খাদ্যশস্য উৎপাদনে বাজিমাত

প্রকাশের সময় : 2022-01-26 11:14:49 | প্রকাশক : Administration
খাদ্যশস্য উৎপাদনে বাজিমাত

কাওসার রহমান: অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেই নয়, স্বাধীনতার ৫০ বছরে বাংলাদেশের কৃষিতেও ঘটেছে বিপ্লব। রেকর্ড হয়েছে অল্প জমিতে বেশি পরিমাণ খাদ্যশস্য উৎপাদনের। এই উৎপাদন বৃদ্ধিতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে পরিবেশসহিষ্ণু উচ্চফলনশীল শস্যের জাত। বিশেষ করে, দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে জনপ্রিয় ধানের জাত বিআর-২৮ ও বিআর-২৯ উদ্ভাবনই পাল্টে দিয়েছে কৃষির চেহারা।

গত ৫০ বছরে দেশে খাদ্যশস্যের উৎপাদন বেড়েছে চারগুণ। ধান, গম ও ভুট্টার উৎপাদন বিশ্বের গড় উৎপাদনকে পেছনে ফেলে ক্রমেই এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। ফলে কৃষির অন্তত ৯টি ফসল উৎপাদনে শীর্ষ ১০ তালিকায় উঠে এসেছে দেশ। কৃষিতে বাংলাদেশের এই সাফল্যকে বিশ্বের জন্য উদাহরণ হিসেবে প্রচার করছে জাতিসংঘ। এই সংস্থাটি শীর্ষ খাদ্য উৎপাদনকারী ১১ দেশের কাতারে নিয়ে এসেছে বাংলাদেশকে।

কৃষির সফল গবেষণার কারণেই এখন এক-ফসলি জমিতেও সারাদেশে আবাদ হচ্ছে গড়ে দুটি ফসল। এলাকাভেদে এ চাষাবাদ গড়িয়েছে তিন থেকে চার ফসলেও। এতে বিশ্বের গড় উৎপাদন হারকে পেছনে ফেলে জনসংখ্যার হিসেবে নবম স্থানে থাকা বাংলাদেশ খাদ্যে হয়ে উঠেছে স্বনির্ভর।

১৯৭১ সালে দেশে যেখানে দানাদার খাদ্যশস্য উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ১৮ লাখ টন, সেখানে ২০২১ সালে খাদ্যশস্য উৎপাদন হয়েছে সোয়া ৪ কোটি টন। ফলে চাল উৎপাদনে বাংলাদেশ ভিয়েতনামকে পেছনে ফেলে উঠে এসেছে তৃতীয় স্থানে। সবজি ও মাছ উৎপাদনেও এই ৫০ বছরে ঘটে গেছে বিপ্ল−ব। তাই তো জাতিসংঘের হিসাবেই মাছ ও সবজি উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান এখন তৃতীয়।

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বে অভ্যন্তরীণ মুক্ত জলাশয়ে মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশ ৩য় স্থান এবং বদ্ধ জলাশয়ে চাষকৃত মাছ উৎপাদনে ৫ম স্থান অধিকার করেছে। ইলিশ উৎপাদনে প্রথম। খাদ্য উৎপাদনে বিশ্বের শীর্ষ ১১ দেশের একটি বাংলাদেশ। আলু উৎপাদনে দেশ শুধু স্বনির্ভর নয়, বরং দেশের চাহিদা মিটিয়ে রফতানিরও চেষ্টা করা হচ্ছে। ফলে আলু উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে সপ্তম স্থানে উঠে এসেছে।

প্রতি বছর এক শতাংশ হারে জমি কমলেও কৃষি পণ্যের উৎপাদন বেড়েছে গাণিতক হারে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বন্যা, খরা, লবণাক্ততা ও বৈরী প্রকৃতিতেও খাদ্যশস্য উৎপাদনে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে উদাহরণ। ধান, গম ও ভুট্টার উৎপাদন বিশ্বের গড় উৎপাদনকে পেছনে ফেলে ক্রমেই এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর বলছে, বিশ্বজুড়ে প্রতি হেক্টরে শস্যের গড় উৎপাদন হার যেখানে প্রায় তিন টন, সেখানে বাংলাদেশে তা সোয়া চার টনে উন্নীত হয়েছে। ৫০ বছরে বাংলাদেশে ধানের উৎপাদন বেড়েছে তিন গুণেরও বেশি। গমের উৎপাদন দ্বিগুণ হয়েছে। সবজি উৎপাদন বেড়েছে পাঁচ গুণ। ভুট্টার উৎপাদন বেড়েছে ১০ গুণ।

স্বাধীনতার আগে বেশি পরিমাণ জমি চাষাবাদে মিলত কম ফসল। ফলে তখনকার সাড়ে ৭ কোটি মানুষের বেশিরভাগেরই তিন বেলা দু’মুঠো খাবার জোটানো কষ্টকর হতো। পূর্ববঙ্গে প্রতি বছর গড়ে খাদ্য ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াত প্রায় ২০ লাখ টন। আর ওই ঘাটতি পূরণ করা হতো বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করে খাদ্য আমদানির মাধ্যমে।

সময় বদলে এখন কম জমিতে বেশি ফসল উৎপাদন করে দ্বিগুণেরও বেশি মানুষকে খাওয়ানোর সক্ষমতা অর্জন করেছে দেশ। ১৭ কোটি মানুষের খাদ্যের জোগানের পরও উদ্বৃত্ত থাকছে খাদ্যশস্য। বাংলাদেশকে এখন আর পৃথিবীর কোন রাষ্ট্রের কাছে খাদ্যের জন্য ধর্ণা দিতে হয় না। এদেশে খাদ্য সাহায্য নব্বইয়ের দশকেই বন্ধ হয়ে গেছে। কৃষিতে বাংলাদেশের এই সাফল্যকে বিশ্বের জন্য উদাহরণ হিসেবে প্রচার করছে জাতিসংঘ।

কৃষিতে এই সাফল্যের বীজ বপন করেছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। স্বাধীনতা উত্তর খাদ্য ঘাটতির বাংলাদেশকে সোনার বাংলায় পরিণত করার জন্য তিনি গ্রহণ করেন নানা উদ্যোগ। ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার জন্য তিনি ডাক দেন সবুজ বিপ্লবের। সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেন কৃষিতে। তিনি চেয়েছিলেন বহু ত্যাগের বিনিময়ে প্রাপ্ত বাংলাদেশকে সোনালি ফসলে ভরপুর দেখতে।

জাতির জনক বলতেন, ‘এদেশের কৃষককে সক্ষম করতে হবে, উৎপাদন বাড়াতে হবে, তা না হলে বাংলাদেশ বাঁচতে পারবে না।’ কৃষকদের কথা চিন্তা করে তিনি ২৫ বিঘা পর্যন্ত কৃষি জমির খাজনা মওকুফ করে দিয়েছিলেন। শুধু তাই নয়, খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি ও কৃষি কাজে জনগণকে অধিকতর সম্পৃক্ত ও অনুপ্রাণিত করার লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু ১৯৭৩ সালে প্রবর্তন করেছিলেন জাতীয় কৃষি পুরস্কার। কৃষি সম্প্রসারণ কর্মসূচী সম্প্রসারিত করে পৌঁছে দিয়েছিলেন কৃষকের দোরগোড়ায়।

বঙ্গবন্ধু ১৯৭৩ সালে কৃষির যে বীজ বপন করেছিলেন তার ‘পূর্ণাঙ্গ সুফল’ পেতে দীর্ঘ ৩৫ বছর লেগে যায়। প্রাকৃতিক দুর্যোগকে সাথী করে বাংলাদেশ ২০০৮-২০০৯ অর্থবছরে এসে খাদ্যে স্বয়ং-সম্পূর্ণ হওয়ার স্বাদ পায়। বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো পরিণত হয় খাদ্য উদ্বৃত্তের দেশে। এই অর্থবছরে দেশে অতিরিক্ত খাদ্যশস্য উৎপাদিত হয় এক লাখ ৪৬ হাজার টন। ওই বছর তিন কোটি ২৭ লাখ ৫০ হাজার টন খাদ্যশস্যের চাহিদার বিপরীতে উৎপাদন দাঁড়ায় তিন কোটি ২৮ লাখ ৯৬ হাজার টন। অর্থাৎ প্রায় এক লাখ টনের বেশি খাদ্যশস্য উদ্বৃত্ত হয়। দেশকে খাদ্যসঙ্কট থেকে বের করে আনা এই সাফল্যের প্রথম দাবিদার এদেশের সাধারণ কৃষক, যারা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে অত্যন্ত পরিশ্রম করে এই খাদ্যশস্য উৎপাদন করেছেন। তারপরই এই সাফল্যের দাবিদার কৃষিবান্ধব সরকার। সরকারের এই অকৃপণ সহযোগিতা কৃষিকে আজ বিপ্লবের পর্যায়ে নিয়ে এসেছে। বঙ্গবন্ধু যে কৃষি বিপ্লবের ডাক দিয়েছিলেন সেই কৃষি বিপ্লব এখন দেশে সাধিত হচ্ছে। - সূত্র: অনলাইন

 

সম্পাদক ও প্রকাশক: সরদার মোঃ শাহীন
উপদেষ্টা সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম সুজন
বার্তা সম্পাদক: ফোয়ারা ইয়াছমিন
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: আবু মুসা
সহ: সম্পাদক: মোঃ শামছুজ্জামান

প্রকাশক কর্তৃক সিমেক ফাউন্ডেশন এর পক্ষে
বিএস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড,
ওয়ারী, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ হতে প্রকাশিত।

বানিজ্যিক অফিস: ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা।
বার্তা বিভাগ: বাড়ি # ৩৩, রোড # ১৫, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা।
ফোন: ০১৯১২৫২২০১৭, ৮৮০-২-৭৯১২৯২১
Email: simecnews@gmail.com