রোমানিয়া ইউরোপের বৈচিত্র্যপূর্ণ দেশ    

প্রকাশের সময় : 2021-10-06 15:39:23 | প্রকাশক : Administration
রোমানিয়া ইউরোপের বৈচিত্র্যপূর্ণ দেশ    

জেসিউর রহমান শামীম: আজ এমন এক দেশ সম্পর্কে আলোচনা করা হবে, যা অনেকের কাছে অনেক নামে পরিচিত। এই যেমন কেউ ‘কান্ট্রি অব ড্রাকুলা’কিংবা ভ্যাম্পায়ারের দেশ, কেউ চেনে কালো জাদুর দেশ নামে আবার জিপসি অর্থাৎ যাযাবরের দেশ ইত্যাদি নামেও অনেকে ডেকে থাকে। এটি এমন একটি দেশ, যেখানে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় আইন করে কালো জাদু বা ব্ল্যাক ম্যাজিককে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। সেই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরা দেশটি হল রোমানিয়া। রোমানিয়া সম্পর্কে অদ্ভুত এবং মজাদার কিছু তথ্যই আজ জানবো।

রোমানিয়া শব্দটি এসেছে ল্যাটিন রোমানাস থেকে, যার অর্থ ‘সিটিজেন অব রোম’ বা রোমান সাম্রাজ্যের নাগরিক। দেশটি ১৮৭৭ সালে অটোমান শ্বাসন থেকে মুক্তি পায় এবং ১৮৮১ সালে ‘কিংডম অব রোমানিয়া’ প্রতিষ্ঠিত হয়। রোমানিয়ার  রাজধানী বুখারেস্ট হলো দেশটির সবচেয়ে বড় শহর। এটিই দেশটির শিল্প, সাহিত্য, বাণিজ্যসহ যাবতীয় প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু। এই শহরেই রোমানিয়ার  পার্লামেন্ট প্যালেস ‘টি’অবস্থিত। এ পার্লামেন্ট ভবনটি পৃথিবীতে দ্বিতীয় বৃহত্তম নির্মাণ। এর আগে কেবল যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত পেন্টাগনের বিল্ডিং রয়েছে। এই বিল্ডিংটিকে অনেকেই বিশ্বের সবচেয়ে ভারী বিল্ডিংও মনে করেন। আয়তনের দিক থেকে এটি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় পার্লামেন্ট। অসাধারণ নির্মাণশৈলীর স্থাপত্যকলা, শহরের গঠন এবং ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং এর সঙ্গে বিদ্যমান সাহিত্য এবং চিত্রকলার অপরূপ মেলবন্ধনের কারণে বুখারেস্টকে পূর্ব ইউরোপের প্যারিস নামেও ডাকা হয়।

প্রায় ২ লক্ষ ৩৮ হাজার ৩৯৭ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের দেশটিতে ২০১৭ সাল পর্যন্ত জনসংখ্যা ছিল প্রায় ১ কোটি ৯৯ লক্ষ। আয়তনের দিক দিয়ে এটি দক্ষিণ পূর্ব ইউরোপের সবচেয়ে বড় দেশ এবং পুরো ইউরোপে রোমানিয়ার অবস্থান ১২ তম। এবং ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে জনসংখ্যার বিবেচনায় বুখারেস্ট ষষ্ঠ বৃহত্তম শহর।

রোমানিয়ার  জনসংখ্যার শতকরা ৯১ ভাগের মতো মানুষ খ্রিষ্টধর্মে (মূলত অর্থোডক্স খ্রিষ্টান) বিশ্বাসী। রোমানিয়ার বেশির ভাগ মানুষই রোমানিয়ান নামক Ethnic গোষ্ঠীর সদস্য। তবে, দেশটিতে হাঙ্গেরিয়ান, জার্মান, রোমা, ইউক্রেনিয়ান এসব Ethnic গোষ্ঠীর মানুষও রয়েছে। রোমানিয়ার সরকারি ভাষা রোমানিয়ান এবং এই ভাষা ইতালিয়ান কিংবা ফ্রেঞ্চদের ভাষার সঙ্গে অনেকটা সাদৃশ্যপূর্ণ।

অর্থাৎ রোমানিয়ান পূর্ব ইউরোপের মধ্যে একমাত্র রোমান ভাষা। অনেকে মনে করেন যে রোমান সম্রাট নিরোর হাতে রোমের পতন ঘটলে রোম থেকে একদল মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে পূর্ব দিকে অগ্রসর হতে থাকে এবং শেষ পর্যন্ত সুউচ্চ কার্পেথিয়ান পর্বতমালা দ্বারা বেষ্টিত এ অঞ্চলটিতে তাঁরা বসতি স্থাপন করতে শুরু করে, যাঁদের হাত ধরেই এ অঞ্চলটিতে লাতিন ভাষার প্রচলন ঘটে। এই ভাষাটি প্রায় ১৭০০ বছর পুরোনো একটি ভাষা।

শহরাঞ্চলে বসবাস করা মানুষেরা সাধারণত পাশ্চাত্য ভাবধারার পোশাক পরিধান করে থাকেন। তবে গ্রামাঞ্চলের দিকে বসবাস করা মানুষেরা নিজেদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরিধান করতে বেশি ভালোবাসে। রোমানিয়ায় মেয়েদের চুল দেখে বলে দেওয়া যায় যে সে বিবাহিত নাকি অবিবাহিত। অবিবাহিত মেয়েরা চুল খোলা রাখতে পছন্দ করে এবং সাধারণত চুলে বেণি গাঁথে। আর বিবাহিত নারীরা মারামা নামক একধরনের কাপড় দিয়ে চুল ঢেকে রাখে। রোমানিয়ার খাবারে তুরস্ক, গ্রিস, বুলগেরিয়া, সার্বিয়া, ইউক্রেন, ইতালির প্রভাব লক্ষ করা যায়। ‘চরবা দে বুরতা’রোমানিয়ার একটি ঐতিহ্যবাহী খাবার।

রোমানিয়ার জাতীয় পতাকার দিকে লক্ষ করলে দেখা যায় নীল, হলুদ ও লাল রং আছে, যা ট্রান্সসিলভানিয়া, মলদাভিয়া ও ওয়ালাসিয়া এ তিনটি ভিন্ন স্থানকে প্রতিনিধিত্ব করে। এ তিনটি স্থান দেশটির ঐতিহাসিক একতার পরিচয় বহন করে। এই দেশের চার দিকে রয়েছে বুলগেরিয়া, সার্ভিয়া, হাঙ্গেরি, ইউক্রেন ইত্যাদি দেশগুলি। দেশটির দক্ষিণ পূর্ব ভাগে প্রায় ২৪৫ কিলোমিটার রেখা বরাবর অবস্থিত কৃষ্ণ সাগর। আপুসেনি পর্বতমালার নিম্নাংশে অবস্থিত স্কারিশোয়ারা নামক হিমবাহটি ইউরোপের দ্বিতীয় বৃহত্তম ভূগর্ভস্থ হিমবাহ, যা আনুমানিক সাড়ে তিন হাজার বছরের পুরোনো বলে মনে করা হয়।

ইউরোপের বেশির ভাগ বনাঞ্চলই রোমানিয়ায় অবস্থিত। বন জঙ্গল বেশি হওয়াতে সেখানে পশু-পাখিও বেশি দেখা যায়। রাশিয়া ছাড়া ইউরোপের বেশির ভাগ বাদামি ভাল্লুক রোমানিয়ায় দেখা যায়। দেশটির এই অপরূপ সৌন্দর্য দেখতে প্রতি বছর অনেক বিদেশী পর্যটক ঘুরতে আসে এখানে। রোমানিয়ার অর্থনীতিতে পর্যটন শিল্পের ভূমিকা দিন দিন বেড়েই চলছে। আঙুর, আপেল, সরিষা এবং বিভিন্ন সবজি থেকে প্রস্তুতকৃত তেল থেকে শুরু করে খনিজ সম্পদ, কেমিক্যাল, লোহার যন্ত্রপাতি, বস্ত্র শিল্প ইত্যাদি রোমানিয়ার অর্থনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রকৃতি থেকে পাওয়া প্রচুর পরিমাণে খনিজ তেলসম্পদ এবং পৃথিবীতে জমা থাকা স্বর্ণের এক বিশাল ভান্ডার রোমানিয়ায় রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রোমানিয়া পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি ওয়াইন প্রস্তুতকারক দেশগুলোর মধ্যে একটি।

ফুটবল রোমানিয়ার সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা। ইউরোপের জনপ্রিয় ফুটবল ক্লাব স্টুয়া বুখারেস্টির পীঠস্থান রাজধানী বুখারেস্টে। এ ছাড়া টেনিস দেশটির অন্যতম আরও একটি জনপ্রিয় খেলা। পৃথিবীর অন্যতম সেরা ড্রাইভিং রোড হিসেবে পরিচিত ট্রান্সফাগারাসান হাইওয়েটি রোমানিয়াতে অবস্থিত এবং এটি পৃথিবীর সেরা ইঞ্জিনিয়ারিং নিদর্শনগুলোর মধ্যে একটি হিসেবে বিবেচিত হয়। এ ছাড়া ইউরোপের সবচেয়ে দ্রুতগতির ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগ রোমানিয়ায় পাওয়া যায়।

রোমানিয়ায় কালো জাদুর বা ব্ল্যাক ম্যাজিকের ওপর ট্যাক্স বসানো আছে। রোমানিয়ায় সরকারিভাবে এ কালো জাদুর বা ব্ল্যাক ম্যাজিককে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে এবং যেসব মানুষ জাদুবিদ্যা কিংবা মানুষের ভবিষ্যৎ গণনার মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করে, তাদের ওপরে এ ট্যাক্স বসানো রয়েছে। আইরিশ ঔপন্যাসিক ব্রাম স্টোকার রচিত বিখ্যাত চরিত্র ড্রাকুলা বা ভ্যাম্পায়ারের চরিত্রটি চিত্রায়িত হয়েছে ওয়ালাসিয়ার বিখ্যাত অর্থোডক্স রাজা ভ্লালাদ দ্য ইম্পাল্যারকে অনুসরণ করে। তাঁর জন্ম রোমানিয়ার সিঘিসোয়ারাতে।

রোমানিয়ার জাতীয় মুদ্রা রোমানিয়ান লেছু। যার অর্থ লায়ন। রোমানিয়ার মানুষ অতিথি আপ্যায়নের জন্য বিখ্যাত। বিভিন্ন রকমের খাবার দিয়ে অতিথি আপ্যায়ন করা হয় এখানে। এখানকার মানুষেরা খুবই নরম মনের হয়ে থাকে।

 

সম্পাদক ও প্রকাশক: সরদার মোঃ শাহীন
উপদেষ্টা সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম সুজন
বার্তা সম্পাদক: ফোয়ারা ইয়াছমিন
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: আবু মুসা
সহ: সম্পাদক: মোঃ শামছুজ্জামান

প্রকাশক কর্তৃক সিমেক ফাউন্ডেশন এর পক্ষে
বিএস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড,
ওয়ারী, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ হতে প্রকাশিত।

বানিজ্যিক অফিস: ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা।
বার্তা বিভাগ: বাড়ি # ৩৩, রোড # ১৫, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা।
ফোন: ০১৯১২৫২২০১৭, ৮৮০-২-৭৯১২৯২১
Email: simecnews@gmail.com