সিন্দাবাদের স্মৃতিধন্য ওমানের সৌন্দর্য

প্রকাশের সময় : 2021-12-29 11:42:29 | প্রকাশক : Administration
সিন্দাবাদের স্মৃতিধন্য ওমানের সৌন্দর্য

জেসিউর রহমান শামীম: আরব্য রজনীর দিগি জয়ী নাবিক সিন্দাবাদের স্মৃতি ধন্য ওমান। পুরো নাম সালতানাত অব ওমান। ওমান গালফ আর আরব সাগর বিধৌত চমকে দেওয়ার মতো এক আরব্য উপদ্বীপ। রাসুলুল্লাহ (সাঃ)-এর বিশিষ্ট সাহাবী মাজেন বিন গাদুবা (রাঃ) এর স্মৃতি ধন্য এই দেশ। ওমান আরব উপদ্বীপের দক্ষিণ-পূর্ব কোনাতে অবস্থিত  ছোট্ট একটি রাষ্ট্র। একদিকে তৃষিত জলধি, আরেক দিকে পৃথিবীর বিখ্যাত বালুকাময় মরুভূমি রুবা আল খালি। মাঝে জাজিরাতুল আরবের এই জনপদের রূপ বৈচিত্র্য পৃথিবীকে অবাক করে দিয়েছে। আরব্য উপদ্বীপের এই জনপদে রয়েছে বৈচিত্র্যের সমাহার। পাহাড়, সাগর, মরুভূমি, প্রাসাদ আর বিপরীত আবহাওয়ার সহাবস্থান পৃথিবীর খুব বেশি দেশে নেই, যা ওমানে দেখতে পাওয়া যায়। পরস্পর বিরোধিতার সমুজ্জল উপস্থিতি এই মরু জনপদে। কেননা দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমের পাহাড়ে সবুজের হাতছানি, জুন-জুলাইতে দেশটি কুয়াশার চাদরে ঢাকা থাকে, আর তখন দেশের পূর্ব-উত্তরাঞ্চলে লু হাওয়া বইতে থাকে। একদা মৎস্যজীবী আর মরুচারী বেদুঈন জীবনযাপনে অভ্যস্ত এই জনপদের মানুষের জীবনে আজ আধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছে।

দেশটির উত্তর-পশ্চিমে সংযুক্ত আরব আমিরাত, পশ্চিমে সৌদি আরব এবং দক্ষিন-পশ্চিমে ইয়েমেন অবস্থিত। ওমানের দক্ষিণ ও পূর্ব দিকে আরব সাগর এবং উত্তর-পূর্ব দিকে ওমান উপসাগর অবস্থিত। ভূগোলে ওমান আরব উপদ্বীপের দক্ষিণ-পূর্ব চতুর্থাংশে অবস্থিত। কয়েক হাজার বছর আগে থেকেই এখানে জীবনের উপস্থিতির সন্ধান পাওয়া গেছে। রাজধানী মাস্কাট প্রথম শতাব্দীতেই প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে। বেশির ভাগ জায়গা পাহাড় আর মরুভূমি হওয়ায় প্রায় ৫০ ভাগ মানুষ এই মাস্কাট ও বাটিনাহ শহরে বাস করে। ওমান আরব উপদ্বীপে প্রবেশের একটি কৌশলগত রাস্তা হিসেবে বহু আগে থেকেই পরিগণিত হয়ে আসছে। পর্তুগিজরা এ দেশে আসে ১৫০৮ সালে। প্রায় দেড়শ বছর পর ১৭৪১ সালে ওসমানিরা এসে পর্তুগিজদের তাড়িয়ে দেয় এবং সুলতানি শাসনের সূচনা করে একটি ইয়েমেনি উপজাতির মাধ্যমে। পরে পারস্যের আক্রমণে ওসমানী শাসনের পতন ঘটে। ওই সময়টাতে আরব উপদ্বীপের এই জনপদটি ছিল অর্থনৈতিকভাবে খুবই সমৃদ্ধশালী। কেননা ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণেই ওমান ছিল বহির্বিশ্বের সাথে ব্যবসা বাণিজ্যের জন্য খুবই উপযোগী। ১৯৬০-এর দশকে প্রচুর জানজিবারি লোক পূর্ব আফ্রিকা থেকে ওমানের রাজধানী মাস্কাট এবং উপকূলীয় শহর এলাকা গুলিতে আশ্রয় নেয়। এদের মধ্যে সোয়াহিলি ভাষা বহুল প্রচলিত। ওমানে বহু বিদেশীর বাস। মূলত এরা ভারত, পাকিস্তান ও ইরান থেকে আগত বিদেশী কর্মী। এই বিদেশীরা ওমানে ভাষাগত বৈচিত্র্যের সৃষ্টি করেছেন। ২০০৩ সালের অক্টোবরে প্রায় ২ লক্ষ ওমানি প্রথমবারের মত আইনসভার সদস্যদের নির্বাচিত করে। মোট ৮৩ জন সদস্য নির্বাচিত হন এবং এদের মধ্যে ২জন মহিলা সদস্যও ছিলেন।

দেশটির প্রায় ৮৬ শতাংশ মানুষ ইসলাম ধর্মে বিশ্বাসী। এখানে সংখ্যালঘু মুসলমান গোত্র ইবাদি জাতির লোকেরা বাস করে। এরা শিয়া ও সুন্নীদের চেয়ে স্বতন্ত্র। ইংরেজি ভাষা ওমানে সবচেয়ে বেশি শেখানো বিদেশী ভাষা গুলোর মধ্যে প্রধান। মাধ্যমিক স্তরের পরবর্তী সমস্ত লেখাপড়া ইংরেজিতেই ঘটে। দক্ষিণ এশিয়া থেকে আগত ওমানিদের মধ্যে অনেকে বালুচি ভাষায় কথা বলেন। সাম্প্রতিক কালে বিদেশ থেকে আগত নতুন কর্মীরা বাংলা, হিন্দি, উর্দু, ও ফার্সি ভাষায় কথা বলেন।

ওমানের আয়তন তিন লাখ নয় হাজার ৫০০ বর্গকিলোমিটার। আয়তন বড় হলেও দেশটির জনসংখ্যা কম। আসলে জনবসতি হওয়ার মতো জায়গাই তো কম এ দেশে। যা মোট স্থলভাগের মাত্র ৩ শতাংশ। দেশটিতে ৪৫ লাখ মানুষের বসবাস, যার মধ্যে প্রায় ৬ লক্ষেরও বেশি লোক ওমানি নাগরিক নন। ওমান আয়তনের দিক দিয়ে বিশ্বের ৭০তম বৃহত্তম দেশ। ওমানের শতকরা ৮০ ভাগেরও বেশি এলাকা মরুভূমি, ১৫% পর্বত এবং মাত্র ৩% উপকূলীয় সমভূমি। বেশির ভাগ লোকালয় সমুদ্র উপকূলে অবস্থিত।

ওমানের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ দেশটির উত্তর-পশ্চিম থেকে দক্ষিণ-পূর্বে বিস্তৃত আল হাজর পর্বতমালা। ৩ হাজার ১০ মিটার উঁচু জেবেল শামস ওমানের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ। সোহার ও মাস্কটের মধ্যবর্তী স্থানে ওমান উপসাগরের উপকূল ধরে রয়েছে বিস্তৃত সৈকত, যেগুলিতে ড্রাইভিং, পানির নিচে ডুব দেওয়া, এবং ডলফিন ও কচ্ছপদের সাথে খেলার ব্যবস্থা আছে। এছাড়াও পক্ষীপ্রিয় মানুষদের জন্যও ওমান জনপ্রিয়। এখানে স্থানীয় প্রায় ৮০ প্রজাতির এবং অতিথি প্রায় আরও ৪০০ প্রজাতির পাখি দেখা যায়। ইউরোপ, আফ্রিকা ও এশিয়ার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে অতিথি পাখিরা নির্দিষ্ট ঋতুতে ওমানে ফিরে ফিরে আসে। ওমানের মরুভূমি এর বিশালাকার বালিয়াড়িগুলি ঘুরে দেখতেও অনেকে পছন্দ করেন। ওমানের চুনাপাথরের পাহাড়ি গুহাগুলিও বিখ্যাত। পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম গুহা মাজলিস আল জিন এখানে অবস্থিত। ওমান উপসাগর, আরব সাগর, এবং আর রাব আল খালি মরুভূমি ওমানকে বাকি সব দেশ থেকে পৃথক করে রেখেছে।

শত আধুনিকতার চাপেও তারা ভুলে যায়নি তাদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক কেন্দুরা বা ডিসডাসাকে। এদেশের ছেলেরা সাধারণত সাদা জোব্বা পড়ে। মেয়েরা পোশাকের সঙ্গে হিজাব পড়ে। ওমানের রাজা সুলতান উপাধি ব্যবহার করেন। ওমানের মেয়েরা বিয়ে বা অন্যান্য অনুষ্ঠানে আমাদের দেশের মেয়েদের মতোই মেহেদি দিয়ে হাত রাঙ্গাতে পছন্দ করে। ওমানের লোকেরা ঐতিহ্যগত ভাবে আরবি ঘোড়া পালন করে। আগস্ট মাসে দেশ ব্যাপি খারিফ নামে একটি উৎসব পালন করা হয়।  

ওমানের লোকেরা খুব অতিথিপরায়ণ। অতিথিকে খেজুর, এলাচ দিয়ে তৈরি কফি (কাহওয়া) এবং অন্যান্য ফল দিয়ে তারা আপ্যায়ন করে। নানারকম ঝাল মাংস ওমানের লোকদের প্রিয়। তাদের প্রতিদিনের খাবার তালিকায় মুরগি, মাছ আর খাসির মাংস থাকবেই। এছাড়া বিশেষ পছন্দের পানীয় হচ্ছে লাবান। লাবান হল এলাচের গন্ধওয়ালা এক ধরনের লবণাক্ত ঘোল।

 

সম্পাদক ও প্রকাশক: সরদার মোঃ শাহীন
উপদেষ্টা সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম সুজন
বার্তা সম্পাদক: ফোয়ারা ইয়াছমিন
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: আবু মুসা
সহ: সম্পাদক: মোঃ শামছুজ্জামান

প্রকাশক কর্তৃক সিমেক ফাউন্ডেশন এর পক্ষে
বিএস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড,
ওয়ারী, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ হতে প্রকাশিত।

বানিজ্যিক অফিস: ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা।
বার্তা বিভাগ: বাড়ি # ৩৩, রোড # ১৫, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা।
ফোন: ০১৯১২৫২২০১৭, ৮৮০-২-৭৯১২৯২১
Email: simecnews@gmail.com