করোনা দিনের ডায়েরি...

২২ তম পর্ব

ইঞ্জিঃ সরদার মোঃ শাহীন

 

রোজা আসছে, রোজা আসছে বলতে বলতে রোজা কেবল আসেইনি; শেষও হয়ে গেল। পুরো একটি মাস আমাদের সাথে থেকেই শেষ হলো। তবুও শেষ হলো না মরার করোনা! অধিকাংশ জায়গায় ফাজিল করোনা দুর্বল হয়েছে বটে, কিন্তু পুরোপুরি শেষ হয়নি। তবে হবে। হবার লক্ষণও দেখা যাচ্ছে। বিদেশে আশাপ্রদ উন্নতি হচ্ছে পরিস্থিতির। ঔষধ কিংবা টিকা বেরুবার আশার বাণী আসছে প্রচুর। মানুষের হাতেও এসে যাবে তাড়াতাড়ি।

মানব যদি দানব না হয়, তাহলে টিকা হাতে পেয়ে মানুষ বাণিজ্যে নামবে না। মানুষ বাঁচাবার লক্ষ্যে খুব তাড়াতাড়ি প্রয়োগ করবে শরীরে। কিন্তু ততদিনে পুরো পৃথিবীর কর্মহীন মানুষ নিঃশেষ হয়ে যাবে। দিনে দিনে সম্বল ফুরিয়ে আসছে। খাদ্যভাব প্রকট হচ্ছে। বিশ্ব অর্থনীতি পড়ছে কঠিন মন্দায়। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, করোনায় মানুষের মৃত্যুঝুঁকির চেয়ে খাদ্যভাবে মৃত্যুঝুঁকি অনেক বেশি। করোনা শেষ হবার আগে আমাদের আর কত কিছু শেষ করে দিয়ে যায় কে জানে! করোনা একদিন শেষ হবে বটে। কিন্তু রেখে যাবে কঠিন ধ্বংসলীলা।

বিষয়টি সিমেক গ্রুপ শুরুতেই টের পেয়েছিল। এবং জোর দিয়েছিল সকল কর্মীর সকল সময় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে থাকার এবং যতটুকু সম্ভব ঘরে বসে কাজ করার। সিমেক গ্রুপের “ওয়ার্ক ফ্রম হোম” শুরু হয় সরকারি ছুটি শুরু হবার দিন পাঁচেক আগে থেকেই। করোনা অচলাবস্থাকে সরকার বলেছে ছুটি। লকডাউন বলেনি। কিন্তু দেশের মানুষ ছুটি শব্দটি নেয়নি। ছুটি শব্দটা বাংলা বাংলা লাগছিল সবার কাছে। তাই গ্রহন করেনি। করেছে লকডাউনকে। লকডাউনের মাঝে একটা বিদেশি বিদেশি ভাব আছে।

বাঙালী জনমভর এই বিদেশি ঢংয়ের উপরই ছুটেছে। কিছু একটা বিদেশি হলেই হলো। হামলে পড়ে লুফে নিয়েছে। বিদেশি বলতে কথা! স্বয়ং মানুষটাই যদি বিদেশি হয়, তাহলে তার সাথে মিশে জাতে ওঠার চেষ্টা করেছে। বিদেশি ভাষা কিংবা পোশাক। পেলেই হলো। স্বজাতির ভাষা এবং পোশাককে বুড়ো আঙুল দিয়ে বিদায় করেছে। করেছে বিদেশিদের আলিঙ্গন। নিয়েছে বিদেশিদের ভাবসাব।

করোনার শুরুতে ভাব ছিল সিমেকের ডাইরেক্টর-এডমিন ফোয়ারার। পুতুপুতু ভাব। কল দিয়ে বুঝলাম করোনার আগমনে তার দম যায় যায় করছে। কথা শুনে বুঝলাম, দম শেষ করার পেছনে পুরো ভূমিকা আর্কিটেক্ট ঈশানার। কিন্তু বুঝতে দিলাম না। শুধু অভয় দিলাম এবং তড়িৎ সিদ্ধান্ত নিলাম “ওয়ার্ক ফ্রম হোম” প্রোগ্রামের। এডমিনের তানিয়াকে বলা হলো লকডাউন পরিস্থিতি মোকাবেলা করার সকল ব্যবস্থা নিতে। তানিয়া তড়িৎকর্মা পটু মেয়ে। বলার আগেই বুঝে ফেললো।

এবং সাথে সাথেই নেমে পড়লো। এডমিনের নাঈমাসহ প্রতিটি ডিপার্টমেন্টের এইচআর ইনচার্জকে নিয়ে একটা সেন্ট্রাল ওয়ার্কিং প্যানেল করা হলো। তৌকির, নাসরিনসহ সবাইকে নিয়ে করা হলো। ইনক্লুড করা হলো মিডিয়ার তাপিতাকেও। সবাই মিলে এক্সিলেন্ট ওয়ার্ক শুরু করলো। প্রথমেই ম্যাসেঞ্জারে সিমেক গ্রুপের সবাইকে একটা কমন প্লাটফর্মে আনা হলো। তড়িৎ গতিতেই সব করা হলো। গাইগুই মার্কা, অলস এবং অতীব পন্ডিত প্রকৃতির তেদর ছাড়া বাকী সবাই খুবই পজিটিভ রেসপন্স করলো।

রেসপন্স করতে দেরী করা তেদরদের গুতানো শুরু করলো ওয়ার্কিং প্যানেল। রামগুতা যাকে বলে। করোনার গুতার চেয়ে ওই গুতার ধার বেশি। গুতার চোটে লেটকি মেরে বসে থাকা বিটলাগুলোও রেসপন্সিভ হলো। ভেটকি দিয়ে একটিভ হলো গ্রুপ ম্যাসেঞ্জার এ। কেবল একটিভ হলো না ব্র্যান্ডিং আপু। কোথায় যেন হাওয়া হয়ে গেল। ব্র্যান্ডিং আপু সিনথিকে কোথায়ও পাওয়া যাচ্ছে না। না অনলাইনে; না অফ লাইনে। আশা এবং সনিও খুঁজে পাচ্ছে না।

শেষমেষ হারিকেনের হেল্প নেয়া হলো এবং অবশেষে পাওয়া গেল। হারিকেন দিয়ে খোঁজার কারণেই পাওয়া গেল। শুরু হলো সিনথির নেতৃত্বে নানা পরিকল্পনার বাস্তবায়ন। শুরু হলো বিরতিহীন যাত্রা। গেল দু’টো মাস একটানা খেটে গেল মেয়ে তিনটে। শুক্রবারেও বসে থাকেনি। কষ্ট করেছে প্রতিটি দিন। তবে কষ্ট হলেও একটিবারের জন্যেও মুখ ফুটে কিছু বলেনি। যা বলার মনে মনে বলেছে। মুখে হাসি রেখে মনে মনে কষে গালি দিয়েছে আমাকে।   

আমি হলাম গালি খাবার উত্তম আধার। মোটামুটি গালি আমায় সবাই দেয়। কালচারাল গ্রুপও দিয়েছে। কালচারাল গ্রুপের সবাই রোজা রেখে প্রতিদিন নিজেদেরকে ক্যামেরায় শ্যুট করেছে আর গালি দিয়েছে। পৃথিবীতে এই প্রথম কেউ  নেচে নেচে কিংবা গেয়ে গেয়ে অন্যকে গালি দিল। বেশি দিয়েছে মিডিয়া আপু তাপিতাকে। তাপিতার জ্বালায় ওরা বাধ্য হয়েছে রোজ রোজ রেকর্ডিং করতে। ইফতারের আগে শ্যুটিং, সেহরীর পরে শ্যুটিং। তবে করেছে দারুণ। অভাবনীয় রকমের সুন্দর করেছে। ওদের চমৎকার বিনোদনে নিত্যদিন বিনোদিত হয়েছে সিমেক গ্রুপের সবাই। আর মিলেমিশে অনলাইনে থেকেছে একসাথে।

সিমেক গ্রুপের এডমিন, ব্র্যান্ডিং এবং মিডিয়ার এমনি তৎপরতায় সিমেকের কাউকেই সরাতে পারেনি করোনা। থামাতেও পারেনি। যেমনি পারেনি কানাডার প্রকৃতিকেও। শীত কমতে থাকায় করোনাও কমতে শুরু করেছে। কানাডার প্রকৃতি হেসে ওঠেছে নতুন করে। ঝরাপাতার ডালে সবুজ পাতার কলি ফুটেছে। কলি ফুটেছে চেরী গাছের ডালেও। শীতপ্রধান দেশটি সবুজে ভরে উঠছে।  অদ্ভুত সুন্দর লাগছে দেখতে। অদ্ভুত সুন্দর।

এ জন্যেই মনে আমার প্রশ্ন জেগেছে। খুব সহজ প্রশ্ন। করোনার এই বেতালমার্কা তান্ডবেও যদি প্রকৃতি সুন্দর হতে পারে, সুন্দর হতে পারে গাছের সামান্য পাতা কিংবা ফুল। অথবা অসীম সাহস থাকতে পারে, মনে অঢেল আনন্দ রাখতে পারে সেই পাতা কিংবা ফুল! তাহলে মানুষ কেন পারবে না। কেন পারবে না, আবার নতুন উদ্যমে নতুন করে পথ চলতে!

মানুষ সব পারে। হাসতে হাসতে কাঁদতে পারে। কাঁদতে কাঁদতে হাসতে। মানুষ কি না পারে! কষ্টকে ভুলে আবার গা ছাড়া দিয়ে উঠতে পারে। আনন্দের ঈদকে সামনে রেখে আজ মনের সকল হতাশাকে ফেলে, দুর্ভাবনাকে ঢেলে গলা ছেড়ে গেয়ে ওঠতে পারে খুশির সেই গান, তুই পড়বি ঈদের নামাজ রে মন সেই সে ঈদগাহে! যে ময়দানে সব গাজী মুসলিম হয়েছে শহীদ!! ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ!!! চলবে...

 

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ সরদার মোঃ শাহীন,
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ রফিকুল ইসলাম সুজন,
বার্তা সম্পাদকঃ ফোয়ারা ইয়াছমিন,
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ আবু মুসা,
সহঃ সম্পাদকঃ মোঃ শামছুজ্জামান

প্রকাশক কর্তৃক সিমেক ফাউন্ডেশন এর পক্ষে
বিএস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড,
ওয়ারী, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ হতে প্রকাশিত।

বানিজ্যিক অফিসঃ ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২,
উত্তরা, ঢাকা,
ফোন: ০১৯১২৫২২০১৭, ৮৮০-২-৭৯১২৯২১
Email: simecnews@gmail.com