ভালোবাসা দিবস

প্রকাশের সময় : 2022-03-09 14:46:42 | প্রকাশক : Administration
ভালোবাসা দিবস

বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আখতার হোসেন মন্ডল: প্রেম সৃষ্টির উৎস। আর প্রেমের অস্তিত্বই ভালোবাসা। বৃক্ষ ফলের অস্তিত্বকে বহন করে। আবার ফলের ক্রমবিকাশ বৃক্ষ আছে বলেই টিকে আছে। প্রেম অনাদি অনন্ত। প্রেমহীন ভালবাসা কোন ভালোবাসা নয়। মরুভূমির উষর বালিকণার স্তরে পড়ে থাকা অংকুরিত কোন প্রাণহীন সবুজ তরুলতা যেমন কোনদিন জীবনের আলো দেখেনা তেমনি প্রেমবিহীন ভালবাসা মৃত। বিশুষ্ক খড়কুটার মতই হালকা বাতাসে উড়ে যায়। তাই বলতে হয় ভালবাসা মানে প্রেম, আর প্রেম মানেই ভালবাসা।

ভালবাসা প্রেমের ফসল, ফসল থেকে ফসলের ধারাবাহিক ক্রমবিকাশ। প্রেমের ক্ষেত্রেও তাই। ভালবাসা এক স্বর্গীয় সুধা, মানুষের সাথে স্বর্গ থেকে নেমে এসেছে পৃথিবীতে। জীবনকে করেছে সুন্দর, গতিময়। জীবনের জন্য আছে প্রতিটি প্রাণের আকুলতা, গভীর প্রত্যাশা, বেঁচে থাকার আকাঙ্খা। আর এই জীবনের ধারাবাহিকতায় প্রেম যেন বহমান গিরি-ঝর্ণার এক অফুরান স্রোতধারা।

১ ফাগুন, ১৪ ফেব্র“য়ারি ভালোবাসা দিবস। ভালোবাসার প্রতীকধর্মী এদিনটি খুব ঘটা করে পালিত হয়। মনে হয় সারা বিশ্ব একদিনের জন্যে প্রেমের উচ্ছাসে প্লাবিত। বিশেষ করে তরুণ সমাজকে দেখে তাই মনে হয়। প্রেমনদীতে ক্ষণিকের জলোচ্ছাস। কিন্তু সত্যিকারের ভালোবাসায় মান-অভিমান, বিরহ-মিলন থাকলেও জোয়ার ভাটা নেই, এর গতি প্রবাহমান। তবে অফুরাণ। “ভ্যালেনটাইনস ডে” বা এই ভালোবাসা দিবসটি যখন বিশেষ ভাবে চিহ্নিত ছিলনা তখনও ভালোবাসার কোন ঘাটতি ছিলনা। বছরের ৩৬৫ দিনের অন্যদিনগুলো কি তখন ভালোবাসাবিহীন দিন ছিল? ৩৬৪ দিনের সঞ্চিত ভালোবাসা কি ৩৬৫তম দিবসে বিকশিত কোন ফুলের মতো এর রূপ-রস-গন্ধ বিলিয়ে স্বপ্নের মানুষটিকে মুগ্ধ করে কাছে টেনেছে এমনতো নয়।

কিছু প্রেমকাহিনী পৃথিবীতে ইতিহাস হয়ে আছে। সেগুলো অমর কাহিনী হয়ে সবার হৃদয়ে দাগ কাটে। ঐসকল প্রেমিক-প্রেমিকেরা কি ভালোবাসার জন্যে কোন নির্দিষ্ট দিবস আলাদা করে রেখে ছিলেন? এমনটি কি বলা যাবে যে ১৪ই ফাল্গুনে ভালোবাসার ফুল ফুটে বা কখনও ঝরে যায় বা কারো মনে ভালো বাসার আগুন লাগে। আসলে ভালোবাসার কোন সময়, দিন তারিখ নেই। ভালোবাসার ফুল যে কোন সময় ফুটে। আবার ঝরেও যেতে পারে। হৃদয়হীন ভালোবাসা আর গন্ধহীন ফুল দুটোই আমাদের জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। তবু প্রেম-ভালোবাসা অমর। পুষ্পহীন কোন বাগানে সৌরভের অস্তিত্ব নেই। তবে হৃদয়হীন কোন হৃদয়ে ভালোবাসার কলিটি কখন যে ফুটে উঠবে তা কেউ জানে না। এদিবসের আগমন আর বিদায়ের সাথে এর কোন সম্পর্ক নেই। এজন্যই ভালোবাসা মানেই প্রেম। প্রেম সৃষ্টির উৎস। প্রেম চিরন্তন; আছে, ছিল, থাকবে। এর অমিয় সুধা সবার হৃদয়েই আছে। ভালোবাসা দিবসটির বৈশিষ্ট্য শুধু বিরহ-মিলন, মান-অভিমান, আনন্দ-বেদনা, অভিসার বা রোমান্টিক মূহুর্ত ইত্যাদির পরিসীমা ঘিরেই পুষ্পিত হয় না। অসীম তার পরিমন্ডল, অসীম তার ভুবন। তবে এদিনটিতেও পৃথিবীর বুকে ঘটে বিচ্ছেদ, নৃশংসতা, অশান্তি ও অরাজকতা। মানুষে মানুষে সংঘাত, দুর্বলের উপর সবলের অত্যাচার এদিনে কি বন্ধ থাকে? সভ্যতার ক্রমবিকাশে ভালোবাসার সঠিক মূল্যায়ণ কি বিশ্ব দেখতে পাচ্ছে? ক্ষমতার দাপটে ভালোবাসার ফুলটি যদি কলিতেই ঝড়ে যায় তবে বিশ্বে শান্তির প্রয়াস ব্যর্থ হবে কিনা ভেবে দেখা প্রয়োজন। মানবতার বিকাশ বিশ্লেষণ ও প্রয়োগ কি ভালোবাসাকে বাদ দিয়ে হয়? অবশ্যই না। ফুলের অস্তিত্ব না থাকলে কি ফুলের সুবাস থাকবে?

ভালোবাসা শুধু প্রেমিক-প্রেমিকার জন্যই স্রষ্টার দান তাতো নয়। স্বামী-স্ত্রী, মাতা-পিতা, ভাই-বোন, আত্নীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী, পথচারী, বন্ধুবান্ধব, ফকির-মিসকীন, সবার জন্যেই সবার ভালবাসা। জাতি, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে ভালোবাসার বিচরণ ও সঞ্চালন। ভালোবাসার কোন দেশ- গন্ডি বা ভৌগোলিক সীমারেখা নেই। ভালোবাসা যে কোন প্রাণের সহজাত ধর্ম। শ্রেষ্ঠ জীব, মানুষ ছাড়াও অন্য সৃষ্টির হৃদয়ে ভালোবাসা বিরাজমান। তার প্রকাশ ও প্রয়োগ মানুষের মতই। অভিন্ন কোন অনুভূতির বস্তু বা বিষয় নয়।

ভালোবাসা সকল সৃষ্টির অধিকার। সর্বজনীন এ ভালোবাসাও এখন বিশ্বে সবার দুয়ারে সমান ভাবে যায় না। আধুনিক কালে বৈষম্যের শিকার এই ভালোবাসা যার উৎসটি মানবতা। আচ্ছা বলুন তো এ ভালোবাসা দিবসে আমরা কি কেউ কোন পথকলি বা নিঃস্ব অসহায় ব্যক্তিকে ভালবেসে কিছু দিয়েছি? প্রেমিক-প্রেমিকার জন্যে যে ফুল সে ফুলটি কী তার প্রয়োজন? এক মুঠো অন্নই তার প্রত্যাশা। ভালোবাসা দিবসের মূল প্রতিপাদ্য যদি হয় মানব-প্রেম অর্থাৎ মানবতা, তবেই হবে এ দিবসের সার্থকতা। তাই আসুন, আমরা সবাই সুরে সুরে কন্ঠ মিলাই।

মানুষ মানুষের জন্যে

জীবন জীবনের জন্যে..............

 

সম্পাদক ও প্রকাশক: সরদার মোঃ শাহীন
উপদেষ্টা সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম সুজন
বার্তা সম্পাদক: ফোয়ারা ইয়াছমিন
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: আবু মুসা
সহ: সম্পাদক: মোঃ শামছুজ্জামান

প্রকাশক কর্তৃক সিমেক ফাউন্ডেশন এর পক্ষে
বিএস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড,
ওয়ারী, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ হতে প্রকাশিত।

বানিজ্যিক অফিস: ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা।
বার্তা বিভাগ: বাড়ি # ৩৩, রোড # ১৫, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা।
ফোন: ০১৯১২৫২২০১৭, ৮৮০-২-৭৯১২৯২১
Email: simecnews@gmail.com