শান্তি প্রিয় দেশ সুইডেন

প্রকাশের সময় : 2022-03-09 15:04:07 | প্রকাশক : Administration
শান্তি প্রিয় দেশ সুইডেন

জেসিউর রহমান শামীম: ইউরোপ মহাদেশের সাজানো গোছানো ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য মন্ডিত একটি দেশ সুইডেন। আয়তনের দিক দিয়ে এটি ইউরোপের তৃতীয় বৃহত্তম দেশ এবং বিশ্বে ৫৫ তম বৃহত্তম দেশ। সারা বিশ্বে শান্তির দেশ হিসাবে এর সুনাম ছড়িয়ে আছে, তা থাকবেই না কেন? সুইডেন কখনো কোন দেশের সাথে শত্রুতায় বিশ্বাসী না। বিশ্বের বৃহত্তম অস্ত্র উৎপাদনকারী দেশ হওয়া সত্ত্বে¡ও সুইডেন প্রথম ও দ্বিতীয় মহাযুদ্ধে নিরপেক্ষ ছিল। সুইডেন ইউরোপের উত্তরে অবস্থিত খুবই অপরূপ একটি দেশ। সুইডেনের অফিসিয়াল নাম কিংডম অফ সুইডেন। এর রাজধানী ও সবচেয়ে বড় শহর হলো স্টকহোম। সুইডেনের উত্তর পূর্ব দিকে রয়েছে ফিনল্যান্ড, পশ্চিম দিকে নরওয়ে ও দক্ষিণ পশ্চিমে ওরোসৈন্ধ সেতু। এই ওরোসৈন্ধ দিয়েই সুইডেন থেকে ডেনমার্ক যাওয়া যায়। সুইডেন স্কান্ডি ন্যাভিও দেশগুলো মধ্যে একটি বৃহত্তম রাষ্ট্র। সুইডেন ইউরোপের অন্যতম কম জনসংখ্যার ও কম ঘনবসতিপূর্ণ অঞ্চল।

সুইডেনের আয়তন ৪ লাখ ৫০ হাজার ২৯৫ বর্গকিলোমিটার। ২০১৬ সালে হিসাব অনুযায়ী দেশটিতে মাত্র ৯৯ লাখ মানুষ বসবাস করে। প্রতি বর্গ কিলোমিটারে মাত্র ২১ জন মানুষ বসবাস করে দেশটিতে। সুইডেনের জনসংখ্যার প্রায় ৮৫ শতাংশ শহরকেন্দ্রিক এবং দেশের দক্ষিণপ্রান্তে অবস্থিত শহর গুলোতে বসবাস করে অধিকাংশ লোক ।

সুইডেনের রাষ্ট্রীয় ভাষার নাম সুয়েডীয়। যা সুইডিশ ভাষা নামেও পরিচিত। সরকারিভাবে সুইডেনের আদিবাসীদের সুইডিশ বা সুয়েড বলা হয়। সুইডেনের বসবাসরত ৯০ লাখ মানুষ সুইডিশ ভাষায় কথা বলে। সুইডিশ ভাষাটি এসেছে উত্তর জার্মানী থেকে। তাছাড়া এই ভাষা অনেকটা ডাচ ভাষার মত শোনায়। এছাড়াও এ দেশে ফিনিশ, রোমেনিয়ান এবং ডেনিশ ভাষাও দেশে প্রচলিত আছে। এখানকার প্রায় ৯৫ শতাংশ মানুষ ইংরেজিতে অনায়াসেই কথা বলতে পারে।

সুইডেন সাংবিধানিক ভাবে রাজতন্ত্র দ্বারা প্রচলিত। রাজা কার্ল ষোড়শ গুস্তাফ এখানকার রাষ্ট্রপ্রধান। তবে বহুদিন ধরেই রাজার ক্ষমতা কেবল আনুষ্ঠানিক কাজকর্মেই সীমাবদ্ধ। সুইডেনের আইনসভার নাম ‘রিক্সদাগ’। আইনসভার সদস্যরা প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন করেন। প্রতি চার বছর অন্তর সেপ্টেম্বর মাসের তৃতীয় রবিবারে আইনসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

দেশটির জীবন-যাত্রার মান, প্রত্যাশিত আয়ুষ্কাল, শিক্ষার হার, শান্তি ও অগ্রগতি, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা, ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক অধিকার রক্ষা ইত্যাদি বিবেচনায় খুবই অগ্রসরমান একটি দেশ।

সুইডেনের স্টকহোমে একটি প্রাচীন শহর রয়েছে। শহরটির ইতিহাস আর সৌন্দর্য দুইয়ের জন্যই পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় এবং আকর্ষণীয়। পুরো সুইডেনের প্রায় ১০ শতাংশ মানুষ স্টকহোমে বাস করে। শহরটির ‘ডেন গিলডেন ফ্রেডেন’ রেস্টুরেন্টটিও বিখ্যাত। গিনেজ রেকর্ড অনুযায়ী, এটিই পৃথিবীর প্রাচীনতম রেস্টুরেন্ট যেটি ১৭২২ সালে নির্মাণের পর থেকে এখনও এর ভিতরের সাজসজ্জার একটুও পরিবর্তন করা হয়নি। পৃথিবীর প্রথম আইস হোটেল সুইডেনে প্রস্তুত করা হয়। ইউরোপের বৃহত্তম মল সুইডেনের গোথেনবার্গে অবস্থিত। এর আয়তন ৩ লক্ষ ২০ হাজার বর্গমিটার।

সুইডেনে সারা বছর ধরে গ্রীষ্মকাল, শরৎকাল, শীতকাল, বসন্তকাল এই চারটি স্বতন্ত্র ঋতু দেখতে পাওয়া যায়। পৃথিবীর উত্তর মেরুর দিকে হওয়ায় সুইডেনের আবহাওয়া নাতিশীতোষ্ণ। এখানে ফেব্রুয়ারির দিকে প্রচন্ড শীত পড়ে। তাছাড়া উত্তরাঞ্চলে অক্টোবরের দিকে আর দক্ষিণাঞ্চলে ডিসেম্বরে বরফ পড়তে দেখা যায়। অন্যদিকে গ্রীষ্মকালে অনেক সময় দিনের ২৪ ঘন্টার মধ্যে ১৯ ঘন্টাই সূর্যের আলো থাকে। সুইডেনের বছর জুড়ে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ৫০০ থেকে ৮০০ মিলিমিটার।

জড়িবুটি দেওয়া টাটকা স্যালাড, পাইক মাছের পিঠা, সুইডিশ প্যানকেকস, ব্লানডাড ফরুক্টশপ্পা (এক ধরনের সুইডিশ ফলের সুপ), সুইডিশ মিটবল, হুস্মান্স্ককট সহ আরও অনেক আকর্ষণীয় খাবার রয়েছে সুইডেনে। এছাড়াও আর্টসপ্পা, ব্লডপল্ট, ব্লদক্রভ সহ ঐতিহ্যবাহী স্কাগেরাক, হেরিং, ইনলাগড সিল সীফুড পাওয়া যায় সুইডেনে।

আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা, বিশ্ব স্বীকৃত গবেষণা কর্ম এবং শান্ত পরিবেশের জন্য উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে সুইডেন বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বিশ্বের প্রায় ৮০টি দেশের শিক্ষার্থীরা এখানে পিএইচডি গবেষণা করছেন। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরাও নিতে পারছেন বিশ্বমানের উচ্চতর শিক্ষা। ইংরেজিতে ভালো দক্ষতা, একাডেমিক ভালো রেজাল্ট নিয়ে সহজেই ইউরোপের স্ক্যান্ডি নেভিয়ান অঞ্চলের এই দেশে যাওয়া যায়। সুইডেনের অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে টিউশন ফি লাগে না। উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে দেশটির সরকারই তা বহন করে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের পার্টটাইম কাজ করার সুযোগ আছে।

বর্তমানে সুইডিশ সিনেমাও বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। তাছাড়া ফ্যাশনের জন্যেও সুইডেন বিখ্যাত। এ দেশের বেশির ভাগ লোক খ্রিষ্ঠান ধর্মের অনুসারি। তারপরেই দেখা যায় ইসলাম ধর্মের অনুসারিদের। ছোট বাচ্চাদের শাস্তি দেয়া বা গায়ে হাত তোলা এ দেশে একটি আইনত অপরাধ মনে করা হয়। সুইডেনেই সবচেয়ে বেশি নবায়ন যোগ্য শক্তি ব্যবহার করা হয়। সুইডেনের ৯৯% বর্জ্য পুর্ণব্যবহারযোগ্য। সুইডেনের জমির ২/৩ অংশ বন দ্বারা আচ্ছাদিত।

সুইডেনের জনপ্রিয় দুটি খেলা ফুটবল এবং আইস হকি। দেশটির প্রায় ৫০ শতাংশ মানুষ কোনো না কোনো ভাবে এই দুটি খেলার সাথে সম্পৃক্ত। এছাড়া গোল্ফ, বাস্কেটবল, হ্যান্ডবল এবং ঘোড়ায় চড়াও তাদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। সুইডেন ভ্রমণ বা ভ্রমণের সময় আপনি আপনার কুকুর, বিড়াল বা অন্যান্ন প্রাণী নিয়ে আসতে পারেন যদি তারা কিছু বিশেষ কিছু নিয়ম মেনে চলে।

মাথাপিছু আয়ের বিবেচনায় সুইডেন পৃথিবীর ৭ম ধনী দেশ। ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পরেও সুইডেনে নিজস্ব মুদ্রা ব্যবস্থা চালু আছে। সুইডেনের মুদ্রার নাম সুইডিশ ক্রোনা।

 

সম্পাদক ও প্রকাশক: সরদার মোঃ শাহীন
উপদেষ্টা সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম সুজন
বার্তা সম্পাদক: ফোয়ারা ইয়াছমিন
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: আবু মুসা
সহ: সম্পাদক: মোঃ শামছুজ্জামান

প্রকাশক কর্তৃক সিমেক ফাউন্ডেশন এর পক্ষে
বিএস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড,
ওয়ারী, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ হতে প্রকাশিত।

বানিজ্যিক অফিস: ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা।
বার্তা বিভাগ: বাড়ি # ৩৩, রোড # ১৫, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা।
ফোন: ০১৯১২৫২২০১৭, ৮৮০-২-৭৯১২৯২১
Email: simecnews@gmail.com