আজকালকার প্রেম

প্রকাশের সময় : 2023-10-25 12:56:28 | প্রকাশক :
আজকালকার প্রেম

শেখ সজীব আহমেদ: মৌ নামের এক মেয়েকে প্রাইভেট পড়ানো শুরু করলাম। নবম শ্রেণিতে পড়ে সে। প্রথমে আমার ইচ্ছে ছিল না প্রাইভেট পড়ানোর। তার মায়ের অনুরোধেই পড়ানো শুরু করি। মৌকে সন্ধ্যা গড়িয়ে রাতে পড়াতে হয়, বিকেলবেলায় পড়ানোর আমার সময় নেই।

কারণ সকাল আটটা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত আমি সিঙ্গাপুর যাওয়ার জন্যে সুবচনি বাজারের সামনে সিঙ্গাপুর স্কিল ট্রেনিং সেন্টারে ট্রেনিং নিচ্ছি।

মৌকে পড়াতে পড়াতে একমাস হয়ে গেল। সন্ধ্যার সময় পড়াতে গিয়ে দেখি মৌদের গেট বন্ধ। এ সময় সাধারণত ওদের গেট খোলাই থাকে। কি জানি! আজ হয়তো পড়বে না। আমি তার নাম ধরে ডাক দিলাম। কেউ সাড়া দিল না। কিছু হলো কি না-চিন্তায় পড়ে গেলাম। কিছু একটা হয়েছে নিশ্চয়ই!

আবার ডাক দিতেই মৌয়ের মা বেরিয়ে আসেন। এসেই তেড়েফুড়ে ওঠেন। বলেন যে, আমাকে আর পড়াতে আসতে হবে না। আমি নাকি মৌকে বিয়ে করতে চাই! বিয়ের প্রস্তাব পাঠিয়েছি তার দাদি আর ফুফুর কাছে!

এমন আজব কথা শুনে আমার মন খারাপ হয়ে গেল। মৌয়ের মায়ের কথার কোনো জবাব না দিয়ে আমি চলে যাই মৌয়ের দাদি ও ফুফুর কাছে-সত্যি তারা এসব কথা বলছে কি না, তা জানতে।

স্বীকার করলেন যে এ কথা তাঁরা বলেছেন। আমি অবাক হয়ে বললাম, ‘আপনারা এসব কি বলছেন? ভুলেও আর এসব বলবেন না। আমি

মৌরে ছোটবোনের মতো জানি।’

পরের দিন আমি ট্রেনিং সেন্টারে চলে আসি। সেদিনই সেমিফাইনাল পরীক্ষা দিতে হবে। ভালো করতে পারলেই ফাইনাল পরীক্ষা দিতে পারব। আমার প্রতিদ্বন্দ্বী মাত্র একজন। ফাইনাল পরীক্ষার কোটাও এবার একটি। যে ভালো করবে, সেই ফাইনাল পরীক্ষা দিতে পারবে। আমার প্রায় দেড় বছর চলছে। পরীক্ষা দেওয়ার কোনো সুযোগই পাইনি, আজ পেয়েছি। সকালবেলায় থিওরি পরীক্ষা দিলাম। তারপর দুপুর দুটোয় প্রজেক্টের কাজ শুরু করলাম। আমার শুধু মৌয়ের মায়ের কথাগুলো মনে পড়ছে। কাজের শুরুতেই ভুল করে ফেললাম। ফাইনাল দিতে না পারলে মা-বাবার কাছে কি জবাব দেব? নিজেই নিজের হাতের আঙুল কেটে বাড়িতে চলে আসতে থাকি।

ঘরের ভিতর ঢুকে দেখি, মা মাগরিবের নামাজ পড়ে দোয়া করছেন আমার জন্য, যাতে আমার পরীক্ষাটা ভালো হয়। মায়ের দোয়ার শেষে আমার হাতের দিকে তাকালেন। গায়ের জামা ছিঁড়ে হাত বেঁধে রেখেছি। মা হাতের দিকে তাকিয়ে অবাক হলেন।

আমি বললাম, ‘মা, আমার পরীক্ষা খুব ভালো হয়েছে, কিন্তু আঙুলটা একটুখানি কেটে গেছে বলে ফাইনাল পরীক্ষা এবারও দিতে পারব না।’

মা তেমন কিছু আমাকে বললেন না। আমি বেরিয়ে পড়লাম। মৌয়ের মায়ের কথাগুলো এখনো মাথায় চাপ দিচ্ছে। এদিকে পরীক্ষাও খারাপ হলো। পথে মতিনের সঙ্গে দেখা। মতিন হচ্ছে পাশের এলাকার ছেলে। মৌকে সে ভালোবাসে। মৌকে দেখলেই তার দিকে শুধু চেয়ে থাকে। মৌ একদিন আমার কাছে পড়ার সময় মতিনের নামে বিচার দিয়েছিল। আমি আর যতন মিলে মতিনকে ধরে কঠোরভাবে শাসনও করে দিলাম, যাতে মৌকে আর ডিস্টার্ব না করে। এরপর মতিন তার চাচাতো ভাইকে দিয়ে আমাকে মারবে বলে শাসিয়ে গেল।

আমিও ঠিক করি মতিন এবং তার বন্ধুকে আচ্ছা ধোলাই দেব। কারণ, আমি বুঝতে পারছি মৌয়ের মা কেন আমাকে ওসব অপমানজনক কথা বলেছেন। এটা মতিনের কারসাজি। মতিনই বলে বেড়িয়েছে, আমি নাকি মৌকে বিয়ে করতে চাই। অবশেষে যতন এসে আমার আর মতিনের মধ্যে ঝামেলা মিটমাট করে দেয়।

একদিন শুনতে পেলাম আমার কাছের বন্ধু যতনও নাকি মৌকে ভালোবাসে! কিন্তু মৌ যতনকে ভালোবাসে না। তারও বেশকিছুদিন পর হঠাৎ জানতে পারি মৌ অন্য কাউকে ভালোবাসে। আমাদের গ্রামে বেড়াতে আসা স্বপনকে। শুনে আমার মনটি কেমন জানি হয়ে গেল! আমি কি মৌয়ের প্রতি ক্রমশ দুর্বল হয়ে যাচ্ছি?

রাতের দিকে আমার এক চাচির ঘরের ভেতর দেখতে পেলাম তাদের দুজনকে। বেশ গল্প আড্ডায় মেতে উঠেছে তারা। আমার মনটা যেন ভেঙে চুরমার হয়ে গেল। আমার কেন এত খারাপ লাগল! আমি তো মৌকে অন্য চোখে দেখি! মৌ যাকে ইচ্ছে বিয়ে করুক, প্রেম করুক আমার কি? কিন্তু তারপরও আমার দুচোখ দিয়ে জল ঝরতে থাকে। বুক ফেটে কান্নাও আসতে থাকে। নিজেকে বারবার সান্ত্বনা দিলাম আমি তো মৌকে ভালোবাসি না। আমার কেন কান্না আসবে?

কিছুদিন পর শুনলাম, মৌয়ের সঙ্গে স্বপনের সম্পর্ক ভেঙে গেছে। স্বপনের জাঁদরেল দুলাভাই জেনে গিয়ে স্বপনকে শাসিয়ে নিয়ে গেছে বাড়িতে। এখন মৌয়ের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই, কোনো কথাবার্তা হয় না।

অবশেষে যতন মৌয়ের খুব কাছাকাছি আসতে লাগলো। মৌয়ের নতুন প্রেম শুরু হলো। আমার এখন কোনো খারাপ লাগে না। নিজের মনটাকে সামলিয়ে নিয়েছি। যতন যেহেতু আমার বন্ধু, তাই এসব নিয়ে আমার কোন মাথা ব্যথা নেই। যতনের সঙ্গে সম্পর্ক হয়েছে এতে বরং আমি খুশি হয়েছি। কিন্তু হঠাৎ একদিন আমার বন্ধু যতন বলল, তুই কি মৌকে ভালোবাসিস! এবার আমি অনেক কষ্টে নিজেকে সামলে নিলাম। আমি ওর প্রিয় বন্ধু। ভালোবাসলেও আমি স্বীকার করবো না কখনো।

কিন্তু আমি যতনের বুকে হাত দিয়ে বললাম, ‘যা শোনছস সব মিছা। আমি মৌকে কখনোই ভালোবাসি না। ছোটবোনের মত দেখেছি ওকে। তুই মৌকে বিয়ে করে ফেল। আমারে ভুল বুঝিস না।’

অবশেষে তারা বিয়ে করে ফেলল।

কিন্তু আমার বুকের ভেতরটা আবার হুহু করতে শুরু করল। কেমন কেমন করতে লাগল আমার পাগল মন! বড় প্রেম কি আমাকে দূরে ঠেলে দিলো? আজও বুঝে উঠতে পারিনি। - সংগৃহিত

 

সম্পাদক ও প্রকাশক: সরদার মোঃ শাহীন
উপদেষ্টা সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম সুজন
বার্তা সম্পাদক: ফোয়ারা ইয়াছমিন
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: আবু মুসা
সহ: সম্পাদক: মোঃ শামছুজ্জামান

প্রকাশক কর্তৃক সিমেক ফাউন্ডেশন এর পক্ষে
বিএস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড,
ওয়ারী, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ হতে প্রকাশিত।

বানিজ্যিক অফিস: ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা।
বার্তা বিভাগ: বাড়ি # ৩৩, রোড # ১৫, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা।
ফোন: ০১৮৯৬০৫৭৯৯৯
Email: simecnews@gmail.com