ভ্রমণ প্রেমিদের স্বর্গরাজ্য: হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জ

প্রকাশের সময় : 2022-03-23 10:12:06 | প্রকাশক : Administration
ভ্রমণ প্রেমিদের স্বর্গরাজ্য: হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জ

জেসিউর রহমান শামীম: হাওয়াই হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৫০তম অঙ্গরাজ্য এবং বলা যায় এটি যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ অঙ্গরাজ্য। ১৯৫৯ সালে এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত হয়। হাওয়াই এর সরকারি নাম দ্যা স্টেট অফ হাওয়াই। চারিদিকে বিস্তৃত জলরাশি বেষ্টিত অঞ্চলটি রূপ বৈচিত্রে অনন্য। প্রশান্ত মহাসাগরের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশে জাপান এবং আমেরিকার মাঝামাঝি  প্রায় ১৩২ টি ছোট বড় দ্বীপ নিয়ে হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জ অবস্থিত। যার মধ্যে ৮টি প্রধান বা বড় দ্বীপ। কোনো দেশের সাথে ভ‚মি সীমানা ছাড়া এই দ্বীপপুঞ্জের আয়তন প্রায় ২৮ হাজার বর্গকিলোমিটার। প্রশান্ত মহাসাগরের বুকে ক্ষুদ্রাকৃতির, ছোট, মাঝারি এবং বড় প্রায় শত শত দ্বীপ বিদ্যমান এখানে। এই দ্বীপগুলো মূলত আগ্নেয়গিরির লাভা থেকে তৈরি। এখনো এই দ্বীপের অনেক জায়গাতে আগ্নেয়গিরি সক্রিয় রয়েছে। এরমধ্যে কিলাওয়েয়া আগ্নেয়গিরি অন্যতম। এটি ১৯৮৩ সাল থেকে অবিচ্ছিন্ন ভাবে প্রস্ফুটিত হয়ে চলেছে। আদিগন্ত জলরাশি, সবুজাভ রেইন ফরেস্ট, অপরুপা অর্কিড ও সারি সারি পর্বত উপত্যকা হাওয়াইকে সাজিয়েছে অপরূপ ভাবে।

এই দ্বীপপুঞ্জের এমন অনেক জায়গা আছে যেখানে এখনো মানুষের পদচিহ্ন পরেনি। দ্বীপপুঞ্জের অনেকগুলো বড় দ্বীপের মধ্যে হাওয়াই হলো প্রধান দ্বীপ যেটি বিগ আইল্যান্ড নামে পরিচিত। যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জ অঙ্গরাজ্যের রাজধানীর নাম হনলুলু। হনলুলু হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের সবচেয়ে জনবহুল এলাকা। যুক্তরাষ্ট্রের ৪৬ তম জনবহুল অঞ্চল এটি। এই শহরেই জন্ম সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার। হনলুলু স্থানীয় অর্থনীতিতে বিশাল অবদান রাখে, যার বেশির ভাগটাই আসে পর্যটন খাত থেকে। সমগ্র হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের জনসংখ্যা প্রায় ১৫ লক্ষের কাছাকাছি। যার মধ্যে প্রায় ৩ লক্ষ ৯০ হাজার জন রাজধানী হনলুলুতে বাস করে। 

প্রায় ২০০০ বছর পুর্বে হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জে মানুষের বসবাস শুরু বলে ধারণা করা হয় এবং প্রায় দেড় হাজার বছর কারো সাথে কোনো রূপ যোগাযোগ না রেখে খুব শান্তিপূর্ণ ভাবে তারা বসবাস করতো। ১৭৭৮ সালে তাদের এই শান্তিতে ছেদ পরে ক্যাপ্টেন জেমস কুকের জাহাজ কাওয়াই দ্বীপে নোঙ্গর করার মধ্য দিয়ে। শুরুতে দ্বীপের মানুষ তাদের ভালোভাবেই গ্রহণ করেছিল। কিন্তু কুক চেয়েছিল হাওয়াই এর রাজাকে অপহরণ করতে এবং হাওয়াই দখল করতে।

হাওয়াই বাসির শক্তির কাছে তিনি পরাজিত হন এবং দুই একজন নাবিক জাহাজ নিয়ে ইউরোপে পালিয়ে যায়। আর সেখান থেকেই বর্হিবিশ্ব হাওয়াই সম্পর্কে জানতে পারে। এর পর অনেক ভাবেই হাওয়াই আক্রমণ করা হয় কিন্তু কেউই সফল হতে পারেনি। তাই পদ্ধতি পরিবর্তন করে ধর্ম জাজক পাঠানো শুরু করলো আমেরিকা। তাতেও খুব একটা লাভ না হওয়ায় তারা ভাবতে লাগলো কিভাবে এখানে বাণিজ্য করা যায়। হাওয়াই এক সময় আখ চাষে খুব ভালো ছিল। কিন্তু আখ থেকে কিভাবে চিনি তৈরি করতে হয় তা তারা জানতো না। এই সুযোগটাই কাজে লাগালো। তাছারা যুক্তরাষ্ট চিনি রপ্তানির এক বিরাট বাজার ছিল।

১৮৫১ সালে হাওয়াইতে একটি চিনি উৎপাদন কারখানা তৈরি হয় যা পরে বিশ্বের সর্ববৃহৎ চিনি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান হিসাবে পরিচিতি পায়। কিন্তু অই সময় আমেরিকাতে চিনি রপ্তানি করতে প্রচুর শুল্ক দিতে হত। তাই মিশনারিরা হাওয়াইকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হিসাবে গ্রহনের প্রস্তাব দেন আমেরিকাকে।

১৮৭৮ সালে আমেরিকা হাওয়াই এর রাজার সাথে একটি চুক্তি করেন। এই চুক্তির ফলে হাওয়াই বাসীরা বিনা শুল্কে আমেরিকাতে তাদের পন্য রপ্তানি করতে পারেন এবং আমেরিকা বিনা বাধায় হাওয়াই এ তাদের সামরিক ঘাটি স্থাপন করতে সক্ষম হয় এবং দিনের পর দিন নানা ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে হাওয়াই এর রাজতন্ত্রের অবসান ঘটে। 

হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের সরকারি ভাষা ইংরেজী ও হাওয়াইয়ান। তবে বর্তমানে খুব কম লোকই হাওয়াইয়ান ভাষায় কথা বলে থাকে। খ্রিস্টান ধর্ম প্রধান হলেও এই এলাকার মানুষের মধ্যে খুব একটা ধর্ম পালন করতে দেখা যায় না। হাওয়াইয়ান বর্ণমালায় মাত্র ১২ টি বর্ণ রয়েছে। হাওয়াইয়ের প্রায় ৮৫ ভাগ মানুষ শিক্ষিত। হাওয়াইতে কোনো বিল বোর্ড দেখতে পাওয়া যায় না। ভ্রমনকারীরা যাতে নির্মল পরিবেশ উপোভোগ করতে পারে তাই এই ব্যবস্থা।

মুলত পুরো হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জই দর্শনীয় স্থান। প্রাকৃতিক ও কৃত্তিম সৌন্দর্যে ভরপুর এই অঞ্চল। দ্বীপে প্রচুর ছোট বড় সমুদ্র সৈকত থাকায় দর্শনার্থীগণ নিড়িবিলি সময় কাটানোর জন্য আদর্শ স্থান হিসাবে বেছে নেন এটিকে। এক সমীক্ষায় দেখা যায় প্রতি বছর প্রায় ৭০ থেকে ৮০ লক্ষ পর্যটক এখানে বেড়াতে আসে। দুপুরের গড় তাপমাত্রা ২৩-২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলেও সমুদ্রের বাতাসের কারনে গরম অনুভুত হয় না বললেই চলে।

গোটা আমেরিকাতে কেবল হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জতেই কফি উৎপাদন করা হয়। এছাড়া হাওয়াইয়ের মাটি ও জলবায়ু আনারস চাষের জন্য খুবই উপযুক্ত। অনেক জাতের আনারস জন্মে এখানে। এগুলো স্থানীয় অর্থনীতিতে বিশেষ ভূমিকা রাখে। সরকারি মুদ্রা হিসাবে এখানে মার্কিন ডলার প্রচলিত। এখানেই অবস্থিত বিখ্যাত পার্ল হারবার। এই পার্ল হারবারে আক্রমণের ফলেই শুরু হয়েছিল ২য় বিশ্ব যুদ্ধ।

মজার ব্যাপার হলো এই দ্বীপ অঞ্চলে কোনো সাপ দেখতে পাওয়া যায় না। সার্ফিং প্রেমিদের জন্য আদর্শ এর সৈকত। অনেক বড় বড় ঢেউ গুলো মাতিয়ে রাখে সার্ফারদের।

 

সম্পাদক ও প্রকাশক: সরদার মোঃ শাহীন
উপদেষ্টা সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম সুজন
বার্তা সম্পাদক: ফোয়ারা ইয়াছমিন
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: আবু মুসা
সহ: সম্পাদক: মোঃ শামছুজ্জামান

প্রকাশক কর্তৃক সিমেক ফাউন্ডেশন এর পক্ষে
বিএস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড,
ওয়ারী, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ হতে প্রকাশিত।

বানিজ্যিক অফিস: ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা।
বার্তা বিভাগ: বাড়ি # ৩৩, রোড # ১৫, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা।
ফোন: ০১৯১২৫২২০১৭, ৮৮০-২-৭৯১২৯২১
Email: simecnews@gmail.com