করোনা নিয়ন্ত্রণের পথে বাংলাদেশ

প্রকাশের সময় : 2021-12-01 14:56:48 | প্রকাশক : Administration
করোনা নিয়ন্ত্রণের পথে বাংলাদেশ

দেশে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের সংক্রমণ মৃত্যু একেবারেই কমে এসেছে। কিছুদিন আগে একদিনে মাত্র একজন মৃত্যুবরন করেন। দেশে করোনা সংক্রমণের ১৯ মাস পর এক দিনে এটিই সবচেয়ে কমসংখ্যক মৃত্যুর ঘটনা। পরবর্তী দু’দিন যথাক্রমে চার ও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। দুই মাস ধরে নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ৫ শতাংশের নিচে।

এক সপ্তাহ ধরে শনাক্তের হার দেড় শতাংশের নিচে। দেশে অফিস-আদালত, ব্যবসা-বাণিজ্য, পর্যটন কেন্দ্র পুরোদমে চলছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও চালু হয়েছে। টিকাকরণেও গতি এসেছে। ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের পরীক্ষামূলক টিকাদান শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে টিকার আওতায় আনতে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি চলছে। সব মিলিয়ে গত বছরের মার্চের পর জনজীবন স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরেছে। তবে কি করোনা নির্মূলের পথে রয়েছে বাংলাদেশ?

স্বাস্থ্য বিভাগ ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে করোনা ঠিক এখনই বিদায় নিচ্ছে না। তাদের অভিমত, টানা দেড় মাস সংক্রমণ ৫ শতাংশের নিচে থাকায় করোনাভাইরাস অন্যান্য সাধারণ রোগের মতো একটি রোগ হিসেবে গণ্য করা যায়। কিন্তু বিশ্বের অনেক দেশে সংক্রমণ একেবারেই কমে আসার পর আবারও বেড়ে মহামারি রূপ নিয়েছে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্টে সংক্রমণ আবারও বাড়ছে। ওই ধরন ছড়িয়ে পড়লে দেশেও সংক্রমণ বাড়বে।

সুতরাং সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে থাকলেও মাস্ক পরা অব্যাহত রাখতে হবে। সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। একই সঙ্গে টিকাকরণ আরও দ্রুতলয়ে অব্যাহত রাখতে হবে। বিশেষ করে দ্রুততম সময়ে অধিকসংখ্যক জনগোষ্ঠীকে টিকার আওতায় আনার ব্যবস্থা নিতে হবে। তবেই সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হতে পারে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যানুযায়ী, সংক্রামক রোগের ক্ষেত্রে শনাক্তের হার ৫ শতাংশের নিচে নামলে সেটি অন্যান্য সাধারণ রোগের মতো গণ্য হবে। তবে ন্যূনতম ১৪ দিন এই হার বজায় থাকতে হবে। দেশে করোনার সংক্রমণ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের পিক টাইমে দৈনিক রোগী শনাক্তের হার চলতি বছরের জুলাইয়ে ৩০ শতাংশ ছাড়িয়েছিল। একই সঙ্গে দৈনিক রোগী শনাক্তের সংখ্যা ১৫ হাজার এবং মৃত্যু আড়াইশ ছাড়িয়ে যায়।

কিন্তু আগষ্ট মাসের মাঝা-মাঝি সময় থেকে সংক্রমণ ও মৃত্যু কমতে থাকে। শনাক্তের হারও কমতে শুরু করে এবং গত ২১ সেপ্টেম্বর তা ৫ শতাংশের নিচে নেমে আসে। এর পর থেকে   টানা ৫৯ দিন ধরে শনাক্তের হার ৫ শতাংশের নিচে রয়েছে। তবে ৩ অক্টোবর থেকে শনাক্তের হার ৩ শতাংশের নিচে নেমে আসে। গত ২২ অক্টোবর তা আরও কমে ১ দশমিক ৩৬ শতাংশে নেমে আসে। এরপর শনাক্তের হার কিছুটা হ্রাস-বৃদ্ধি হলেও তা ২ শতাংশ অতিক্রম করেনি।

এক সপ্তাহ ধরে শনাক্তের হার দেড় শতাংশের নিচে রয়েছে। একই সঙ্গে মৃত্যুও কমে আসছে। এক সপ্তাহ ধরে মৃত্যুর সংখ্যা এক অঙ্কের ঘরে। সুতরাং করোনাভাইরাস সংক্রমণ ও মৃত্যু পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণের পথে বলা যায়। তবে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের। যত দ্রুততম সময়ে অধিকসংখ্যক মানুষকে টিকার আওতায় আনা সম্ভব হবে, ততই সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে কিছুটা হলেও সফলতা আসবে। - সূত্র: অনলাইন

 

সম্পাদক ও প্রকাশক: সরদার মোঃ শাহীন
উপদেষ্টা সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম সুজন
বার্তা সম্পাদক: ফোয়ারা ইয়াছমিন
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: আবু মুসা
সহ: সম্পাদক: মোঃ শামছুজ্জামান

প্রকাশক কর্তৃক সিমেক ফাউন্ডেশন এর পক্ষে
বিএস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড,
ওয়ারী, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ হতে প্রকাশিত।

বানিজ্যিক অফিস: ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা।
বার্তা বিভাগ: বাড়ি # ৩৩, রোড # ১৫, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা।
ফোন: ০১৯১২৫২২০১৭, ৮৮০-২-৭৯১২৯২১
Email: simecnews@gmail.com