শিশুর সহবত শিক্ষা

প্রকাশের সময় : 2022-11-09 11:52:35 | প্রকাশক : Administration
শিশুর সহবত শিক্ষা

আতিফ আতাউর: শিশুর সঠিক বিকাশে পরিবারের বিকল্প নেই। পরিবার থেকেই শুরু হয় প্রতিটি শিশুর প্রাথমিক শিক্ষা। সাধারণত বড়দের দেখেই শিশুরা শেখে। ছয় মাস বয়স থেকেই চারপাশের অবস্থা সম্পর্কে শিশুদের উপলব্ধি তৈরি হয়। আর বয়স দুই পেরোনোর মধ্যেই ভালো-মন্দ সম্পর্কে বুঝতে শুরু করে। এরপর চার-পাঁচ বছর পর্যন্ত সময়টুকু প্রতিটি শিশুর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

এই সময় তাদের গড়ে ওঠার ভিত শক্তপোক্ত করা চাই। এ জন্য দরকার গুড প্যারেন্টিং। কোমলমতি শিশুরা কাদার মতো। যেভাবে তাদের গড়ে তোলা যায় সেভাবেই গড়ে ওঠে। শিশু যখন বোধবুদ্ধি অর্জন করতে শুরু করবে, তখন থেকে তাকে নিয়ম-শৃঙ্খলা, সৌন্দর্যবোধ, সংযত আচরণ, আদব-কায়দা শেখাতে হবে। শিশুদের ছোট থেকেই সহবত শেখাতে এই বয়স থেকেই চেষ্টা চালাতে হবে।

বড়দের কাজে সাহায্য করা, যেমন তাদের চশমা, পত্রিকা কিংবা লাঠি এগিয়ে দিতে উৎসাহ দিতে হবে। শিশু বুঝতে শিখলে পরিবারের অসুস্থ সদস্যকে ঔষধ খাওয়ানোর দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে। ছোট-বড় সবার সঙ্গে রেষারেষি না করে খাবার ভাগ করে খাওয়ার অভ্যাস গড়তে অনুপ্রাণিত করতে হবে। খাওয়ার সময় শব্দ না করা, অল্প অল্প করে খাবার মুখে দেওয়া, ধীরে-সুস্থে খাওয়ার ব্যাপারে অনুপ্রাণিত করতে হবে।

নিজের বিছানা, জামাকাপড় ও স্কুলের ব্যাগ গুছিয়ে রাখতে শেখাতে হবে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার প্রতি বিশেষভাবে খেয়াল রাখতে উৎসাহ দিতে হবে। পরিবারের সদস্যদের যেমন মা, বাবা, দাদা, দাদি, ছোট ভাই-বোনকে সাহায্য করতে উৎসাহ দিতে হবে। বাড়িতে মেহমান এলে তাকে সালাম দেওয়া, বসতে দেওয়াসহ তার খাতির-যতেœ অংশ নেওয়ার সুযোগ করে দিতে হবে। বাড়ির কাজের লোকের প্রতি সুন্দর আচরণ করা শেখাতে হবে। বাড়ির বাইরে পাড়া-প্রতিবেশী ও প্রবীণ সদস্যদের সাহায্য করা, পাড়ার ছেলেদের সঙ্গে ঝগড়া, মারামারি না করে মিলেমিশে খেলাধুলা করার উৎসাহ দিতে হবে। শিক্ষকদের মান্য করা, তাঁদের আদেশ পালন করতে পরিবার থেকেই উৎসাহ দিতে হবে। শিশুদের ছোট থেকেই পারিবারিক, সামাজিক  নানা অনুষ্ঠানে নিয়ে যেতে হবে। সেখানকার পরিবেশ ও করণীয় সম্পর্কে ধারণা দিতে হবে।

ছুটির দিনে শিশুকে খেলার মাঠ, পার্ক, জাদুঘর, শহীদ মিনার, চিড়িয়াখানা, ঐতিহাসিক ও দর্শনীয় নানা স্থানে বেড়াতে নিয়ে যেতে হবে। এসব জায়গা ও স্থান সম্পর্কে তাকে ধারণা দিতে হবে। বাদামের খোসা, পানির বোতল, কলার খোসা বা অন্য উচ্ছিষ্ট যত্রতত্র না ফেলার শিক্ষা দিতে হবে। কারো কাছ থেকে সাহায্য পেলে তাকে ধন্যবাদ জানাতে হবে।

কেউ কথা বললে আগে মনোযোগ দিয়ে শুনতে হবে। পরে বলতে উৎসাহ দিতে হবে। শিশু কোনো ভালো কাজ করলে তার স্বীকৃতি দিতে হবে। শিশুকে ধন্যবাদ দিতে হবে। পুরস্কৃত করা যেতে পারে। ভুল হলে সেটা স্বীকার করে নিতে শেখানোও জরুরি। সহমর্মিতা শেখান। ছোট থেকে অন্যের জন্য ভাবতে শিখলে চারিত্রিক পূর্ণতা সৃষ্টি হয়। 

পিঠ সোজা করে হাঁটতে শেখান। পড়ার সময় পা দোলানো বা নাচানোর অভ্যাস যেন না হয়। বয়স্কদের সাহায্য করতে শেখান। বসার সময় পা জুড়ে বসার অভ্যস করান। ফাঁক বা তুলে বসা অভদ্রতা, এটা ওকে জানিয়ে দিন। শিশু বয়স থেকেই ছোটদের মধ্যে সহবত শিক্ষা দেওয়াটা জরুরি। না হলে তার আচরণের কারণে যেকোনো সময় অস্বস্তিতে পড়তে হতে পারে অভিভাবককে।

শিশুর আদবকেতা ও সহবত বিষয়ে আরও জানতে চাইলে ঘুরে আসতে পারেন বিনা তারের পাঠশালার লিংকে। - কালের কন্ঠ

 

সম্পাদক ও প্রকাশক: সরদার মোঃ শাহীন
উপদেষ্টা সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম সুজন
বার্তা সম্পাদক: ফোয়ারা ইয়াছমিন
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: আবু মুসা
সহ: সম্পাদক: মোঃ শামছুজ্জামান

প্রকাশক কর্তৃক সিমেক ফাউন্ডেশন এর পক্ষে
বিএস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড,
ওয়ারী, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ হতে প্রকাশিত।

বানিজ্যিক অফিস: ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা।
বার্তা বিভাগ: বাড়ি # ৩৩, রোড # ১৫, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা।
ফোন: ০১৯১২৫২২০১৭, ৮৮০-২-৭৯১২৯২১
Email: simecnews@gmail.com