অপূর্ব সুন্দর দেশ সেনেগাল

প্রকাশের সময় : 2021-09-08 11:40:35 | প্রকাশক : Administration
অপূর্ব সুন্দর দেশ সেনেগাল

জেসিউর রহমান শামীম: পৃথিবীর মানচিত্র দেখে একটি দেশকে সহজেই চেনা যায়। আর সেই দেশ সম্পর্কে জানতে পারলে আরও ভালো লাগে। একটি ভু-খন্ড দেশ হিসাবে পরিচিতি পেতে অনেক আন্দোলন, বিপ্লবের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। রিপাবলিক অফ সেনেগাল আফ্রিকা মহাদেশের একটি স্বাধীন রাষ্ট্র, যার পশ্চিমে রয়েছে আটলান্টিক মহাসাগর, উত্তরে মৌরীতানিয়া, পূর্বে মালি এবং দক্ষিণে গিনি অবস্থিত। তাছাড়া গাম্বিয়া দেশটি প্রায় পুরোটাই সেনেগাল সীমানা ঘিরে অবস্থিত। সেনেগাল শুনলেই মনে পরে রেসলিং ও ফুটবল খেলার কথা। তবে এর বাইরেও এক নৈসর্গিক সৌন্দর্য নিয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে আফ্রো-ইউরোয়েশিয়ার সর্ব পশ্চিমের এই দেশটি। এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ভ্রমণ পিয়াসু মানুষকে টেনে আনে এখানে। অর্থনৈতিকভাবে নিম্ন মধ্য আয়ের দেশটির মানুষের পেশা সমুদ্রকে কেন্দ্র করে।

পনের বা ষোল শতকের দিকে পর্তুগীজরা সেনেগালে আসে। তখন তাদের এই দেশটির নাম জানা ছিল না। স্থানীয় মৎসজীবিদের কাছে জানতে চাইলে তারা বলে সুনুগাল। কিন্তু পর্তুগীজরা ওই শব্দের কোন অর্থ বুঝতে না পেরে নাম দিয়ে ফেলে সেনেগাল। তবে সাধারন মানুষের মতে সেনেগাল নদীর নামের উপর ভিত্তি করে দেশটির নাম রাখা হয়েছিল। পর্তুগীজরা আসার আগে সেনেগাল বেশ কয়েকটি সাম্রাজ্য ও রাজ্যের অধিনে ছিল। ১৯৬০ সালে ফ্রান্সের কাছ থেকে দেশটি পূর্ণ স্বাধীনতা পায়।

১ লাখ ৯৬ হাজার ৭১২ বর্গকিলোমিটার আয়তনের দেশটির জনসংখ্যা প্রায় ১ কোটি ৫৮ লাখ (২০১৮ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী) যার বেশির ভাগ লোক গ্রামে বাস করে। আয়তনের দিক দিয়ে এটি পৃথিবীর ৮৬ তম দেশ। দেশটির শাসন ব্যবস্থার সুবিধার্থে দেশটিকে ১৪ টি অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়েছে। সেনেগালের সরকারি ভাষা ফ্রেঞ্চ হলেও অনেকগুলো স্থানীয় ভাষা রয়েছে। তার মধ্যে সবচেয়ে প্রচলিত ভাষা হল ওলফ। ধর্মের ক্ষেত্রে দেশটিতে একক আধিপত্য ইসলামের। দেশের ৯৬ শতাংশ মানুষ মুসলিম। বাকীদের মধ্যে সবাই খৃষ্ট ধর্মের অনুসারি।

সেনেগালের রাজধানী, প্রধান শহর ও প্রধান বন্দর ডাকার। এটি আটলান্টিক মহাসাগরের উপকূলে কেভ ভার্দ উপদ্বীপে অবস্থিত। এটি আফ্রিকার সবচেয়ে পশ্চিমে অবস্থিত। বর্তমানে শহরটি দেশের অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের প্রাণকেন্দ্র। শহরটির জনসংখ্যা প্রায় ১০ লাখ ৩০ হাজার। পনের শতকে এই ডাকার শহরে মানুষের বসতি গড়ে উঠে।  ডাকার বন্দরকে পর্তুগিজরা মুলত দাস বাণিজ্যের জন্য ব্যবহার করত। কিন্ত ফ্রান্সের শাসনামলে এটি দেশটির প্রধান অর্থনৈতিক অঞ্চলে পরিণত হয়। ১৯৬০ সালে ফ্রান্স থেকে স্বাধীনতা লাভের পরে ডাকারকে রাজধানী হিসাবে ঘোষনা করা হয়। বর্তমানে ডাকার হল প্রধান অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং পর্যটন কেন্দ্র। সেনেগালে উষ্ণমন্ডলীয় জলবায়ু লক্ষ্য করা গেলেও গ্রীষ্ম, বর্ষা ও শীত ঋতু বিদ্যমান এবং গড় তাপমাত্রা ২৬-৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর সেনেগালের উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান হল সেনেগাল নদীর কিছু চর বা ব-দ্বীপ, ছোট বড় কিছু উদ্যান, সেন্ট লুইস ছাড়াও রাজধানী ডাকার তো আছেই। তাছাড়াও দেশটিতে একটি লেক যার নাম রেতবা। রেতবার পানির রঙ গোলাপী থাকে বছরের প্রায় অর্ধেক সময়। তবে সমস্ত স্থান গুলোর মধ্যে গেরি দ্বীপ (ইলে ডি গরি) সবচেয়ে আকর্ষণীয়। পরিবেশ সচেতন দেশটি তার চারপাশে এক প্রকার গাছের দেয়াল তৈরি করছে যাতে সাহারা মরুভূমি দেশটিতে ছড়িয়ে পড়তে না পারে। এতে করে দেশটির নিজস্ব জীবজন্তুও হারাবে না।

ভ্রমণ পিপাসু মানুষের কাছে আফ্রিকার এই দেশটি হল সবচেয়ে নিরাপদ। পাখি প্রেমিকদের জন্য সবচেয়ে আকর্ষণীয় জায়গা হল সেনেগাল। সিংহ বিলুপ্ত প্রায় হলেও এটি হচ্ছে সেনেগালের জাতীয় প্রতীক। নিউকোলো-কোবা ন্যাশনাল পার্কে এদের অভয়রন্য করায় বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষার চেষ্টা করা হচ্ছে। ইউনেস্কো ঘোষিত ৭ টি হেরিটেজ সাইটও আছে দেশটিতে।

দেশটিতে ১৬ বছর বয়স পর্যন্ত লেখাপড়া বাধ্যতামূলক সত্বেও দেশটিতে শিক্ষিতের হার ৬৯ শতাংশ। রেসলিং এবং ফুটবল খেলার জন্য দেশটি সারা পৃথিবীতে জনপ্রিয়। দেশের ফুটবল দলটি লায়ন্স অফ টেরেঙ্গা নামে অভিহিত করা হয়। বাস্কেট বল খেলায়ও রয়েছে বেশ সাফল্য। ১৯৭৯ সালে এ দেশেই চালু হয় প্যারিস-ডাকার রেলি যা বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ংকর কার রেস। সেনেগালের সবচেয়ে বিপদজনক জায়গা এবং সাহারা মরুভূমির ভয়ংকর গরম বালির রাস্তাই হল এই রেস এর চলার পথ।

সেনেগাল একটি নিম্ন মধ্য আয়ের দেশ। দেশটির অর্থনীতি মূলত নির্ভর করে খাদ্য প্রকৃয়াজাত করণ, সিমেন্ট, সার, খনিজ ও পর্যটনের উপর। দেশটির পণ্য বিক্রয়ের সবচেয়ে বড় বাজার ভারত ছাড়াও ইতালি, আমেরিকা, ও বৃটেন। তারপরেও দেশের উন্নতির মেরুদন্ড হিসাবে আছে কিছু আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার অবদান। 

দেশটির মোট জি ডি পি প্রায় ২৪ দশমিক ২’শ ৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং মাথাপিছু আয় প্রায় ১ হাজার ৪ শত ৮৫ মার্কিন ডলার। দেশের অর্থনীতির মানদণ্ড হিসাবে গণ্য হয় সে দেশের জাতীয় মুদ্রা। সেনেগালের সরকারী মুদ্রার নাম ওয়েস্ট আফ্রিকান সি এফ এ ফ্র্যাঙ্ক। বাংলাদেশি প্রায় ১৪ পয়সায় পাওয়া যায় ১ সি এফ এ ফ্র্যাংক। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা লাভ করার পর বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়া প্রথম আফ্রিকান দেশটি হল সেনেগাল।

 

সম্পাদক ও প্রকাশক: সরদার মোঃ শাহীন
উপদেষ্টা সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম সুজন
বার্তা সম্পাদক: ফোয়ারা ইয়াছমিন
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: আবু মুসা
সহ: সম্পাদক: মোঃ শামছুজ্জামান

প্রকাশক কর্তৃক সিমেক ফাউন্ডেশন এর পক্ষে
বিএস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড,
ওয়ারী, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ হতে প্রকাশিত।

বানিজ্যিক অফিস: ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা।
বার্তা বিভাগ: বাড়ি # ৩৩, রোড # ১৫, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা।
ফোন: ০১৯১২৫২২০১৭, ৮৮০-২-৭৯১২৯২১
Email: simecnews@gmail.com