সমুদ্র অর্থনীতি বদলে দিতে পারে বাংলাদেশকে

প্রকাশের সময় : 2021-10-06 14:58:31 | প্রকাশক : Administration
সমুদ্র অর্থনীতি বদলে দিতে পারে বাংলাদেশকে

করোনা দেশের অর্থনীতিতে যে ক্ষত সৃষ্টি করে যাচ্ছে, তা থেকে উত্তরণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে সমুদ্র অর্থনীতি। বিশ্লেষকদের কেউ কেউ বলছেন, শুধু সমুদ্র অর্থনীতিকে যদি যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া যায়, তাহলে বাংলাদেশে অর্থনৈতিক বিপ্লব ঘটে যেতে পারে। সর্বশেষ প্রকাশিত বার্ষিক প্রতিবেদনে বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, সুনীল অর্থনীতি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ব্যাপক অবদান রাখার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে।

জানা গেছে, ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় অর্থনীতির সিংহভাগ সমুদ্রনির্ভর। আর অস্ট্রেলিয়া সমুদ্র সম্পদ থেকে বর্তমানে প্রায় ৪৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করে থাকে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কক্সবাজার হবে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ সমুদ্র সৈকত এবং পর্যটন কেন্দ্র। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ সম্ভাবনাময়। রবিবার (২৯ আগস্ট) গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণ কাজ উদ্বোধনকালে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

এদিকে বাংলাদেশের সমুদ্র নিয়ে গবেষণা করা বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘সেভ আওয়ার সি’র তথ্য অনুযায়ী, সমুদ্র থেকে মাছ ধরে শুধু বিদেশে রফতানি করেই বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার আয় করা সম্ভব। এ ছাড়া নতুন ধরণের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারে। প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক আনোয়ারুল হক বলেন, ‘শুধু সমুদ্র অর্থনীতিকে যদি যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া যায়, তাহলে বাংলাদেশে অর্থনীতিতে এক ধরণের বিপ্লব ঘটে যেতে পারে।’ তার মতে, শুধু সামুদ্রিক মাছ ও শৈবাল রফতানি করে বাংলাদেশ বছরে এক বিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ অর্থ আয় করতে পারে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক উল্লেখ করেছে, বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের একটি নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চল চিহ্নিত হয়েছে। ইতোমধ্যে, বাংলাদেশ নতুন সামুদ্রিক সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহারের লক্ষ্যে সুনীল অর্থনীতির উন্নতি সাধন করতে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ২০১৫ সাল থেকে বাংলাদেশ সরকার সমুদ্র অর্থনীতির ওপরে কিছু সংখ্যক পরামর্শ এবং কর্মশালা গ্রহণ করেছে।

সুনীল অর্থনীতি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ব্যাপকভাবে অবদান রাখার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক সুনীল অর্থনীতির ২৬টি সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র চিহ্নিত করা হয়েছে, যার মধ্যে মৎস্য চাষ, সামুদ্রিক বাণিজ্য এবং শিপিং, জ্বালানি, পর্যটন, উপকূলীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা, উপকূলীয় নিরাপত্তা এবং সুনীল অর্থনীতির উন্নয়নের জন্য নজরদারি অন্তর্ভুক্ত।

নৌ পরিবহন: বাংলাদেশের বৈদেশিক মালবাহী বাণিজ্যের বেশিরভাগই সমুদ্রপথে সম্পন্ন হয় (২০১৮), যা দেশের মোট বহির্বাণিজ্যের শতকরা ৯০ ভাগ। সেজন্য, ভবিষ্যতে আমাদের অর্থনীতি বৈদেশিক বাণিজ্যের ওপরে প্রচণ্ডভাবে নির্ভর করবে বলে বাংলাদেশ ব্যাংক ধারণা করছে। ব্যাংক বলছে, বিপুল পরিমাণ মালামাল-শুল্ক দেশের অভ্যন্তরে রাখার উদ্দেশ্যে স্থানীয় শিপিং কোম্পানিগুলোকে প্রণোদনা প্রদান করা যেতে পারে, যাতে করে তারা বিদ্যমান জাহাজের বহরের সঙ্গে আরও জাহাজ সংযুক্ত করতে পারে।

মৎস্য সম্পদ: বাংলাদেশ ব্যাংকের বার্ষিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বিশেষজ্ঞদের মতে শামুক, শেলফিশ, কাঁকড়া, হাঙ্গর, অক্টোপাস এবং অন্যান্য প্রাণী ছাড়াও শুধুমাত্র মাছেরই ৫০০ প্রজাতি বিদ্যমান। ধারণা করা হয়, প্রতি বছর বাংলাদেশে বঙ্গোপসাগরে সহজলভ্য মোট ৮ মিলিয়ন টন মাছের মধ্যে আহরণ করা হয় মাত্র ০.৭০ মিলিয়ন টন মাছ। উল্লেখ করা যায় যে, পৃথিবীর সকল মানুষের আমিষের চাহিদার শতকরা ১৫ ভাগ আসে সামুদ্রিক সম্পদ থেকে। এছাড়া অসংখ্য মানুষ তাদের জীবিকা এবং খাদ্যের চাহিদার জন্য যেহেতু সামুদ্রিক সম্পদের ওপর নির্ভরশীল, সেহেতু সামুদ্রিক সম্পদ রক্ষার্থে আরও পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।

তেল এবং গ্যাস: বাংলাদেশের উপকূলীয় গ্যাস সম্ভাবনার প্রকৃত পরিমাণ এখনও জানা সম্ভব হয়নি। দেশের সমুদ্রের অভ্যন্তরেও গ্যাস মজুত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশের স্থল সীমানায় কিছু গ্যাস ক্ষেত্র রয়েছে এবং মায়ানমারের মতো বাংলাদেশের সমুদ্র সীমানায় আরও গ্যাসক্ষেত্র পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা দেশের গ্যাসের মোট মজুতের পরিমাণ বৃদ্ধি করতে পারে। এছাড়া, তেল এবং গ্যাস, লবণ, নবায়নযোগ্য সামুদ্রিক সম্পদ (অসমোসিস) এবং বায়োমাস, বিবিধ খনন (বালু, নুড়ি ইত্যাদি) এবং সমুদ্রজাত সম্পদগুলো অন্যান্য সামুদ্রিক সম্পদের মতো আরও  গুরুত্ব পাওয়া প্রয়োজন। ফলে, এ সকল সম্ভাবনাময় খাত আমাদের দেশের ভবিষ্যৎ টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।

পর্যটন খাত: বিশ্বব্যাপী উপকূলীয় পর্যটন, পর্যটন বাজারের বৃহত্তম অংশ এবং বিশ্বের জিডিপির শতকরা ৫ ভাগ এবং মোট কর্মসংস্থানের শতকরা ৬-৭ ভাগ। ১৫০টি দেশে এটি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী প্রথম পাঁচটি খাতের মধ্যে একটি। স্বল্পোন্নত দেশগুলোর অর্ধাংশের ক্ষেত্রে এটি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী প্রধান খাত। বাংলাদেশ পর্যটন খাত থেকে বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জন করতে পারে, যা জিডিপি বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে। - সূত্র: অনলাইন

 

সম্পাদক ও প্রকাশক: সরদার মোঃ শাহীন
উপদেষ্টা সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম সুজন
বার্তা সম্পাদক: ফোয়ারা ইয়াছমিন
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: আবু মুসা
সহ: সম্পাদক: মোঃ শামছুজ্জামান

প্রকাশক কর্তৃক সিমেক ফাউন্ডেশন এর পক্ষে
বিএস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড,
ওয়ারী, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ হতে প্রকাশিত।

বানিজ্যিক অফিস: ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা।
বার্তা বিভাগ: বাড়ি # ৩৩, রোড # ১৫, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা।
ফোন: ০১৯১২৫২২০১৭, ৮৮০-২-৭৯১২৯২১
Email: simecnews@gmail.com