ঢাকা থেকে কলকাতা জাহাজে

প্রকাশের সময় : 2019-04-11 17:34:22 | প্রকাশক : Administration
ঢাকা থেকে কলকাতা জাহাজে

সিমেক ডেস্কঃ উড়োজাহাজে, ট্রেনে বা বাসে চড়ে হরহামেশাই আসা-যাওয়া করা যায় ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায়। কিন্তু নৌপথে পণ্য পরিবহন চললেও সাধারণ যাত্রীদের প্রতিবেশী দেশটিতে চলাচলের সুযোগ ছিল না। এবার নৌপথের সেই বাধা দূর হয়েছে। পরীক্ষামূলকভাবে ঢাকা-কলকাতা-ঢাকা রুটে চালু হয়েছে নৌযান যাত্রীসেবা। রাতে ঢাকা ছাড়বে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশনের জাহাজ এমভি মধুমতি। একইভাবে কলকাতা নৌবন্দর থেকে বাংলাদেশের দিকে রওনা হবে ভারতীয় একটি নৌযান।

বিআইডব্লিউটিসি জানিয়েছে, বাংলাদেশ-ভারত নৌপ্রটোকল চুক্তির আওতায় পর্যটকদের যাতায়াতের সুবিধার্থে এই সেবা চালু করা হয়েছে। পরীক্ষামূলকভাবে সফল হলে ঢাকা থেকে কলকাতায় নিয়মিতভাবে নৌযান চলবে। রুটটির পরিধি বাড়িয়ে উত্তর ভারতের আসামের গুয়াহাটি নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। এ জন্য পরীক্ষামূলকভাবে সুন্দরবন, বরিশাল, চাঁদপুরের মতো আকর্ষণীয় এলাকার ওপর দিয়ে নৌযানগুলো ঘুরে যাবে।

রাত নয়টায় ঢাকার পাগলা মেরি এন্ডারসন জেটি থেকে এমভি মধুমতি জাহাজটি ছেড়ে যায়। জাহাজটি বরিশাল, বাগেরহাটের মোংলা, সুন্দরবন, খুলনার আন্টিহারা- ভারতের হলদিয়া রুট হয়ে কলকাতায় যায়। বাংলাদেশ-ভারত নৌপ্রটোকল চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ -ভারত ভ্রমণে ইচ্ছুক পর্যটকদের যাতায়াতের সুবিধার্থে বিআইডব্লি−উটিসির নিজস্ব অত্যাধুনিক নৌযান দিয়ে সরকারি নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে পরীক্ষামূলকভাবে ঢাকা-কলকাতা যাত্রীবাহী সার্ভিস চালু করেছে।

এমভি মধুমতিতে যাত্রী ধারণক্ষমতা প্রায় ছয়’শ। এর মধ্যে কেবিনগুলোতে ১৩০ জন যাত্রী ভ্রমণ করতে পারবেন। কেবিন ভাড়া ফ্যামিলি স্যুট (দুজন) ১৫০০০ টাকা, প্রথম শ্রেণি (যাত্রীপ্রতি) পাঁচ হাজার টাকা, ডিলাক্স শ্রেণি (দুজন) ১০ হাজার টাকা, ইকোনমি চেয়ার প্রতিটি দুই হাজার টাকা এবং সুলভ ও ডিলাক্স শ্রেণির যাত্রীপ্রতি ভাড়া রাখা হবে দেড় হাজার টাকা। জাহাজে প্রাতরাশ, মধ্যাহ্নভোজ, বিকেলের নাশতা, রাতের খাবারের ব্যবস্থা থাকবে। তবে এসব খাবার যাত্রীদের কিনে খেতে হবে। এ ছাড়া ভিসাও যাত্রীদের নিজেদের উদ্যোগে নিতে হবে। ভিসায় কোন পথে যাত্রীরা যাবেন এবং কলকাতা হয়ে ফেরত আসবেন সে বিষয় উল্লেখ থাকতে হবে।

ঢাকা থেকে রাত নয়টায় রওনা দিয়ে চাঁদপুর হয়ে পরদিন ভোরবেলা বরিশালে যাত্রা বিরতি করবে এমভি মধুমতি। সেখান থেকে বাগেরহাটের মোংলায় কিছু সময় থামবে জাহাজটি। বাগেরহাট থেকে সুন্দরবনের ভেতরে যাবে এটি। সুন্দরবন ঘুরে মধুমতি জাহাজটি খুলনার কয়রার আন্টিহারার দিকে যাবে। সেখানে যাত্রীদের ইমিগ্রেশনের যাবতীয় কাজ সম্পন্ন করা হবে। আন্টিহারা হয়ে সাতক্ষীরার শ্যামনগর দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের হলদিয়ায় যাবে। হলদিয়া থেকে সরাসরি কলকাতা চলে যাবে মধুমতি। সবশেষ গন্তব্য কলকাতা নৌবন্দরে পৌঁছাবে পরের দিন দুপুর ১২টার দিকে। কলকাতায় থেকে পরদিন ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেবে এমভি মধুমতি।

একইভাবে ভারতের সময় রাত নয়টার দিকে ভারতীয় একটি নৌযান বাংলাদেশের দিকে আসবে। ভারতের একটি নৌযান বাংলাদেশে যাত্রী নিয়ে আসবে। ১৭ দিন ঘুরে নৌযানটি বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের নৌপথ পাড়ি দেবে। নৌযানটি হলদিয়া দিয়ে ইমিগ্রেশনের কার্যক্রম সম্পন্ন করে বাংলাদেশে আসবে। বাংলাদেশে সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাটের মোংলা হয়ে পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি আসবে ভারতীয় এই নৌযান। এর পর বরিশাল, চাঁদপুর, নারায়ণগঞ্জের ওপর দিয়ে ঢাকায় আসবে। ঢাকা থেকে ভারতীয় নৌযানটি সিরাজগঞ্জ দিয়ে কুড়িগ্রাম দিয়ে আবার ভারতের আসামের দিকে চলে যাবে।

পরীক্ষামূলক যাত্রা সফল হলে বাণিজ্যিকভাবে ঢাকা-কলকাতা রুটে নৌযান চালানো হবে বলে জানান বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান প্রণয় কান্তি বিশ্বাস।

 

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ সরদার মোঃ শাহীন,
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ রফিকুল ইসলাম সুজন,
বার্তা সম্পাদকঃ ফোয়ারা ইয়াছমিন,
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ আবু মুসা,
সহঃ সম্পাদকঃ মোঃ শামছুজ্জামান

প্রকাশক কর্তৃক সিমেক ফাউন্ডেশন এর পক্ষে
বিএস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড,
ওয়ারী, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ হতে প্রকাশিত।

বানিজ্যিক অফিসঃ ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২,
উত্তরা, ঢাকা,
ফোন: ০১৯১২৫২২০১৭, ৮৮০-২-৭৯১২৯২১
Email: simecnews@gmail.com