আওয়ামী লীগের জন্য শিক্ষার মাস

প্রকাশের সময় : 2022-08-31 15:42:30 | প্রকাশক : Administration
আওয়ামী লীগের জন্য শিক্ষার মাস

অমি রহমান পিয়াল: বাংলাদেশে আওয়ামী লীগরে ঘরে বাইরের দুই শত্রু সামাল দিয়া টিকা থাকতে হয়। দলের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় দুই ট্র্যাজেডি কাকতালীয়ভাবে অগাস্ট মাসেই। ২১ অগাস্ট শেখ হাসিনাকে হত্যার জন্য হামলা করছিলো বাইরের শত্রু। নেত্রী বেঁচে গেছেন দলের জন্য জীবন তুচ্ছ করা অনুগতদের মানবঢালে। সরকার সমর্থিত সেই নারকীয় হামলায় থেমে থাকে নাই স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি। শেখ হাসিনা ব্যাগে করে গ্রেনেড নিয়ে নিজেই জনসভায় ফুটাইছেন বলে সংসদে বিবৃতি দিছেন তখনকার প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া! তারপর আসলো জজ মিয়া নাটক। এসবই সবার জানা।

২১ অগাস্ট সফল না হইলেও বাংলার ইতিহাস ঘুরায়া দিছিলো ১৫ অগাস্ট। জাতির জনককে স্বপরিবারে হত্যা করা হইছিলো এদিন। বেঁচে গেছিলেন শুধু প্রবাসে থাকা দুই মেয়ে। সেই হামলায় নাটের গুরু ঘরের শত্রু। আগের রাতে বেগম মুজিবের   রান্নাঘরে ঢুকে কই মাছ দিয়ে ভাত খাওয়া মোশতাক পরদিন টুপি আচকান লাগিয়ে মসনদে! বঙ্গবন্ধুর রক্ত মাড়িয়ে রাষ্ট্রক্ষমতায়। সেই বঙ্গবন্ধুর চাপে জিয়ার ঘরে ফেরত যাওয়া খালেদা মিথ্যা জন্মদিন বানায়া উৎসব করে ১৫ অগাস্ট। বিশাল বড় বড় কেক কাটে। এই অগাস্টে আমরা দেখতেছি ঘর বাইর দুইখানেই শত্রুর ব্যাপক তৎপরতা। মার্কিন রাষ্ট্রদূত খুব ব্যস্ত। তার মতোই ব্যস্ত মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তি। আর সবচেয়ে ব্যস্ত ঘরের শত্রুরা। জাতীয় নির্বাচনের এক বছর বাকি থাকতেই সরকার ফেলাইতে একই অক্ষে। সরকার দেখাইতেছে উন্নয়নের মুলা, আর এদিকে ভিটা কাটতেছে ইন্দুরে। কাউরে প্লেট ভইরা খাওয়াইয়া লাত্থি দিলে সে লাথিটাই মনে রাখে, খানা না। উন্নয়ণের জোয়ারে দেশ ভাসায়া দিয়া লাভ কি যদি জনগণ বিরূপ হয়।

যেমন ছাত্রলীগের কথাই ধরেন। দেশ যখন বিদ্যুৎ সংকটে তখন তারা সোগায় কারেন্ট নিয়া ঘুরতেছে। চোর ছিনতাইকারী রেপিস্ট ধরা খাইলে পরিচয় দেয় তারা ছাত্রলীগ! একের পর এক স্ক্যান্ডাল। বরগুনায় পুলিশের পিটা খাইলো। টোলপ্লাজায় ছিনতাই করলো মারধোর করলো। ইডেনের নেত্রীর টেলিফোনের অডিও ফাঁস হইলো। রাজশাহী, জগন্নাথ, জাহাঙ্গীরনগর, ঢাকা, চট্টগ্রাম সবখানে ছাত্রলীগ নেতাদের নামে গুরুতর অভিযোগ আসতেছে। এসব আকাম করে তারা আর এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলায় সাধারণ ছাত্রছাত্রী খেপে উঠতেছে। এদের হাতে অস্ত্র তুলে দিতেছে ছাত্রলীগের পদধারী এসব নেতার দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ।

দায়িত্বশীলদের কথাই বা কি বলবো! মুরাদ স্ক্যান্ডালে মন্ত্রীদের জন্য দারু নিষিদ্ধ হওয়ার পর কে যে কি এস্তেমাল করে বোঝা ভার। এক মন্ত্রী শোকসভায় বঙ্গবন্ধুরে জাহান্নামে পাঠাইলেন। পরে বললেন স্লিপ অব টাং। তিনি টায়ার্ড ছিলেন। আরেকজন বাংলাদেশরে বেহেস্ত বানাইয়া ক্ষান্ত হন নাই, এই দেশের সরকার ভারতের দয়ায় টিকা আছে এবং তারই দুতিয়ালিতে সেটা জানাইলেন। প্রতিবার আকথা কুকথা বলেন, তারপর দোষ দেন সাংবাদিকদের। তাদের নাকি বোঝার ভুল!

আপনার মহল্লা পররাষ্ট্র, আপনে স্বরাষ্ট্রে কি করেন? আপনার এতো বয়ান দিতে হইবো ক্যান? চুপ থাকেন। সাংবাদিকরা জিগাইলে টাইম নেন। বলেন পরে কথা বলি, বলেন প্রেস রিলিজ দিমু। আপনারে কি শেখ হাসিনা কখনও বলছে ভারতে গিয়া আমার জন্য তদবীর করেন? সেটা তো তিনি নিজেই ফোন দিয়া বলতে পারেন চাইলে, আপনারে লাগবো ক্যান? এইটা কি ভুলে গেছেন ইন্দিরা গান্ধী আমাদের পরম মিত্র হওয়ার পরও, সোভিয়েত রাশিয়ার মতো পরাশক্তি পাশে থাকার পরও ১৫ অগাস্টের ঘটনায় কেউ আঙুল নাড়ায় নাই। আকাশে রাশিয়ান মিগও উড়ে নাই, ইন্ডিয়ান আর্মিও সীমান্ত ডিঙ্গায় নাই।

অগাস্ট হইলো আওয়ামী লীগের জন্য শিক্ষার মাস। মনে রাখতে হবে ২১ অগাস্ট ছিলো ১৫ অগাস্টরে পূর্ণতা দেয়ার প্রয়াস। আবার তারা মরণকামড় দিতে দাঁতে ধার দিতেছে। সেই নীলনক্সায় ঘর বাইর দুই শত্রুই সমান তৎপর। বাঁচতে হইলে ঘরেরগুলারে আগে আমলে নিতে হবে। নিউট্রালাইজ করতে হবে। সময়ে ফোঁড় না দিলে অগাস্টে আরেকটা নতুন তারিখ জন্ম নিবে। আর সেই হামলায় অস্তিত্বই হয়তো থাকবে না। সাধু সাবধান। ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেন। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু। - লেখক ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট। ( সংগৃহীত )

 

সম্পাদক ও প্রকাশক: সরদার মোঃ শাহীন
উপদেষ্টা সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম সুজন
বার্তা সম্পাদক: ফোয়ারা ইয়াছমিন
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: আবু মুসা
সহ: সম্পাদক: মোঃ শামছুজ্জামান

প্রকাশক কর্তৃক সিমেক ফাউন্ডেশন এর পক্ষে
বিএস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড,
ওয়ারী, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ হতে প্রকাশিত।

বানিজ্যিক অফিস: ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা।
বার্তা বিভাগ: বাড়ি # ৩৩, রোড # ১৫, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা।
ফোন: ০১৯১২৫২২০১৭, ৮৮০-২-৭৯১২৯২১
Email: simecnews@gmail.com