বদলে যাবে উত্তরাঞ্চল; বঙ্গবন্ধু রেল সেতু

প্রকাশের সময় : 2022-10-13 15:50:26 | প্রকাশক : Administration
বদলে যাবে উত্তরাঞ্চল; বঙ্গবন্ধু রেল সেতু

পদ্মা সেতু নির্মাণের ফলে বদলে গেছে দক্ষিণাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ। খুব কম সময়ে বাসে বরিশাল থেকে ঢাকায় আসা যায়। পদ্মা সেতুর পর এবার যমুনায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেল সেতু নির্মাণে বদলে যাবে উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে ঢাকার রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা। এই সেতু নির্মাণ হলে ট্রেন চলবে ঘণ্টায় ১০০-১২০ কিলোমিটার গতিতে। ঢাকা-রাজশাহী রুটে বাড়বে ট্রেন সংখ্যা, বাড়বে যাত্রী। পণ্য পরিবহনে আসবে নতুন গতি। সময় কমবে অনেকটা।

ইতোমধ্যে সেতুর ৪৫ শতাংশ নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। চলতি মাসে পাশাপাশি তিনটি স্প্যান দৃশ্যমান হবে বলে জানিয়েছেন প্রকল্পের কর্মকর্তারা। নির্ধারিত সময়ের আগেই প্রকল্পের কাজ শেষ হবে। বাংলাদেশ রেলওয়ে দুই অঞ্চলে বিভক্ত। এই সেতু চালু হলে রেলওয়ের পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলের মধ্যে যোগাযোগের বর্তমান অবস্থা বদলে যাবে। মূলত যমুনা নদীই রেলওয়েকে দুই ভাগে বিভক্ত করেছে। বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্বাংশ থেকে ঢাকা, চট্টগ্রাম পর্যন্ত এলাকা পূর্বাঞ্চল। আর সেতুর পশ্চিমাংশ থেকে রাজশাহী, খুলনাসহ ওই অংশকে বলা হয় পশ্চিমাঞ্চল।

এই পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলে রেললাইনের ধরনও আলাদা। পূর্বাঞ্চলের রেললাইনে প্রায় সবই মিটারগেজ ট্রেন চলাচল করে। এই ট্রেনগুলো প্রস্থে তুলনামূলকভাবে ছোট। তাই রেললাইনগুলো সরু থাকে। আর পশ্চিমাঞ্চলের রেললাইনে বেশির ভাগ ব্রডগেজ। রেললাইন তুলনামূলক বড়।

বঙ্গবন্ধু সেতুতে বর্তমানে এক লাইনের রেল ট্র্যাক আছে। এই লাইন দিয়ে খুব ধীরে ট্রেন চলতে পারে। পূর্ব স্টেশন থেকে একটি ট্রেন ছাড়লে পশ্চিম স্টেশনের ট্রেনকে অপক্ষোয় থাকতে হয়। এখন বঙ্গবন্ধু রেল সেতু নামে একটি ডুয়েলগেজ রেল সেতু নির্মাণের কাজ চলছে। এই সেতুতে ব্রডগেজ ও মিটারগেজ দুই ধরনের ট্রেনই চলাচল করতে পারবে। রেললাইন থাকবে দুটি। ফলে সেতু পারাপারের জন্য ট্রেনকে অপেক্ষায় থাকতে হবে না।

বঙ্গবন্ধু রেল সেতুটি শেষ হওয়ার নির্ধারিত সময় ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে। কিন্তু প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সেতুর সার্বিক অগ্রগতি ভাল। আগামী অক্টোবর ও নভেম্বরের মধ্যে আরও স্প্যান বসানোর টার্গেট রয়েছে।

জানা গেছে, ট্রান্স এশিয়ান রেলওয়ের সাবরুট ও আঞ্চলিক রেল যোগাযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে যমুনায় বিদ্যমান বঙ্গবন্ধু সেতুর সমান্তরালে ডুয়েলগেজ ডাবল লাইনে নির্মাণ করা হচ্ছে রেল সেতুটি। বঙ্গবন্ধু সেতুতে রেল চলাচলে সমস্যার কারণে ২০১৪ সালে পরিকল্পনা নেয়া হয় রেল সেতু নির্মাণের। বঙ্গবন্ধু সেতুর ৩০০ মিটার উজানে ৪ দশমিক ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ রেল সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এর দু’ বছর পর ২০১৬ সালে একনেক সভায় অনুমোদন হয় ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেলওয়ে সেতু প্রকল্প’।

২০১৬ সালের ১ জুলাই থেকে শুরু হয়ে এই পর্যন্ত প্রকল্পের ৪৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। এই রেল সেতুটি বাস্তবায়ন হলে যাত্রী ও পণ্যবাহী ট্রেন সংখ্যা বাড়বে। নতুন সেতু দিয়ে দৈনিক ৬০ শতাংশ যাত্রীবাহী যান চলাচল বাড়ানো যাবে। রেল সেতুটির ওপর দিয়ে দৈনিক ৮৮টি ট্রেন চলাচল করতে পারবে। বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ৩৮টি ট্রেন ঘণ্টায় ২০ কিলোমিটার গতিতে বঙ্গবন্ধু সেতু পারাপার হয়। এতে অনেক সময় অপচয়ের পাশাপাশি ঘটছে সিডিউল বিপর্যয়। বাড়ছে যাত্রী ভোগান্তি। এসব সমস্যা সমাধানে সরকার যমুনা নদীর ওপর আলাদা একটি রেল সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয়।

পৃথক রেল সেতু হলে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচলে গতিবেগ বাড়বে ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার। এতে রাজশাহী থেকে ঢাকায় আসতে সময় অনেকটাই কমে আসবে। এ ছাড়া কনটেইনার ট্রেন চলবে ৮০ কিলোমিটার গতিতে। আর পণ্য পরিবহন বাড়ানো যাবে ১৬০ শতাংশ। ফলে দৈনিক মালবাহী ট্রেনে সাড়ে ৩২ টন পণ্য পরিবহন করা যাবে বলে রেলওয়ে সূত্র জানায়।

জাপানী অর্থায়নে জাপানী দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বঙ্গবন্ধু সেতুর নির্মাণ কাজ করছে। এই রেল সেতুটি চালু হলে রাজধানীর সঙ্গে দেশের পশ্চিমাঞ্চলের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও উন্নত হবে। এ ছাড়া ট্রেন শিডিউল বিপর্যয় কমাতেও এই সেতু সহায়তা করবে। সেতুটি নির্মাণ হলে বঙ্গবন্ধু সেতুর রেল লাইন তুলে নেয়া হবে। নতুন সেতুতে ডবল লাইনে ট্রেন চলাচল আরও সহজ হবে বলে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেলওয়ে সেতুটি দু’টি প্যাকেজে নির্মাণ করা হচ্ছে। দুই অংশে আলাদাভাবে নির্মাণ করছে জাপানের দু’টি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। সেতুটির পূর্ব অংশ নির্মাণ করছে যৌথভাবে জাপানের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ওবায়শি কর্পোরেশন, টিওএ কর্পোরেশন এবং জেএফই। এই অংশের জন্য ব্যয় হবে ৬ হাজার ৮০১ কোটি টাকা। জাপানের অপর ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান আইএইচআই এবং এসএমসিসির যৌথ উদ্যোগে নির্মিত হবে পশ্চিম অংশ। এই অংশের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৬ হাজার ১৪৮ কোটি টাকা। - সূত্র: অনলাইন

 

সম্পাদক ও প্রকাশক: সরদার মোঃ শাহীন
উপদেষ্টা সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম সুজন
বার্তা সম্পাদক: ফোয়ারা ইয়াছমিন
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: আবু মুসা
সহ: সম্পাদক: মোঃ শামছুজ্জামান

প্রকাশক কর্তৃক সিমেক ফাউন্ডেশন এর পক্ষে
বিএস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড,
ওয়ারী, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ হতে প্রকাশিত।

বানিজ্যিক অফিস: ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা।
বার্তা বিভাগ: বাড়ি # ৩৩, রোড # ১৫, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা।
ফোন: ০১৯১২৫২২০১৭, ৮৮০-২-৭৯১২৯২১
Email: simecnews@gmail.com