বড় বড় মেগা প্রকল্পে দূরদর্শী পদক্ষেপ

প্রকাশের সময় : 2021-12-01 15:21:57 | প্রকাশক : Administration
বড় বড় মেগা প্রকল্পে দূরদর্শী পদক্ষেপ

বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ। এখানে বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্প দরকার আছে। উন্নয়নের পথে বাংলাদেশের বড় সমস্যা অবকাঠামো। সেদিক থেকে লক্ষ্য রেখে সরকার এ বড় প্রকল্পগুলো হাতে নিয়েছে। এটা দূরদর্শী পদক্ষেপ। কারণ উন্নত দেশ গঠনে অবকাঠামো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দেখা গেলো দেশে প্রত্যাশার চেয়েও অনেক বেশি, বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ আসা শুরু করেছে।

কিন্তু আমাদের সড়ক ঠিক নেই। রাস্তাঘাট ভালো নেই। অবকাঠামো ভালো নেই তখন কি হবে? ভবিষ্যতের দিকে লক্ষ্য রেখে একটি সক্ষম বিনিয়োগ পরিবেশ সৃষ্টির মেগা প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। যদি এরকম উদ্দেশ্যে মেগা প্রকল্পগুলো হাতে নেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে ঠিক আছে, কিন্তু এর দ্বারা যদি এটা প্রমাণিত হয় যে, বড় বড় প্রকল্প তৈরি করে একটা সুবিধাবাদী গ্রুপ তৈরি করা হয় বা একটা কিছু করা হয়, সেদিকে যদি যায়, তাহলে মেগা প্রকল্পের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন ওঠবে।

প্রত্যাাশিত উন্নতি হবে না। কারণ আপনার উদ্দেশ্যের মধ্যে গোলমাল ছিলো। যে কারণে দেদারছে বিদেশি ঋণ নেওয়া হচ্ছে, দুর্নীতি করার জন্যই এসব প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছিলো, এমন প্রশ্ন সামনে আসতে পারে। এমনটা হলে অর্থনীতিতে একটা চাপ সৃষ্টি হবে। তখন যে লাভ পাওয়ার জন্য মেগা প্রকল্প করা হয়েছিলো, সেই লাভ তো পাওয়া যাবেই না, বরং অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

ঋণ নিয়ে, বড় দুর্নীতি করে, ২ বছরের প্রজেক্ট ১০ বছর পিছিয়ে দিয়ে, প্রকল্পের ব্যয় বাড়িয়ে তারপর যদি শেষ করা হয় তাহলে দেখা যাবে যে, মেগা প্রকল্পের প্রকৃত সুবিধা পাওয়া যাবেনা। যেমন একটা বড় ব্রিজ বানানো হচ্ছে কি জন্য? কারণ যাতায়াত ব্যবস্থা উন্নত হবে। মানুষ সহজে যাতায়াত করতে পারবে ইত্যাদি। কিন্তু সেই ব্রিজ বানানোর পর যদি দেখা যায়, ব্রিজ নির্মাণ ব্যয় এতোই বেশি যে তার আর কোনো লাভ নেই।

কিন্তু একই সময়ে সেতু নির্মাণ করতে গিয়ে টাকা এদিকসেদিক করে ফেলা হলো। ফলে তখন পুরো চাপটাই এসে অর্থনীতির ওপর পড়বে। পদ্মা সেতু, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুতকেন্দ্র, বঙ্গবন্ধু টানেল, ফ্লাইওভার, চারলেন- এসব তো নামেই পরিচয়। এসব অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে যাতায়াত বা যোগাযোগ ব্যবস্থা দ্রুত উন্নত করা যাবে। শিল্পের জন্য খুব সহায়ক হবে।

কিন্তু বড় বড় মেগা প্রকল্প করতে গিয়ে যদি ব্যয় বাড়িয়ে দেয়া হয়, তাহলে উদ্দেশ্য সাধন হবে না। প্রকৃত সুফল পাওয়া যাবে না। বড় প্রকল্পগুলো যে উপকারের জন্য করা হচ্ছে, বানানোর পর যদি দেখা যায় যে, উপকার হলো না, তখন বিনিয়োগটা ব্যর্থ হিসেবে বিবেচিত হবে। প্রজেক্ট থেকে দুর্নীতি করে যে টাকা নেওয়া হয়েছে তা যাবে, যে ঋণ নেওয়া হয়েছে তাও যাবে।

এতে একটা অর্থনৈতিক চাপে পড়তে হবে। এমন কিছু হলে নিশ্চয়ই তা আমাদের জন্য ভালো কিছু বয়ে আনবে না। মেগা প্রকল্পগুলো যথাযথভাবে নিয়মকানুন, অর্থ ব্যয়ে সতর্ক থেকে নির্মাণ কাজ শেষ করতে হবে। ব্যয়বহুল করে ফেললে যে উপকার পাওয়ার প্রত্যাশা করছি তা হয়তো পাওয়া যাবেনা। ধরুন, একটা বিদ্যুতকেন্দ্র বানানোর সময় বলা হলো, প্রতি ইউনিট চার টাকায় বিদ্যুত দিতে পারা যাবে।

কিন্তু বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণ করার পর দেখা গেলো বিদ্যুত ইউনিট প্রতি ৯ টাকা করে দিতে হবে। ৯ টাকা হলে তো গ্রাহক বা শিল্পের ব্যয় অনেক বেড়ে যাবে। ব্যয় বাড়লে ব্যবসায় ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। প্রকৃত উপকার তো পাওয়া যাবে না। প্রকল্প সীমিত ব্যয়ের মধ্যে শেষ করার চেষ্টা করতে হবে। দুর্নীতি যাতে না হয়, সেদিকে কড়া নজর রাখতে হবে। - সূত্র: অনলাইন

 

সম্পাদক ও প্রকাশক: সরদার মোঃ শাহীন
উপদেষ্টা সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম সুজন
বার্তা সম্পাদক: ফোয়ারা ইয়াছমিন
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: আবু মুসা
সহ: সম্পাদক: মোঃ শামছুজ্জামান

প্রকাশক কর্তৃক সিমেক ফাউন্ডেশন এর পক্ষে
বিএস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড,
ওয়ারী, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ হতে প্রকাশিত।

বানিজ্যিক অফিস: ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা।
বার্তা বিভাগ: বাড়ি # ৩৩, রোড # ১৫, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা।
ফোন: ০১৯১২৫২২০১৭, ৮৮০-২-৭৯১২৯২১
Email: simecnews@gmail.com