদের জন্যে চায়। গরীবের জন্যে চায় না। গরীবের আবার লকডাউন কি? লকডাউন পুলিশের জন্যেও নয়। ডাক্তার, নার্স কিংবা ইঞ্জিনিয়ারদের জন্যেও নয়। ওরা সেবা দেয়ার মানুষ। সেবা দিয়েই যাবে। ওদের আবার জীবন কি! ওরা ডিউটি করবে। ডিউটি করবে জনগণের জরুরী সেবায়।

ডিউটি করবে মালামাল টানার ট্রাক ড্রাইভারের দল। ডিউটি করবে পানি বিদ্যুতের লোক। যারা ত্রাণ বিলায় তারাও রিস্ক নিয়ে বাইরে থাকবে। ডিউটি করবে অফিসের হিসাব শাখার লোকেরাও। যাতে করে সবাইকে বেতন পৌঁছে দিতে পারে। ওরা মরে মরুক। উপরতলার একচান্দুরও মরা চলবে না। ওরা মরলে করোনা উত্তর দেশের লুটপাট কারা করবে!!! চলবে...

 

সম্পাদক ও প্রকাশক: সরদার মোঃ শাহীন
উপদেষ্টা সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম সুজন
বার্তা সম্পাদক: ফোয়ারা ইয়াছমিন
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: আবু মুসা
সহ: সম্পাদক: মোঃ শামছুজ্জামান

প্রকাশক কর্তৃক সিমেক ফাউন্ডেশন এর পক্ষে
বিএস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড,
ওয়ারী, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ হতে প্রকাশিত।

বানিজ্যিক অফিস: ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা।
বার্তা বিভাগ: বাড়ি # ৩৩, রোড # ১৫, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা।
ফোন: ০১৯১২৫২২০১৭, ৮৮০-২-৭৯১২৯২১
Email: simecnews@gmail.com