ডিজিটাল মার্কেটিংয়ে কোটিপতি

প্রকাশের সময় : 2021-10-06 15:37:25 | প্রকাশক : Administration
ডিজিটাল মার্কেটিংয়ে কোটিপতি

সাজেদুর আবেদীন শান্ত: বিশ্ব এখন চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের দিকে যাচ্ছে। এই বিপ্লবের মূলে আছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি। বাংলাদেশেও আইসিটির প্রসার দ্রুত হচ্ছে। অনেকেই আইসিটি নির্ভর ক্যারিয়ার গঠনের চেষ্টা করছেন। কেউবা হচ্ছেন ফ্রিল্যান্সার। আবার কেউ কেউ হচ্ছেন সফল।

মোঃ সাব্বির খান, বাড়ি রংপুর জেলার মিঠাপুকুর উপজেলার রানীপুকুর গ্রামে। বাবা মোঃ জয়দুল খান একজন কৃষক, মা ছিলেন গৃহিণী। দুই ভাই-বোনের মধ্যে সাব্বির সবার ছোট। সাব্বির রানীপুকুর হাই-স্কুল ও কলেজ থেকে এসএসসি এবং রংপুর মুসলিম এইড ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলোজি থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে ডিপ্লোমা করেন।

এরপর সাব্বির উচ্চ শিক্ষার জন্য চায়না যান। কিন্তু হঠাৎ করে মা অসুস্থ হওয়াতে চায়না থেকে দেশে ফেরে সাব্বির। দেশে ফেরার কয়েকদিন পরেই তার মা মারা যাওয়ায়, সাব্বিরের বাবা আর তাকে চায়না যেতে দেননি। ছোটবেলা থেকেই প্রযুক্তির প্রতি অন্যরকম আকর্ষণ ছিল সাব্বিরের। ষষ্ঠ শ্রেণিতে থাকা অবস্থায় মোবাইলে ইন্টারনেট নিয়ে বেশ ঘাটাঘাটি করত।

যদিও ওই সময় থ্রি-জি ইন্টারনেটের যুগ ছিল না। তারপরও টু-জি দিয়ে কোনো রকম ইন্টারনেট চালানোর চেষ্টা করতো। অভাবের সংসারে সাব্বির অনেক কষ্ট করে পড়ালেখা করেছেন। নবম শ্রেণিতে থাকাকালীন সাব্বিরের পড়ালেখা প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়। এরপর সাব্বির রানীপুকুর ছেড়ে রংপুর শহরে যান। সেখানে এক বন্ধুর ভাইয়ের সাহায্যে একটা চাকরি পান সাব্বির।

১২ থেকে ১৫ ঘণ্টা কাজ করার পড়েও নিজের পড়ালেখা চালিয়ে গেছেন তিনি। এরপর সেখানে একবছর চাকরি করে পড়ালেখা চালিয়ে কিছু টাকা জমিয়ে ও বাবার থেকে কিছু টাকা নিয়ে এসএসসির পর ২০ হাজার টাকা দিয়ে একটা কম্পিউটার কেনেন। এই কম্পিউটারই হয় তখন তার সোনার হরিণ। কম্পিউটার দিয়ে ফ্রিল্যান্সিং করে সাব্বির এখন মাসে আয় করেন চার-পাঁচ লাখ টাকা।

কম্পিউটার সায়েন্সে ডিপ্লোমা ভর্তি হয়ে ওই কম্পিউটার দিয়ে একা একা কাজ করার চেষ্টা করতেন তিনি। নিজের খরচ চালিয়ে নিজের পড়াশোনা শেষ করার চেষ্টা করতেন। খুব অভাবে দিন কাটিয়েছেন তিনি। এমনও দিন গেছে যে একবেলা ভাত খেতে পাননি তারপরও নিজের বাবাকে কখনও টাকার জন্য চাপ দেয়নি, যে বাবা আজকে টাকা লাগবে।

তিনি সব সময় বোঝার চেষ্টা করতেন যে বাবারা কত কষ্ট করে আয় করে এবং কত কষ্ট করে সন্তানদের খাওয়ায়। কষ্টের মাঝেই কেটে গেলো কয়েকটি সেমিস্টার। কিন্তু এভাবে আর কত! কিছুতো একটা করতে হবে তার। তাই তার কাছের বন্ধু ও বড় ভাইয়ের পরামর্শে কম্পিউটারে ফ্রিল্যান্সিং করার চিন্তা করলেন।

ইউটিউবে অনেক ঘাটাঘাটি, অনেক রিসার্চ করার পরেও তেমন ভালো কোনো কাজের সন্ধান পেলেন না সাব্বির। সাব্বির বারবার চেষ্টা করার পরেও কাজ না পেয়েও হাল ছাড়েনি। আস্তে আস্তে একসময় বিভিন্ন আইডিয়া মাথায় এনে সেগুলো নিয়ে কাজ করার চেষ্টা করতে লাগলেন। যেমন, ডিজিটাল মার্কেটিং, ওয়েব ডেভলপমেন্ট ও গ্রাফিক্স ডিজাইন। ধীরে ধীরে তিনি এই সব সেক্টরেই কাজ করে গেলেন। তারপর তার কাছে ডিজিটাল মার্কেটিংটাই ভালো মনে হলো।

এজন্য ডিজিটাল মাঠ নিয়ে খুব ভালোভাবে কাজ করা শুরু করলেন তিনি। দিন-রাত এক করে কাজ করতে থাকলেন এবং তখনই তিনি সাফল্যের দেখা পেলেন। আল্লাহর রহমতে এই কাজেই তিনি সফল হন। এখন তিনি নিজেই একটা ডিজিটাল মার্কেটিং-এর কোম্পানি দিয়েছেন। যার বর্তমান মার্কেট মূল্য প্রায় তিন কোটি টাকা। এখন তিনি মাসে এখান থেকে প্রায় চার-পাঁচ লাখ টাকা আয় করেন। ডিজিটাল মার্কেটিং এ তার মোট আয় ৬ কোটি টাকা’।

সাব্বিরের মতো অনেক বেকার যুবকদের প্রতি সাব্বিরের পরামর্শ যুবকরা যেনো তাদের বাবা-মার কষ্টটা বোঝে। বাবা-মার টাকা থাকলেও নিজে নিজেই কিছু করার চেষ্টা করে তাহলেই যুবকরা একদিন সফল হবেই এবং যা করার চেষ্টা করবে তা যেন হালাল পথে হয়। তাহলে আল্লাহ তায়ালা বরকত দান করবেন। নতুন ফ্রিল্যান্সারদের প্রতি সাব্বিরের পরামর্শ অযথা মোবাইলে গেম খেলে সময় নষ্ট না করে ফ্রিল্যান্সিং করার ট্রাই করুন।

 

সম্পাদক ও প্রকাশক: সরদার মোঃ শাহীন
উপদেষ্টা সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম সুজন
বার্তা সম্পাদক: ফোয়ারা ইয়াছমিন
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: আবু মুসা
সহ: সম্পাদক: মোঃ শামছুজ্জামান

প্রকাশক কর্তৃক সিমেক ফাউন্ডেশন এর পক্ষে
বিএস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড,
ওয়ারী, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ হতে প্রকাশিত।

বানিজ্যিক অফিস: ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা।
বার্তা বিভাগ: বাড়ি # ৩৩, রোড # ১৫, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা।
ফোন: ০১৯১২৫২২০১৭, ৮৮০-২-৭৯১২৯২১
Email: simecnews@gmail.com