প্রকাশের সময় : 2021-11-17 15:41:50 | প্রকাশক : Administration

করোনা দিনের ডায়েরি...

৩০ তম পর্ব

ইঞ্জিঃ সরদার মোঃ শাহীন

 

আর মুরোদ থাকলেও বাংলাদেশে আগে থেকেই থাকা কার্যক্ষমতা না জানা বিভিন্ন ঔষধের সামনে পাল্লা দিয়ে টিকে থাকার সামর্থ্য করোনার নেই। সেসব ঔষধ খুঁজে বের করার ডাক্তার যেমনি বাংলাদেশে আছে, তেমনি মাশাআল্লাহ ঔষধেরও কমতি নেই। সেসব ঔষধ দামে যেমনি সস্তা, তেমনি হাতেরও নাগালে। রাস্তার মোড়ের ফার্মেসীতেও পাওয়া যায়।

পত্রিকায় দেখলাম ইদানিং সেসব কেনার হিড়িক পড়েছে। মিডিয়ায় একেকটা ঔষধের কার্যকারীতার কথা বের হয় আর মানুষ হুমরী খেয়ে পড়ে। দোকানে ভীড় জমায় আর পাল্লা দিয়ে কেনে। ইদানিং খুব কিনছে আইভারমেকটিন। সারা বিশ্বে পরজীবী সংক্রমণের চিকিৎসায় অস্ট্রেলীয় ঔষধ আইভারমেকটিন ব্যবহার করা হয়। কিন্তু বর্তমানে করোনা রোগীদের চিকিৎসায় এই ‘বিস্ময়কর’ ঔষধটি ব্যবহার করা হচ্ছে। গবেষণার সঙ্গে জড়িত রোগীদের শরীরে করোনাভাইরাস মুক্ত করে দুর্দান্ত ফলাফল দেখাচ্ছে এই ঔষধটি।

অস্ট্রেলিয়ার সেন্টার ফর ডাইজেস্টিভ ডিজিজের মেডিক্যাল ডিরেক্টর প্রফেসর থমাস বোরোডি বলেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এটির উন্নয়নের জন্য আমি কাজ করছি। সেখানে গবেষণার সব রোগীর ক্ষেত্রে আশ্চর্যজনকভাবে সফল এই ঔষধটি। আমরা শতভাগ সফলতার কথা বলছি। আসলে আমরা এখনো শতভাগ সফলতার নিচে কোনো ফলাফল দেখিনি। মনে হচ্ছে, করোনাকে মারাটা খুব সহজ।

শতভাগ সফলতার কথা জানিয়ে থমাস বোরোডি বলেন, বাংলাদেশে ১৪ হাসপাতালে এর পরীক্ষা চলছিল। আমি দেখেছি একশতে একশ সুস্থ হতে। চীন এটির উৎপাদনের চেষ্টা করছে। তারাও ৬০ জনের মধ্যে ৬০ জনের সুস্থতা দেখেছে। তাই আমি আইভারমেকটিন, ডক্সিসাইক্লিন ও জিংক দিয়ে করোনার চিকিৎসার পক্ষে। কারণ এটির খুব কমই ক্ষতিকর দিক রয়েছে এবং করোনাভাইরাসের আসল হত্যাকারী এটিই।

করোনার এই ‘বিস্ময়কর’ ঔষধটি মাত্র ২ মার্কিন ডলারে (বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৭০ টাকা) কিনতে পাওয়া যায়। তাই ঔষধ প্রস্তুতকারকরা এই ঔষধটি নিয়ে প্রচারণা করছেন না বলে দাবি বোরোডির। তিনি বলেন, এই উপায়ে রোগ নিরাময়ের ফলে সহজেই হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার প্রয়োজনীয়তা কমিয়ে দেয়।

আফসোস, কানাডায় বসে এই আইভারমেকটিন কেনার সুযোগ নেই আমার। সুযোগ নেই বস্তাভরে কিনে ঘরে গুদামজাত করার। থাকলে কয়েক বস্তা কিনে রাখতাম। নিজেরা খেতাম; আবার এ বাড়ি ও বাড়ি পাঠাতেও পারতাম। পাঠাবার পর ফোন দিয়ে কাছের জনকে বলতাম, দুই কার্টুন পাঠিয়ে দিলাম। খাইতে থাকো। শেষ হলে বলো, আরো পাঠাবো। কাজকর্ম নেই। তাই আউল ফাউল ভাবি। বেশি ভাবি আমার শোনিমের কথা।

আমার শোনিম। করোনার এই কয় মাসে আরো বড় হয়ে গেছে। লাফিয়ে লাফিয়ে বড় হচ্ছে। ক’মাস বাদেই ষোল পূর্ণ হবে। খুশির বিষয়। কিন্তু ওর মা এবং আমি খুশি নই। আমরা চাইনা এত তাড়াতাড়ি বড় হয়ে যাক ছেলেটা। কিন্তু ও খুব একসাইটেট। বয়স ষোল হতে যাচ্ছে ভেবেই সে একসাইটেট। কথায় কথায় এখন আর পোলাপাইন কথাটি শুনতে হবে না। একটা মুরুব্বী মুরুব্বী ধাঁচের ট্রিট পাবে। এজন্যেই করোনা টরোনায় কোন পরোয়ানা নেই শোনিমের।

ক’দিন ধরে শোনিমের ভাবসাবে পরিবর্তন এসেছে। একটু পরপরই টয়লেটে ঢোকে। একবার নিজের টয়লেট তো একবার মায়ের টয়লেট। না ঢোকেই বা উপায় কি! হঠাৎ করে পেটে কামড় দেয়; পেটটা একটু ব্যথা ব্যথা করে। অমনি দৌঁড়। ইদানিং এমন দৌঁড়টা বেড়ে গেছে। মানে, বেড়ে গেছে টয়লেটে যাওয়ার মাত্রা। করোনার দুর্দিনে আমাদের কপালে চিন্তার বলিরেখা। কথায় কথায় আগের মত ডাক্তারও পাওয়া যায় না।

এমনদিনে কেবল টয়লেটে যাবার সংখ্যা বাড়া নয়, ভেতরে বসে থাকার সময়টাও বেড়েছে। একবার গেলে আর বেরুবার নাম নেই। চুপচাপ, শব্দহীন টয়লেটে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকে। ওর মা এবং আমি; দু’জনেই চিন্তিত কন্ঠে বাইরে থেকে জিজ্ঞেস করি, কষ্ট হচ্ছে বাবা? পেট কি খুব ব্যথা করছে? ভেতর থেকে শোনিমের জবাব, না আব্বু! নো ব্যথা। এভরিথিং ওকে; ফাইন। জবাবের মধ্যে সামান্য জড়তা নেই। একেবারেই স্বাভাবিক।

স্বাভাবিক থাকাটাই স্বাভাবিক। ভাল এবং সম্পূর্ণ সুস্থ একজন মানুষ টয়লেট না চাপলেও চাপার ভান ধরে টয়লেটে বসে থাকলে এমনই হয়। এসব না করেই বা উপায় কি? করোনাকালে স্কুল নেই, পড়াশুনার তেমন চাপ নেই। কিচ্ছু না করে আর কত ঘরের বন্দি জীবনে থাকা যায়! কত মাস থাকা যায়! কাজের মধ্যে কাজ একটাই। মোবাইল টিপো। আর অনলাইনে ঘুটুর ঘুটুর করো। কিন্তু মায়ের জ্বালায় তাও সম্ভব নয়। অগত্যা টয়লেটের ভান ধরে একটু পরপর টয়লেটে ঢুকে পড়া।

ঢুকে পড়ার ধরণটাও দারুণ। ট্রাউজারের পকেটে মোবাইল লুকিয়ে শোনিম এমনভাবে টয়লেটে ঢোকে যেন মা না দেখে। বাবা দেখলে সমস্যা নেই। বাবাকে তেমন গোণায় ধরেনা। ধরার কথাও না। বাবা দেখলেও কিছু বলে না। বলার মত মুখ থাকলে না বলবে। কাজটা তো বাবাও করে। মানে, বাপবেটা মিলেই করি। তবে প্রকাশ্যে না; গোপনেগোপনে করি। না করে উপায় কি। মালিকের কঠিন শাসন। আইয়ুব খানের শাসন; টয়লেটে মোবাইল নিয়ে যাওয়া যাবে না। টয়লেটে মানুষ হাগু করতে যায়। মোবাইল টিপতে যায় না।

আইয়ুবের বেটিকে লুকিয়ে যাবারও উপায় নেই। কোনভাবে পার পাবার যোগাড় নেই। যেখানেই লুকিয়ে মোবাইল দেখি না কেন, তার চোখে পড়বেই। ডিবির চোখ। সামান্য ফাঁকি দেবার জো নেই। মায়াদয়া তো নেইই। প্রথমে খুশখুশে কাঁশি দিয়ে জানতে চাইবে, কি করি? তারপর কষে ধমক। শোনিমকে ডাইরেক্ট ধমক দেয়। আমাকে দেয় ইনডাইরেক্ট। দম আটকে আসে। করোনায় যেভাবে শ্বাস আটকে আসে, ঠিক তেমনি দম আটকে আসে।

আমার এবং শোনিমের মতে করোনার চাইতেও কঠিন জিনিস ওর মা। গায়ের গড়ন এবং চরিত্রের ধরণও অনেকটা একই। অতীব সুন্দর এবং সদা শান্ত প্রকৃতির। তবে ধরলে খবর করে ছাড়ে। প্রথম দু’সপ্তাহ রাগের উপসর্গ বোঝা যায় না। চুপচাপ নির্বিকার থাকে। এরপর শুরু হয় সিমটমের প্রকাশ। আস্তে আস্তে বের হয় রাগ। রাগের পরশে প্রথমে ফুসফুস দুর্বল হয়; দম যায় যায় করে আমাদের। পরে যাবার উপক্রম হয় প্রাণের। এমনি পরিস্থিতিতে অক্সিজেন নিয়ে শোনিম কোন রকম নিজেকে সামলাতে পারে। আমি পারি না! আমার লাগে ভেন্টিলেশন!! প্রথমে আইসোলেশন, পরে ভেন্টিলেশন!!! চলবে...

 

সম্পাদক ও প্রকাশক: সরদার মোঃ শাহীন
উপদেষ্টা সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম সুজন
বার্তা সম্পাদক: ফোয়ারা ইয়াছমিন
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: আবু মুসা
সহ: সম্পাদক: মোঃ শামছুজ্জামান

প্রকাশক কর্তৃক সিমেক ফাউন্ডেশন এর পক্ষে
বিএস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড,
ওয়ারী, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ হতে প্রকাশিত।

বানিজ্যিক অফিস: ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা।
বার্তা বিভাগ: বাড়ি # ৩৩, রোড # ১৫, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা।
ফোন: ০১৯১২৫২২০১৭, ৮৮০-২-৭৯১২৯২১
Email: simecnews@gmail.com