মেঘনার চরে হাঁসের খামার

প্রকাশের সময় : 2021-12-01 15:23:46 | প্রকাশক : Administration
মেঘনার চরে হাঁসের খামার

তৌহিদুর রহমান: জেলার আশুগঞ্জে মেঘনা নদীর বুকে জেগে ওঠা চরের নাম চরসোনারামপুর। এই চরের জনবসতি প্রধানত মাছ শিকারকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। কিন্তু দূর-দূরান্ত থেকে আসা খামারিরা মেঘনার এই চরে গড়ে তুলেছেন হাঁসের খামার। এই চর ছাড়াও মেঘনার মোহনায় জেগে ওঠা নবীনগর, আশুগঞ্জ ও সরাইল উপজেলার বিভিন্ন চরে রীতিমতো হাঁসের বিপ্লব ঘটিয়েছেন কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম, ইটনা, নিকলী, মিঠামইন ও হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে আসা খামারিরা।

চরের চারপাশের পানিতে এখন ভেসে বেড়ায় অসংখ্য হাঁস। মেঘনার ঢেউয়ে তাল মিলিয়ে হাঁসের হেলে-দুলে ভেসে বেড়ানোর দৃশ্য দেখে মুগ্ধ হয় সবাই। মেঘনা তীরবর্তী জেলার নবীনগর উপজেলার বাইশমৌজা, আশুগঞ্জের লালপুর ও সরাইলের পানিশ্বর এলাকার ছোট-বড় চরে গড়ে তোলা হয়েছে অর্ধশতাধিক হাঁসের খামার। শুধুমাত্র আশুগঞ্জের চরসোনারামপুরে রয়েছে ৩০ টি হাঁসের খামার। এসব খামারে বর্তমানে ৪০ হাজারেরও বেশি হাঁস রয়েছে।

প্রায় আট/দশ বছর ধরে চরসোনারামপুরে হাঁস পালন জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। নিকলী উপজেলার মরকোনা গ্রামের করিম মিয়া প্রথমে এই চরে হাঁসের খামার গড়ে তোলেন। পরে তার দেখাদেখি ওই গ্রামের আরও অনেকে চরসোনারামপুরে হাঁসের খামার করেন। পরে লোকমুখে এই চরের নাম ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের এলাকায়। এভাবে অষ্টগ্রাম, ইটনা, মিঠামইন ও লাখাই উপজেলা থেকে খামারিরা চরসোনারামপুরে এসে খামার করেন।

হাঁসের খামারি আফজাল মিয়ার খামারে আট’শত হাঁস রয়েছে। এর মধ্যে ১৫/২০টি পুরুষ হাঁস। প্রতিদিন প্রায় ৬শ’ হাঁস ডিম দেয়। চরে বসবাসরত জেলে পরিবারের অন্তত ৪০ জন নদী থেকে মাছ ধরার পাশাপাশি শামুক তুলে এনে খামারিদের কাছে বিক্রি করে থাকেন। প্রতি বস্তা শামুক ২০০/৩০০ টাকায় বিক্রি করেন খামারিদের কাছে। শামুক বিক্রি করে প্রতিদিন তাদের হাজার টাকারও বেশি আয় হয়।

আরেক খামারি মফিজ মিয়ার আশুগঞ্জে বড় ধানের মোকাম থাকায় সারাবছরই ধান পাওয়া যায়। খাবারের পর্যাপ্ততা ও সহজলভ্যতার কারণে দ্রুত বেড়ে উঠে হাঁস। ডিমও দেয় বেশি। তাছাড়া নদীর দুই তীরে দুই উপজেলা শহর থাকায় ডিম বিক্রি থেকে শুরু করে সব কাজেই সুবিধা পাওয়া যায়। নদী তীরের বালু চরে বাঁশের খুঁটি ও জালের বেড়া দিয়ে হাঁসের ঘর তৈরি করা হয়। রাতে এসব ঘরে হাঁস থাকে।

প্রতিটি খুপড়ির কাছেই তৈরি করা হয়েছে বাঁশের মাচা। যেখানে রাত কাটান খামারিরা। আর দিনের বেলায় হাঁসের বিচরণ ও খাবারের জন্য নদীর তীরেই জালের বেড়া দিয়ে ঘর তৈরি করা হয়েছে। আশুগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসে পর্যাপ্ত পরিমাণে ডাকপ্লেগ-এর ভ্যাকসিন রয়েছে। বিগত চার মাসে ১২ হাজারেরও বেশি ভ্যাকসিন বিতরণ করা হয়েছে।

 

সম্পাদক ও প্রকাশক: সরদার মোঃ শাহীন
উপদেষ্টা সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম সুজন
বার্তা সম্পাদক: ফোয়ারা ইয়াছমিন
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: আবু মুসা
সহ: সম্পাদক: মোঃ শামছুজ্জামান

প্রকাশক কর্তৃক সিমেক ফাউন্ডেশন এর পক্ষে
বিএস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড,
ওয়ারী, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ হতে প্রকাশিত।

বানিজ্যিক অফিস: ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা।
বার্তা বিভাগ: বাড়ি # ৩৩, রোড # ১৫, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা।
ফোন: ০১৯১২৫২২০১৭, ৮৮০-২-৭৯১২৯২১
Email: simecnews@gmail.com