উৎপাদন শুরুর অপেক্ষায় বঙ্গবন্ধু শিল্পনগর

প্রকাশের সময় : 2021-09-27 16:04:09 | প্রকাশক : Administration
উৎপাদন শুরুর অপেক্ষায় বঙ্গবন্ধু শিল্পনগর

মাসুদ মিলাদ: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগরে অনেক কারখানার নির্মাণকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। ১৩৭ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে গড়ে উঠছে এই শিল্পনগর। ১৩টি শিল্পের কারখানা নির্মাণ শেষ পর্যায়ে। কোথাও টাঙানো হয়েছে কারখানার সাইনবোর্ড। কোথাও বালুমাটি দিয়ে চলছে নিচু জমি ভরাটের কাজ। বিশাল এলাকায় নানা প্রান্ত থেকে ভেসে আসছে নির্মাণকাজের বিকট শব্দ। ধীরে ধীরে ঢেকে যাওয়া বালুচরে মাথা তুলতে শুরু করেছে কারখানার ভবন। উৎপাদনের জন্য যন্ত্রপাতি স্থাপনের কাজও গুছিয়ে এনেছে কয়েকটি কারখানা। এসব কারখানায় এখন শুধু উৎপাদন শুরুর অপেক্ষা। চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগরে সরেজমিন ঘুরে এমনই চিত্র দেখা গেছে। বিনিয়োগকারীরা জানিয়েছেন, করোনা না হলে এ বছরই উৎপাদন শুরু হয়ে যেত শিল্পনগরের অন্তত পাঁচটি কারখানায়। করোনার কারণে বিদেশি বিশেষজ্ঞরা না আসায় এসব কারখানা প্রায় প্রস্তুত হলেও চালু করা সম্ভব হয়নি। একই কারণে অনেক কারখানার নির্মাণকাজ ব্যাহত হয়েছে।

বাংলাদেশ অর্থনৈতিক জোনের (বেজা) নির্বাহী চেয়ারম্যান শেখ ইউসুফ হারুন বলেন, এ বছর অন্তত চার-পাঁচটি শিল্পকারখানা উৎপাদনে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু করোনা উদ্যোক্তাদের কাজের গতি কমিয়ে দিয়েছে। এরপরও এই শিল্পনগরে ১৩টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কারখানা নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে।

বঙ্গোপসাগরের উপকূলীয় এলাকা সন্দ্বীপ চ্যানেলের পাশে ১৩৭ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে গড়ে তোলা হচ্ছে এই শিল্পনগর। মহাপরিকল্পনা অনুযায়ী, চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড ও মিরসরাই এবং ফেনীর সোনাগাজী উপজেলা ঘিরে এই শিল্পনগরের আয়তন হবে ৩৩ হাজার ৮০৫ একর। এর ৪১ শতাংশ বা ১৪ হাজার একরে থাকবে শুধু শিল্পকারখানা। বাকি ৫৯ শতাংশ এলাকার মধ্যে খোলা জায়গা, বনায়ন, বন্দর সুবিধা, আবাসন, স্বাস্থ্য, প্রশিক্ষণ ও বিনোদনকেন্দ্র থাকবে।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সঙ্গে সংযুক্ত শেখ হাসিনা সরণি পেরিয়ে গেলেই চোখে পড়বে বঙ্গবন্ধু শিল্পনগর। নতুন নির্মিত পিচঢালাই সড়ক ধরে এখনই সরাসরি শিল্পনগরের উপকূলীয় প্রতিরক্ষা বাঁধ পর্যন্ত যাওয়া যায়। শিল্পনগরের বেজা প্রশাসনিক ভবনের অদূরে ১০ একর জায়গায় ২৮ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে দেড় বছর আগে নির্মাণকাজ শেষ হয় চীনের জুজু জিনইয়ান কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কারখানার। করোনা মহামারি শুরুর পর উদ্যোক্তারা চীনে ফেরত যান। এরপর আর ফিরে আসেননি। কারখানাটি এখন পাহারা দিচ্ছেন নিরাপত্তাকর্মীরা।

এই কারখানার অদূরে ইস্পাত পাত প্রক্রিয়াকরণের ‘নিপ্পন অ্যান্ড ম্যাকডোনাল্ড স্টিল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড’ কারখানার কাজ শেষ হয়েছে প্রায় পাঁচ মাস আগে। জাপানের নিপ্পন স্টিল ট্রেডিংয়ের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে কারখানা গড়ে তুলেছে বাংলাদেশের ম্যাকডোনাল্ড স্টিল বিল্ডিং ইন্ডাস্ট্রিজ। যৌথ উদ্যোগ ছাড়াও ম্যাকডোনাল্ড স্টিল বিল্ডিং প্রোডাক্টস লিমিটেডের আরেকটি কারখানার কাজ শেষ পর্যায়ে। প্রায় ১০০ একর জমিতে ছয় কোটি ডলার ব্যয়ে এখানে এই দুটি কারখানা স্থাপন করা হয়েছে।

বেজা প্রশাসনিক ভবনের কিছুটা সামনে পুরোদমে কাজ চলছে ভারতীয় কোম্পানি এশিয়ান পেইন্টসের। কাঁচামাল ও রং উৎপাদনের এই কারখানার উৎপাদন শুরুর কথা ছিল গত জুনে। করোনার কারণে এই কারখানাটিরও উৎপাদন পিছিয়ে গেছে। সেখানে   ঘুরে দেখা যায়, ২০ একর জায়গায় এই কারখানার কাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে। এখন শেষ মুহূর্তের কাজ চলছে। ১৫০ কেভি বিদ্যুৎকেন্দ্র পাওয়ারজেনসহ পাঁচটি কারখানার এ বছর উৎপাদনে যাওয়ার কথা থাকলেও সেটা হয়নি।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের প্রকোপ কমে যাওয়ায় এখন অন্য কারখানাগুলোর কাজ জোরেশোরে চলছে। প্রায় ২০ একর জায়গায় ১৫ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগে গড়ে তোলা হচ্ছে মডার্ন সিনটেক্স লিমিটেডের কারখানা। এই শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ৫০ শতাংশ পূর্ত কাজ শেষ হয়েছে। আরও কয়েকটি কারখানা নির্মাণের কাজ এখন দৃশ্যমান। শিল্পনগর ঘুরে দেখা যায়, বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চল ও এসবিজি অর্থনৈতিক অঞ্চলে এখনো কোনো কাঠামো গড়ে তোলা হয়নি। শুধু মাটি ভরাট করে উঁচু করা হয়েছে।

দেশের অন্য অর্থনৈতিক অঞ্চলের চেয়ে বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরে বিনিয়োগ আসছে বেশি। এ পর্যন্ত অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে ২৮ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ এসেছে। এর ৭১ শতাংশ বা ২০ বিলিয়ন ডলার এসেছে বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরে। অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ জানায়, বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরে এ পর্যন্ত ১২২টি প্রতিষ্ঠানকে পাঁচ হাজার একরের জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। অপেক্ষায় আছে ৩১টি প্রতিষ্ঠান। সব মিলিয়ে প্রায় ছয় হাজার একর জমিতে বিনিয়োগ আসছে।

মহাপরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রায় ৩৪ হাজার একর জমির মধ্যে ইতিমধ্যে বেজার হাতে ২১ হাজার একর জমি রয়েছে। মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ হবে বলে বেজা জানিয়েছে। বিনিয়োগ এলেও উদ্যোক্তারা এখন লজিস্টিকস সুবিধার অপেক্ষায় আছেন। শিল্পকারখানার জন্য সবচেয়ে প্রয়োজন গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি ও যোগাযোগব্যবস্থা। বেজা গ্যাস ও বিদ্যুতের ব্যবস্থা করছে। নির্মাণাধীন শিল্পকারখানার আশপাশে রাস্তাঘাট নির্মাণ হয়েছে।

২০৩০ সাল নাগাদ ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করতে চায় সরকার। এই ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চলে এক কোটি লোকের কর্মসংস্থানের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব অর্থনৈতিক অঞ্চল থেকে বাড়তি ৪০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি প্রত্যাশা করছে সরকার। এর আওতায় বঙ্গবন্ধু শিল্পনগর গড়ে তোলা হচ্ছে। - সূত্র: অনলাইন

 

সম্পাদক ও প্রকাশক: সরদার মোঃ শাহীন
উপদেষ্টা সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম সুজন
বার্তা সম্পাদক: ফোয়ারা ইয়াছমিন
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: আবু মুসা
সহ: সম্পাদক: মোঃ শামছুজ্জামান

প্রকাশক কর্তৃক সিমেক ফাউন্ডেশন এর পক্ষে
বিএস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড,
ওয়ারী, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ হতে প্রকাশিত।

বানিজ্যিক অফিস: ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা।
বার্তা বিভাগ: বাড়ি # ৩৩, রোড # ১৫, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা।
ফোন: ০১৯১২৫২২০১৭, ৮৮০-২-৭৯১২৯২১
Email: simecnews@gmail.com