বেকারত্ব হতাশা শিক্ষা

প্রকাশের সময় : 2023-12-20 17:10:26 | প্রকাশক :
বেকারত্ব হতাশা শিক্ষা

মোঃ জিল্লুর রহমান: উচ্চ শিক্ষিত যুবকদের একটি বড় অংশ এখন বেকার। লেখাপড়া শেষে তারা চাকরির জন্য বছরের পর বছর অপেক্ষা করে। কিন্তু কাঙ্খিত চাকরি খুঁজে পায় না। ফলে তারা চরম বিষন্নতায় ডুবে যায়। সর্বশেষ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২২ লেবার ফোর্স সার্ভে ডেটা দেখায়,      ২০২২ সালের পরে স্নাতক (পাস) ডিগ্রিসহ শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা ছিল প্রায় ৮,০০,০০০।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ডিগ্রিধারী উচ্চ শিক্ষিত ব্যক্তিদের মধ্যে বেকারত্বের হার এখন ১২ শতাংশ। ২০১৬ -১৭ উচ্চ শিক্ষিতদের মধ্যে বেকারত্বের হার ছিল ১১.২ শতাংশ, যার মানে উচ্চ শিক্ষিতদের মধ্যে বেকারত্বের হার অতীতের তুলনায় বেড়েছে। সর্বশেষ পরিসংখ্যান ব্যুরো ২০২৩ সালের এপ্রিল-জুন ত্রৈমাসিক শ্রমশক্তি জরিপ বলছে যে প্রায় ৭৩.৩ মিলিয়ন লোক শ্রমশক্তিতে নিযুক্ত। ৭০.৭ মিলিয়ন লোক কর্মশক্তিতে নিযুক্ত রয়েছে, তাদের মধ্যে প্রায় ৪৬.৫ মিলিয়ন পুরুষ ও ২৪.২ মিলিয়ন নারী।

২০২২ সালে একজন যুবক ‘ভাতের জন্য শিক্ষা দেওয়ার বিজ্ঞাপন’দেওয়ার পরে কোভিড প্রাদুর্ভাবের পরিপ্রেক্ষিতে কর্মসংস্থান পরিস্থিতি কতোটা ভয়াবহ হয়ে উঠেছে তার একটি ভয়াবহ চিত্র হিসাবে এসেছিল। আসলে কর্মহীনতা ও হতাশা যে কত বড় সংকট তৈরি করতে পারে, তা ফুটে উঠেছে যুবকের ‘ধানের জন্য শিক্ষা’বিজ্ঞাপনে।

প্রকৃতপক্ষে যুবকরা তাদের পড়াশোনা শেষ করতে ২৮ বছর বয়সে পৌঁছায়। তারা ৩০ বছর বয়সের মধ্যে একটি বা দুটি সিভিল সার্ভিস গ্রহণের জন্য আবেদন করতে পারে। কিন্তু প্রাদুর্ভাবের মধ্যে চাকরির পরীক্ষা স্থগিত করা বয়স শেষ হওয়ার উদ্বেগ বেকারদের চরম হতাশাগ্রস্ত করে তোলে।

কোভিড-পরবর্তী পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও একই দিনে চার থেকে পাঁচটি লিখিত পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণ করা হয়, তারা সকাল ও বিকেলে দুটি পরীক্ষা দেন। প্রায়ই দু-একটি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে বেকারত্বের এই করুণ অবস্থা তাদের চরম হতাশার মধ্যে নিমজ্জিত করে। তরুণ চাকরিপ্রার্থীরা বলছেন বয়সসীমার কারণে তারা যে আশায় বাঁচতে চেয়েছিলেন তা সম্ভব হচ্ছে না। তারা ভবিষ্যতে পড়াশোনা করবে। এমনটা হলে অন্যটা হবে না। এমন সব কারণেই অনেক তরুণী হতাশায় ভুগছিলেন।

প্রকৃতপক্ষে যদিও এটি দুঃখজনক, শিক্ষার মান নিশ্চিত করা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে একটি। দেশের উন্নয়ন উন্নত সমাজ গড়তে বিশ্বমানের গ্রাজুয়েট তৈরি করতে শিক্ষা     প্রতিষ্ঠানের গুণগত মান, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মান ছাড়া     উচ্চশিক্ষা মূল্যহীন। অতএব নিশ্চিত করতে হবে যে উচ্চশিক্ষা সার্টিফিকেটের জন্য নয়। শিক্ষার নামে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা চলবে না।

শতাধিক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। বিশেষ করে উচ্চশিক্ষার প্রসারে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগকারীদের এই উদ্যোগ প্রশংসনীয়। উদ্যোগের ফলে তরুণ শিক্ষার্থীরা আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার সুযোগ পায়। তবে আমরা চাই না প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো দাতব্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে চলুক। একইভাবে আবারও আমরা শিক্ষাকে পণ্য মনে করে শিক্ষার নামে বিশ্ববিদ্যালয়কে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে চাই না। অভিভাবকদের অনেক কষ্ট হয়  তারা এমনকি তাদের যা আছে তা খরচ করে শিশুদের বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠায় যাতে তারা ভবিষ্যতে ভালভাবে বাঁচতে পারে, তাদের সন্তানরা মর্যাদার সঙ্গে বাঁচতে পারে ও আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারে।

কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তাদের স্বপ্ন অধরা থেকে যায়। আজকের তরুণরা নানা স্বপ্নের পেছনে ছুটে কাঙ্খিত কিছু অর্জন করতে চায়। তাদের বেশির ভাগেরই লেখাপড়ার পর ভালো চাকরি আছে, অনেকেরই সুন্দর জীবন আছে, কোনো বাধা পেলে চরম বিষণ্নতায় ডুবে যায়। অস্বীকার করার উপায় নেই যে কোভিড-পরবর্তী বেকারত্ব আরও প্রকট হয়ে উঠেছে। তরুণীরা কাঙ্খিত কর্মসংস্থান খুঁজে পাচ্ছেন না হতাশা তাদের গ্রাস করছে। এ থেকে বেরিয়ে আসতে হবে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। তবেই তরুণদের মধ্যে কর্মহীনতা দূর হবে। - (সংকলিত), লেখক: ব্যাংকার ও কলাম লেখক। সূত্র: নিউএজ। অনুবাদ : মিরাজুল মারুফ

 

সম্পাদক ও প্রকাশক: সরদার মোঃ শাহীন
উপদেষ্টা সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম সুজন
বার্তা সম্পাদক: ফোয়ারা ইয়াছমিন
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: আবু মুসা
সহ: সম্পাদক: মোঃ শামছুজ্জামান

প্রকাশক কর্তৃক সিমেক ফাউন্ডেশন এর পক্ষে
বিএস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড,
ওয়ারী, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ হতে প্রকাশিত।

বানিজ্যিক অফিস: ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা।
বার্তা বিভাগ: বাড়ি # ৩৩, রোড # ১৫, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা।
ফোন: ০১৮৯৬০৫৭৯৯৯
Email: simecnews@gmail.com