ভবিষ্যতের শহরঃ সিঙ্গাপুর

প্রকাশের সময় : 2022-08-31 15:55:10 | প্রকাশক : Administration
ভবিষ্যতের শহরঃ সিঙ্গাপুর

জেসিউর রহমান শামীম: সিঙ্গাপুর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় মালয়েশিয়ার দক্ষিণ উপদ্বীপে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার মাঝামাঝি অবস্থিত একটি ছোট-কিন্তু সমৃদ্ধ দ্বীপ, একটি শহর ও একটি দেশ উভয়ই। যার সরকারি নাম রিপাব্ললিক অফ সিঙ্গাপুর। সিঙ্গাপুর শব্দের অর্থ সিংহের অঞ্চল যেটি এসেছে সংস্কৃত ভাষা থেকে। অপরদিকে এটিকে দ্যা লায়ন সিটি বা সিংহের শহর ও দ্যা গার্ডেন সিটি বা বাগানের শহরও বলা হয়ে থাকে। তাইতো মারলিন হলো সিঙ্গাপুরের বীরত্বের প্রতীক। কোনো প্রকার প্রাকৃতিক সম্পদ না থাকা সত্বেও শুধুমাত্র এটি এশিয়া মহাদেশে নিরক্ষীয় অঞ্চলে অবস্থিত বিধায়  বিশ্বের অন্যতম অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে উন্নত দেশে পরিণত হয়েছে। সিঙ্গাপুর ১৯৬৫ সালে  মালয়েশিয়া থেকে আলাদা  হয়ে স্বাধীন হয়। এর আগে দীর্ঘ সময় ব্রিটিশ ও জাপানের শাসনাধীন ছিল। মাত্র ১২০ টি জেলে পরিবার নিয়ে এ দেশে প্রথম মানুষের বসবাস শুরু হয়। পরবর্তীতে ব্রিটিশ শাসনামলে মালেয়েশিয়া ও এর আশপাশের অঞ্চলের চীনা ও ভারতীয় বংশোদ্ভুতরা এসে বসবাস শুরু করে।

সিঙ্গাপুরের মোট আয়তন প্রায় ৭১৯.৯ বর্গ কিমি যা প্রতিনিয়ত বেড়ে চলেছে সমুদ্র ভরাট করে মানব সৃষ্ট দ্বীপ তৈরির মাধ্যমে। এদেশের জনসংখ্যা প্রায় ৫৬ লক্ষ ৭ হাজার ৩০০। আয়তনের দিক দিয়ে এটি বিশ্বের ২০ তম ক্ষুদ্রতম দেশ। দেশটির ২০১০ সালের আদমশুমারি অনুসারে প্রায় ৭৪.১% বাসিন্দা চীনা বংশোদ্ভুত, ১৩.৪% মালয় বংশোদ্ভুত, ৯.২% ভারতীয় বংশোদ্ভুত, এবং ৩.৩% অন্যান্য (ইউরেশিয়ান সহ) বংশোদ্ভুত মানুষের বসবাসের তথ্য পাওয়া যায়।

সিঙ্গাপুরের চারটি অফিশিয়াল ভাষা রয়েছে। যার মধ্যে ইংরেজি (৮০% সাক্ষরতা), ম্যান্ডারিন চাইনিজ (৬৫% সাক্ষরতা), মালে (১% সাক্ষরতা) এবং তামিল (৮% সাক্ষরতা)। তবে সাধারণ ভাষা হিসাবে এখানে ইংরেজি প্রচলিত। ধর্মের দিক থেকে এ দেশে বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, হিন্দু ও মুসলমান দের আধিক্য দেখতে পাওয়া যায়।

সিঙ্গাপুরের সবচেয়ে বড় শহর এবং রাজধানী শহর হলো সিঙ্গাপুর। আয়তনে ছোট হলেও দেশটির অর্থনীতির ভিত বেশ মজবুত। সিঙ্গাপুর একটি বৈশ্বিক অর্থ, বাণিজ্য ও পরিবহন কেন্দ্র। এটি বিশ্বের তৃতীয়-সর্বাধিক প্রতিযোগিতামূলক দেশ, তৃতীয় বৃহত্তম বৈদেশিক মুদ্রার বাজার, তৃতীয় বৃহত্তম আর্থিক কেন্দ্র, তৃতীয় বৃহত্তম তেল পরিশোধন ও বাণিজ্য কেন্দ্র এবং এটিতে রয়েছে বিশ্বের দ্বিতীয়-ব্যস্ততম কন্টেইনার বন্দর। ২০১৫ সালের অর্থনৈতিক স্বাধীনতার সূচকে সিঙ্গাপুরকে বিশ্বের দ্বিতীয় মুক্ত অর্থনীতি হিসাবে স্থান দেওয়া হয়েছে। সরকারের আয়ের বড় একটি অংশ আসে পর্যটন ও চিকিৎসা খাত থেকে। তাছাড়াও ইলেকট্রনিক্স পণ্য ও কম্পিউটার এবং কম্পিউটার যন্ত্রাংশ তৈরিতে সিঙ্গাপুর বেশ এগিয়ে আছে।

অদ্ভুতভাবে, সিঙ্গাপুরের নিকটতম প্রতিবেশী, সুমাত্রা ও বোরেনো, বিশ্বের দুটো বন্য দ্বীপপুঞ্জ। আদিবাসী মানুষ এখনও রেইন ফরেস্টে থেকে জীবন কাটাচ্ছে। আর স্বল্প দূরত্বে সিঙ্গাপুর বিশ্বের মাথাপিছুর দিক দিয়ে সর্বোচ্চ মিলিওনেয়ারদের বসবাস। প্রতি ছয় জনের একজনের কাছে কমপক্ষে এক মিলিয়ন ডলার সম্পদ রয়েছে।

সিঙ্গাপুরের চঙ্গি বিমানবন্দর বিশ্বের সেরা বিমানবন্দর হিসাবে পরিচিত। যেমনটি সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সকে সেরা হিসাবে বিবেচনা করা হয়। চঙ্গি বিমানবন্দরে সুইমিং পুল, প্রকৃতির প্রান্ত, প্রজাপতি বাগান এবং শপিং মলের মত বিষয় গুলো দেখতে পাওয়া যায়। সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স সিঙ্গাপুরকে সারা বিশ্বে প্রায় ২০০ টিরও বেশি প্রধান বিমানবন্দরের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করেছে। তাছাড়া মালয়েশিয়া থেকে বাসে সিঙ্গাপুরে যাওয়া যায় সহজেই।

সিঙ্গাপুর পুরো দেশটি একটি স্বপ্নের দেশে। দেশটিতে দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে আছে মারলায়ন পার্ক, মেরিনা বে, সন্তুসা, ইউনিভার্সেল স্টুডিও, নাইট সাফারি, বোটানিক গার্ডেন, জুরং বার্ড পার্ক, ন্যাশনাল গ্যালারি। এশিয়ার মধ্যে ছড়িয়ে থাকা বাসের তুলনায়, সিঙ্গাপুরের বাসগুলি ভাস্কর্য দিয়ে কাজ কাজ করা, ওয়াই-ফাই, এবং ইন্টারেক্টিভ বিনোদন সিস্টেম তো আছেই।

সিঙ্গাপুর তাদের পরিষ্কার শহর এবং চমৎকার অবকাঠামো এর জন্য বিখ্যাত। এ দেশে আক্ষরিক অর্থে দুর্নীতির কোনো চিহ্নই খুঁজে পাওয়া যায় না। এখানে কিছুটা ক্ষুদ্র অপরাধের জন্যও জরিমানা গুনতে হয়। এর মধ্যে রাস্তায় ময়লা ফেলা, পাবলিক টয়লেটে ফ্লাশ করতে না পারলে, মুরগি খাওয়ার বদলে কবুতর খাওয়ালে, অথবা পাবলিক পরিবহনে খাবার ও পানীয় খাওয়া হলে বা চুইঙ্গাম খেলে জরিমানার সম্মুখীন হতে হয়। এদেশে ১৯৯২ সাল থেকে আইনত চুইঙ্গাম নিষিদ্ধ করা হয়। এখানে অনুমতি ছাড়া একে অপরকে জড়িয়ে ধরা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

সিঙ্গাপুরের ইউনিভার্সাল স্টুডিও সবচেয়ে বিখ্যাত। এখানকার অপূর্ব সৌন্দর্য যে কাউকে মুগ্ধ করে। এ ছাড়াও সিঙ্গাপুর এর প্রায় সমস্ত জায়গায় পার্ক এবং প্লে− গ্রাউন্ড দেখতে পাওয়া যায়। এ জন্যই এ শহরকে গার্ডেন সিটি নামে ডাকা হয়। সিঙ্গাপুরের বাস ও পাতালরেলসহ সব ধরনের সরকারি পরিবহনব্যবস্থা সর্বাধুনিক। বিস্ময়কর বিষয় হলো যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের তুলনায় এসব পরিবহনে যাতায়াত ও মালামাল আনানেওয়া অনেক সস্তা। অন্যদিকে, সেখানে প্রাইভেট কারের মালিক হওয়া অনেক কঠিন। কারণ, দক্ষিণ কোরিয়ায় যে গাড়িটির যত দাম, সিঙ্গাপুরে তা কিনতে গেলে তার চার গুণ টাকা খরচ করতে হয়। ব্যক্তিগত গাড়ি কম থাকায় সেখানে গণপরিবহন চলাচল সহজ হয়েছে।

সিঙ্গাপুরে কৃষি জমি অত্যন্ত সীমিত হওয়ায় তাদের খাবারের প্রায় ৯৭ ভাগ খাবারই আমদানি করা হয়। দৈনন্দিন যে পরিমান পানি লাগে তার প্রায় ৫০ ভাগ আমদানি করা হয় মালয়েশিয়া থেকে। সিঙ্গাপুরে নিজেস্ব কোনো বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা না থাকায় পুরো ১০০ ভাগ বিদ্যুত আমদানি করতে হয় পাশের দেশ থেকে।

 

সম্পাদক ও প্রকাশক: সরদার মোঃ শাহীন
উপদেষ্টা সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম সুজন
বার্তা সম্পাদক: ফোয়ারা ইয়াছমিন
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: আবু মুসা
সহ: সম্পাদক: মোঃ শামছুজ্জামান

প্রকাশক কর্তৃক সিমেক ফাউন্ডেশন এর পক্ষে
বিএস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড,
ওয়ারী, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ হতে প্রকাশিত।

বানিজ্যিক অফিস: ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা।
বার্তা বিভাগ: বাড়ি # ৩৩, রোড # ১৫, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা।
ফোন: ০১৯১২৫২২০১৭, ৮৮০-২-৭৯১২৯২১
Email: simecnews@gmail.com